Image description

দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর অঞ্চলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে দলটির। এ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট। রংপুর বিভাগের ৩৩টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৬টি, তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি ২টি এবং বিএনপি ১৪টি আসনে জয় পেয়েছে। একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন। বিশেষ করে, রংপুর জেলার ছয়টি আসনের একটিতেও জিততে পারেনি বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি, জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় পরিবর্তন এনেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ায় সাংগঠনিক দুর্বলতা, অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও সমন্বয়হীনতার কারণ খুঁজে আত্মসমালোচনায় নেমেছে বিএনপি। সামনে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনকে হারানো রাজনৈতিক অবস্থান পুনরুদ্ধারের প্রথম পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন দলটির নেতারা। তাদের বিশ্বাস, এসব নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারলে জাতীয় নির্বাচনের ভরাডুবির ধাক্কা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাংগঠনিক নির্দেশনার আলোকে তৃণমূলে বিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

গত ২৫ জুলাই রাতে বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে রংপুর জেলা এবং মহানগর শাখার নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক আলোচনা সভায় মতবিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ওই বৈঠকে সাংগঠনিক পরিস্থিতি, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

ওই সভায় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ বিভাগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর আগে গত ১৮ জুলাই দলের রংপুর বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যানের বৈঠক হয়।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে বিএনপি নেতারা মনে করছেন, দলের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং সমন্বয়ের অভাব প্রত্যাশিত ফল অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিএনপি চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক নির্দেশনার পর রংপুরে দলকে নতুনভাবে ঐক্যবদ্ধ করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা ব্যক্ত করছেন নেতাকর্মীরা। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু বললেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সবাই একযোগে কাজ করছি।’

মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডনের ভাষ্য, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। তার আশা, এই ঐক্যের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আসন্ন রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হবে।

বিএনপির রংপুর জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকজন নেতা আগামীর সময়কে বলেছেন, দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনার পর বিভেদ দূর করে সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করলে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আরও ভালো ফল করবে বলে আশা করেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতে ইসলামীর জন্য জনসমর্থন ধরে রাখার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন রংপুর জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু বললেন, রংপুরের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় দলীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠনই বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।