জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে দেখা দিয়েছে ভাঙনের আভাস। জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিস আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এতে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন মেরুকরণের আলোচনা। একই সময়ে হেফাজতের নতুন উদ্যোগে ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা।
খেলাফত মজলিস বলছে, ১১ দলীয় জোট ছিল শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক। নির্বাচন শেষ হওয়ায় সেই জোটের কার্যকারিতাও শেষ হয়েছে। তাই এখন থেকে তারা জোটের কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবে না।
তবে দলটির দূরত্ব তৈরি হয়েছিল আরও আগে। গত জুনে চট্টগ্রামের একটি সমাবেশের পর খেলাফত মজলিস জানিয়ে দেয়, জোটের কোনো ব্যানার বা পোস্টারে তাদের নাম ব্যবহার করা যাবে না। পরে রংপুরের একটি সমাবেশ থেকেও তাদের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে হেফাজতে ইসলাম কওমি ঘরানার দলগুলোকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় সাতটি ইসলামী দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে দলগুলো তাদের অবস্থান জানাবে। এরপর নতুন জোট গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, খেলাফত মজলিসের পর জামায়াতের ১১ দলীয় জোটে থাকা আরও অন্তত দুটি কওমি ঘরানার দল নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করছে। তারা নতুন প্ল্যাটফর্মে যোগ দিতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ১১ দলীয় জোটে এখন কারা থাকছে? বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে—জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ এবং আরও কয়েকটি ছোট রাজনৈতিক দল।
তবে কওমি ঘরানার কয়েকটি দলের ভবিষ্যৎ অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে ৩ আগস্টের পর জোটে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবশ্য জোটে ভাঙনের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে জামায়াত। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানালেন, খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য কোনো দল জোট ছাড়ার কথা জানায়নি। কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে।
একই কথা বলেছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। তার ভাষ্য, খেলাফত মজলিস ছাড়া অন্য কোনো দল জোট ছাড়ছে—এমন তথ্য তাদের জানা নেই।