গণভোটের রায় ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন, সীমান্তে পুশইন বন্ধ করা এবং জনগণের নিত্যদিনের দুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে এক বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ করেছে ১১-দলীয় জোট।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।
বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি এ দেশের জনগণের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত গণভোটের রায়ের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। মূলত বিএনপির ইতিহাসই হলো জনগণের সঙ্গে প্রতারণার ইতিহাস। আমরা রাজনৈতিক ইতিহাসে দেখেছি, তারা সব সময় সব গণঅভ্যুত্থানের প্রধান সুবিধাভোগী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, কিন্তু পরবর্তীতে সেই গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিটের সঙ্গেই বেইমানি করে।’
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে দেশের বন্যা পরিস্থিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের অযোগ্যতার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা এই সমাবেশ থেকে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা কবলিত অসহায় মানুষের জন্য গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করছি এবং তাদের জন্য দোয়া করছি।’
অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, স্থানীয় প্রশাসনের চরম অবহেলা ও সমন্বয়হীনতার কারণে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত জরুরি সহায়তা পাচ্ছে না। চট্টগ্রাম শহরের মেয়র ও স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার দীর্ঘদিনের প্রধান অভিশাপ—জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন, যোগ করেন তিনি।
সীমান্তে পুশইন এবং সীমান্ত হত্যা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, বর্তমান সরকার সীমান্তে পুশইন এবং অন্যায়ভাবে সীমান্ত হত্যা ঠেকাতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং সীমান্তে পুশইন ও হত্যা বন্ধ করা যদি সম্ভব না হয়, তবে নিজেদের রাজনৈতিক নামের পরিভাষা পরিবর্তনের সময় এসেছে।
রংপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক বৈষম্যের কথা তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বছরের পর বছর ধরে রংপুর বিভাগকে সব ধরনের রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে, তাদের প্রথম বাজেটে রংপুরের প্রতি বিশেষ সুনজর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এবারের জাতীয় বাজেটেও রংপুরের সঙ্গে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। এখানে নতুন করে বরাদ্দ বাড়ানোর বদলে উল্টো কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বড় কোনো নতুন উন্নয়ন প্রজেক্ট রাখা হয়নি। উন্নয়ন বরাদ্দে রংপুর সিটি করপোরেশনের নাম না থাকলেও রহস্যজনকভাবে বরাদ্দ চলে যাচ্ছে বগুড়ার শিবগঞ্জ কিংবা পূর্বের সেই কুখ্যাত গোপালগঞ্জ মডেলে।
বিরোধীদলীয় আসনে বরাদ্দ কমানো নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের নীতির সমালোচনা করার কারণে বিরোধীদলীয় আসনে জনগণের ন্যায্য অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আপনারা বিরোধীদলীয় এমপিদের বেতন-ভাতা বন্ধ করুন, কিন্তু জনগণের অধিকার বন্ধ করবেন না।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান জানাচ্ছি–অবিলম্বে রংপুরে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে এবং এই অঞ্চলের মানুষের বাঁচা-মরার লড়াই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।