এক সহকর্মীর প্রতি অন্য সহকর্মীর অবিশ্বাস, সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা—পুলিশ বাহিনীতে এমন চিত্র এখন স্বাভাবিক ঘটনার মতো। বদলি বা পদোন্নতির ফাইল নড়াচড়া শুরু হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি চক্র, যারা ফেসবুককে ব্যবহার করছে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মাঠপর্যায়ের অপরাধ দমন থেকে শুরু করে বাহিনীর শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন পরিস্থিতি নিয়ে গত এক মাসে সাবেক ও কর্মরত অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে এশিয়া পোস্ট। আলাপে পেশাগত নানা সমস্যার কথা সামনে এসেছে। তবে কেউ নিজের পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি।
আইনি জটিলতার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক একজন পুলিশপ্রধান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কেউ কি সত্যিই আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করতে চান? যাদের দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে চান, তারা কি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্ষম? পুলিশ কি আজও এককভাবে রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী বাহিনী হিসেবে কাজ করছে, নাকি ভেতরেই বিভক্ত হয়ে পড়েছে?’
পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব প্রশ্নের জবাব খোঁজার চেষ্টা করে এশিয়া পোস্ট। তবে সুস্পষ্ট কোনো উত্তর মেলেনি।
সাবেক ওই পুলিশপ্রধান বলেন, ‘৫ আগস্টের (জুলাই অভ্যুত্থান) পর পুলিশে বিভক্তির একটি স্পষ্ট বাস্তবতা রয়েছে। একাংশকে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। অন্য অংশ রাজনৈতিক পরিচয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়ে সুবিধা আদায়ে ব্যস্ত। ফলে কার্যকর নেতৃত্ব ও জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক পুলিশ সপ্তাহেও এমন কোনো সুস্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি, যা পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘অতীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পালন করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য কারাগারে গেছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালন করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের পরিণতির শিকার হতে হবে না, এমন নিশ্চয়তা না থাকায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। নির্বাচিত সরকার এসেছে, এখনও পুলিশ সদস্যরা যদি নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিত না হন, তাহলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়বে। সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে।’
সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, মাঠপর্যায়ে মূল দায়িত্ব পালন করেন ওসি, এসআই ও কনস্টেবলরা। তাদের নির্দেশনা দেন সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) থেকে শুরু করে পুলিশ সুপার (এসপি) পর্যায়ের কর্মকর্তারা। কিন্তু কোনো অভিযানে বা দায়িত্ব পালনের সময় ভুল হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে, সে বিষয়ে ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার বা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো নীতিগত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
বদলি-পদোন্নতিতে ফেসবুক-আতঙ্ক
পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বদলি বা পদোন্নতির ফাইল নড়াচড়া শুরু হলেই সক্রিয় হয়ে ওঠে একটি চক্র। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বানোয়াট ও অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে তথাকথিত ডসিয়ার (গোপন নথিপত্র বা প্রোফাইল) তৈরি করে তারা। এরপর তা পাঠানো হয় দেশের বাইরে থাকা কিছু অ্যাক্টিভিস্টের কাছে। তাদের ফেসবুক পেজের সুবাদে দ্রুত ভাইরাল হয় বিষয়টি। মূল উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে ফেলে তার পদায়ন বা পদোন্নতি আটকে দেওয়া।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলি ও পদায়নের আগেই তথ্য ফাঁস করে দিচ্ছে বাহিনীর ভেতরের একটি অংশ। কোনো কর্মকর্তা কোথায় বদলি হচ্ছেন, কার ফাইলের অগ্রগতি কত দূর কিংবা অতীতে কার বিরুদ্ধে কী প্রশাসনিক তদন্ত ছিল; সব সংবেদনশীল তথ্য পাচার হয়ে যাচ্ছে। এসবের নেপথ্যে রয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি বা ডিএমপির ভেতরের একটি চক্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পদস্থ কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আগে ভয় পেতাম প্রশাসনিক ফাইল বা জবাবদিহিকে। আর এখন ভয় পাই ফেসবুককে। কে কখন কার বিরুদ্ধে কী পোস্ট করিয়ে দেবে, কোন তথ্য কোথায় চলে যাবে? এই ভয়ে অনেকে এখন রুটিন কাজ করতেও ভয় পান। কোনো কঠোর বা সৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলছেন কর্মকর্তারা।’
তিনি বলেন, ‘এই অপপ্রচারের নেপথ্যে কারা রয়েছেন, তা অনেকেই অনুমান করতে পারলেও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চান না। কারণ, যিনি নাম প্রকাশ করবেন, পরদিনই তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি বা মিথ্যা গল্প ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় রয়েছে। এই ‘ডিজিটাল কাউন্টার-অ্যাটাক’-এর ভয়ে এক ধরনের জিম্মিদশার মধ্যে কাজ করছেন বাহিনীর কর্মকর্তারা।’
বাহিনীর শৃঙ্খলায় ধস
পুলিশ বাহিনীতে যখন বাহ্যিক ক্ষতগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে, ঠিক তখনই ভেতর থেকে একে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে নতুন এক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। এই অদৃশ্য আতঙ্কের নাম ফেসবুক।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের শীর্ষ কর্তারাও এখন এক ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-ভীতিতে দিন কাটাচ্ছেন। কেননা, বাহিনীর ভেতরের একটি অংশই সহকর্মীদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে, পদায়ন আটকাতে কিংবা ব্যক্তিগত ইমেজ ক্ষুণ্ন করতে ফেসবুককে ব্ল্যাকমেইলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
সাবেক একজন অতিরিক্ত আইজিপি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একটি শৃঙ্খলা বাহিনী টিকে থাকে পারস্পরিক আস্থা ও চেইন অব কমান্ডের ওপর। যখন বাহিনীর সদস্যরা একে অপরকে ঘায়েল করতে ফেসবুক প্রোপাগান্ডা এবং ব্ল্যাকমেইলের পথ বেছে নেয়, তখন প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা ভেঙে পড়ে।’
তার মতে, পুলিশ সদর দপ্তরের নিজস্ব আইটি ও সাইবার সেলকে কাজে লাগিয়ে তথ্য পাচারকারীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া শুধু ফেসবুক পোস্ট বা বেনামি চিঠির ওপর ভিত্তি করে পদায়ন বাতিল বা ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে তদবির বা বলয়ভিত্তিক সুবিধার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ পেশাদারি, সততা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলি ও পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রভাব পড়ছে অপরাধ দমনে
কর্মকর্তাদের ফেসবুক আতঙ্কের সরাসরি প্রভাব পড়ছে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়। বাহিনীতে একাধিক বলয় সক্রিয় থাকায় সাধারণ পুলিশ সদস্যরা দিকনির্দেশনাহীনতায় ভোগেন। কার নির্দেশ আগে মানবেন কিংবা কোন সিদ্ধান্ত নিলে কোন পক্ষ ফেসবুকে অপপ্রচার শুরু করবে, এ নিয়ে সংশয়ে থাকেন তারা। এতে মাঠপর্যায়ে অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত এবং গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়ের গতি মারাত্মকভাবে ধীর হয়ে গেছে।
টুরিস্ট পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এসব সংকট মোকাবিলায় পুলিশ সদর দপ্তর উদ্যোগ নিচ্ছে। টুরিস্ট পুলিশেও প্রতিরোধমূলক কাজ চলছে।’
তিনি বলেন, ‘ফেসবুকে যে ধরনের অপপ্রচার চলছে তা শুধু পুলিশ নয়, সাংবাদিকসহ যে কোনো পেশার মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। এগুলো কোনোভাবেই ঠিক নয়।’
বাহিনীতে বিভক্তি ও সন্দেহ
কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের সবচেয়ে বড় সংকট এখন নিজেদের ওপর আস্থাহীনতা। খুন, ছিনতাই ও ডাকাতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাবেক ও বর্তমান একাধিক কর্মকর্তা। তাদের মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পেশাদারত্বের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে বিভক্তি, সন্দেহ ও প্রতিশোধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ সুপার এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, আগের সরকারের সময় পুলিশের একটি অংশকে ‘জামায়াত-বিএনপির ঘনিষ্ঠ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। এখন মাঠপর্যায়ের একটি বড় অংশকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তাদের দাবি, পেশাগত মূল্যায়ন দায়িত্ব পালনের ভিত্তিতে হচ্ছে না। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনাকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি সংসদে দাবি করেছেন, আগের ১০-১৫ বছরের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন উন্নত এবং পুলিশের ভাবমূর্তি বেড়েছে। তবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর প্রতিবেদন বলছে, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার প্রথম ১০০ দিনে সারা দেশে ৬০৫টি খুন ও ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
বিপর্যয় সত্ত্বেও বিভেদ কাটেনি
সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে আলাপচারিতায় বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার চিত্র সামনে এসেছে। অধিকাংশ সদস্যের দাবি, এক সহকর্মী অন্য সহকর্মীকে বিপদে ফেলা, মামলা দেওয়া কিংবা ধরিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, অন্য কোনো সংস্থায় এটি নজিরবিহীন।
সদ্য অবসরে যাওয়া একজন ডিআইজি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘রাজনৈতিক ক্ষমতার চূড়ান্ত সুরক্ষায় পুলিশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হলেও সংকটের মুহূর্তে বাহিনী বরাবরই অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। অন্যান্য সংস্থায় সংকটকালে প্রাতিষ্ঠানিক সংহতি দেখা গেলেও পুলিশের চিত্র উল্টো। আইনি প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে এক কর্মকর্তা অন্য কর্মকর্তার জেল নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহায়তা করছেন।’
ঢাকার পার্শ্ববর্তী এক জেলায় কর্মরত একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তার আগের সরকারের অতি-উৎসাহী ভূমিকার খেসারত দিতে হয়েছে পুলিশকে। শত শত থানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে চরম প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু এত বিপর্যয়ের পরও বাহিনীতে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি বা ঐক্য গড়ে ওঠেনি।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এশিয়া পোস্টকে জানান, পুলিশ সদস্যরা যেন মনোবল ফিরে পান, সে জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। শুরুর দিকে কিছুটা ভুল-বোঝাবুঝি ও ঝামেলা থাকলেও এখন আর সমস্যা নেই। সবাই মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে।
বদলি-পদায়নের সিন্ডিকেট
পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট তৈরি হয়। তখন ভালো পদের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন আওয়ামী লীগ আমলে নিজেদের বঞ্চিত দাবি করা অনেক পুলিশ সদস্য। তাদের কাউকে কাউকে বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা হয়।
তৎকালীন পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যকার দ্বন্দ্বের খবরে বাহিনীর অভ্যন্তরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। বিশেষ করে সাবেক আইজিপি খোদা বক্স, তৎকালীন আইজিপি বাহার উদ্দিন এবং তখনকার স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। ওই সময়ে অন্তত ১১টি জেলার পুলিশ সুপার পদে নিয়োগ ও বদলিকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেন এবং রাজনৈতিক সুপারিশের অভিযোগ ওঠে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আগের সিন্ডিকেট ভেঙে যায়। এরপর পুলিশের কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাচের কর্মকর্তা এবং বনানীকেন্দ্রিক একটি গোষ্ঠী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। তাদের কথামতো কাজ না হলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি বা পেজ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে নানা স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। এর মধ্যে রূপালী, কুমিল্লা ও বরিশাল বার্তার মতো কয়েকটি আইডি ও পেজ উল্লেখযোগ্য। এগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয় নামসর্বস্ব কিছু পত্রিকা।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টের জেরে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় চক্রটি আরও মরিয়া হয়ে ওঠে।
সমাধান কোন পথে
দক্ষ পুলিশ বাহিনী গঠনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের পরামর্শক ছিলেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) ডেল এইচ খান। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘পুলিশের নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, বদলি ও বেতন-ভাতাসহ সবকিছুতেই দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। তবে বর্তমান সংকটের মূলে রয়েছে দলীয় তকমা ও পেশাদারির অভাব।’
তার মতে, সরকারপ্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত পুলিশকে ডেকে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া, বাহিনীর কোনো সদস্য দলীয় পরিচয় দিতে পারবেন না এবং কারও সুপারিশে পদোন্নতি বা বদলি হবে না। এটি করা গেলে অভ্যন্তরীণ কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম সোহাগ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘৫ আগস্টের (জুলাই অভ্যুত্থান) পর থেকে পুলিশ চরম ইমেজ সংকটে ভুগছে। এখন শুধু বাহিনীকে দোষ না দিয়ে এই সংকট থেকে তাদের বের করে আনতে সরকারকে কাজ করতে হবে। পুলিশকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সংস্কার উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।’
পুলিশ সদস্যদের ঢালাওভাবে ‘ট্যাগিং’ না করে, যারা অতি উৎসাহী হয়ে নিজস্ব স্বার্থে লবিং করছে তাদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন রেজাউল করিম সোহাগ। তার মতে, এর মাধ্যমেই কেবল বাহিনীকে শৃঙ্খলায় ফেরানো সম্ভব হবে।