বরিশালে পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত এক নেতাকে অবৈধভাবে পদচ্যুত করা, স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পরিবহন খাতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়ার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পরিবহন থেকে প্রতিদিন জোরপূর্বক সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া।
আজ শনিবার দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম চৌধুরি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে পরিকল্পিতভাবে পদচ্যুত করা হয়। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তার অভিযোগ, বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া তার আপন শ্যালক সোহাগ হাওলাদারকে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বসিয়েছেন, যদিও তিনি শ্রমিক নন।
আবুল কালাম চৌধুরি আরও দাবি করেন, পদ হারানোর পর চালকের চাকরিও হারাতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে। এ ঘটনায় তিনি শ্রম অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন এবং আদালতে মামলাও দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, রূপাতলী বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন থেকে কমিশনের নামে ১৮০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হলেও সেই অর্থ মালিক-শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে না। অনিয়মের প্রতিবাদ করলে হয়রানি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহনের চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব ও বরিশাল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি জিয়াউদ্দিন সিকদার জিয়া অভিযোগগুলো নাকচ করে বললেন, ‘এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। তার ভাষ্য, একটি চক্র মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।’