Image description

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তোফায়েল আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং ওই পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ছাত্রত্ব রক্ষার প্রয়োজনেই ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে অংশ নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

গত ৮ জুলাই কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ৬৮ সদস্যবিশিষ্ট জাককানইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

এতে চারুকলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক এবং ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের মারুফ হাসান (মামুন সরকার)কে সদস্য সচিব করা হয়। একই কমিটিতে তোফায়েল আহমেদ ৭ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান।

কমিটি ঘোষণার পর অভিযোগ ওঠে, তোফায়েল দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং আইন অনুষদ ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটিতে ৭ নম্বর সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন বলে সমালোচকরা দাবি করেন।

এদিকে, আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিন উদ্দিন অভিযোগ করেন, তোফায়েল আহমেদ মামলা করার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন এবং অর্থ দাবি করেছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, “মহিন আমার বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্য কিংবা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবির যে অভিযোগ এনেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, “ওই সময় আওয়ামী লীগের স্বর্ণযুগ ছিল। ক্যাম্পাস ও হলের পরিবেশ এমন ছিল যে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখতে অনেককেই কৌশলে চলতে হতো। আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। ছাত্রত্ব চলে গেলে ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেত। তাই বাধ্য হয়ে ছাত্রলীগের কিছু কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতে হয়েছে।

অনেক সময় জোর করেও তাদের কর্মসূচিতে নিয়ে যাওয়া হতো। তবে আমি ২০২২ সাল থেকে, এমনকি ২০২৪ সালের আগেও প্রকাশ্যে ফেসবুক পোস্ট ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। এসবের প্রয়োজনীয় প্রমাণও আমার কাছে রয়েছে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি। তোফায়েল জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছে। এরপরও যদি ছাত্রলীগের সঙ্গে বর্তমান কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সাংগঠনিকভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”