Image description

চলতি বছরের প্রথম সাড়ে ৫ মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন) সারাদেশে ৫৯ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারিয়েছেন বিএনপির ৪৫ জন নেতাকর্মী। এ ছাড়া জামায়াতের সাতজন ও আওয়ামী লীগের সাতজন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জন বিএনপির, পাঁচজন জামায়াতের এবং দুজন আওয়ামী লীগের। বাকি ২৯টি খুনের নেপথ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, জমি নিয়ে বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতার মতো কারণ উঠে এসেছে। তবে ১৬টি খুনের কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সবচেয়ে বেশি ১১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এরপর রাজশাহী বিভাগে আটজন খুন হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে পাঁচ, ময়মনসিংহ বিভাগে তিন এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগে একজন করে খুন হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে, পাঁচজনকে গুলি করে এবং ১১ জনকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে, ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে ও কিলঘুসি মেরে হত্যা করা হয়েছে।

আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৩৪৭টি সংঘাতের ঘটনায় ৫৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সেই সূত্র ধরে যাচাই করতে গিয়ে ৫৩টি ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ ছাড়া একই সময়ে চট্টগ্রামের রাউজানে বিএনপিকর্মী কাউসারুজ্জামান বাবলুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। আর জুনে এ পর্যন্ত খুন হয়েছেন পাঁচ রাজনৈতিক নেতাকর্মী। এর মধ্যে তিনটি ঘটনায় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত মোট ৫৯ রাজনৈতিক নেতাকর্মী খুন হয়েছেন।

আসকের তথ্য বলছে, বছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হন দুই হাজার ৬৩৬ নেতাকর্মী। এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে সর্বাধিক ৯৮০ জন আহত হন। এর বাইরে বিএনপি-বিএনপি সংঘর্ষে ৭৪৫, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ২৭০, বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ১২৯ ও বিএনপ১৬ খুনের কারণ অজানা

রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ ছাড়াও বিভিন্ন কারণে আরও ২৯ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের ২২ জন রয়েছেন। তাদের ৯ জনের খুনের কারণ জানা গেছে। তিনজন আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে, একজন ওয়াজ-মাহফিলের টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ, ইউপি নির্বাচন নিয়ে বিরোধে একজন, একজন পারিবারিক বিরোধ, একজন জমি নিয়ে বিরোধ, একজন ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বে ও একজন চাঁদা না দেওয়ায় খুন হন।১০২ জন আহত হয়েছেন।

১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পাহাড়তলীতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন যুবদল নেতা মাকসুদুল হক। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সংস্থাটি বলছে, মাসুদুল হক রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি যাতে নির্বাচন করতে না পারেন, সেজন্য হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

রাউজান থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

একই সময়ে আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পাঁচ নেতাকর্মীও অন্যান্য কারণে খুন হন। ব্যক্তিগত বিরোধে ভোলার চরফ্যাসনে যুবলীগ নেতা আবদুর রহিমকে কুপিয়ে এবং বাগেরহাটে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আর নাটোরের সিংড়ায় জিয়া পরিষদের নেতা রেজাউল করিমকে গলা কেটে হত্যার ঘটনার জেরে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন দিলে সাবিহা বেগমের মৃত্যু হয়। অপর দুটি খুনের কারণ জানা যায়নি। পৃথক ঘটনায় জামায়াত ও শিবিরের দুই নেতাকর্মী খুন হন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শিবিরের সাবেক নেতা জামাল উদ্দিনকে খুনের কারণ জানা গেছে। গার্মেন্টের ঝুট ব্যবসা নিয়ে বিরোধে তাকে গুলি করি হত্যা করা হয়।

পুলিশ সদরদপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, সব হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক নয়। এর একটি বড় অংশই ব্যক্তিগত বিরোধ, জমি বা অন্যান্য কারণে ঘটে।

তথ্যসূত্র: সমকাল