ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসে অবৈধভাবে একটি সিট দখল করে রাখার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মারধর, মব সৃষ্টি, এবং রাতভর উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির দুই নেতাকেও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযুক্তরা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাকে ‘হলের অভ্যন্তরীণ ছোটখাটো বিষয়’ বলে দাবি করেছেন।
শনিবার (২৮ জুন) রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এসব ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দক্ষিণান ছাত্রাবাসের ৩০৩ নম্বর কক্ষে মোট আটটি সিট রয়েছে। এর মধ্যে সাতজন শিক্ষার্থী নিয়মিত সেখানে থাকেন। অপর একটি সিট ঢাকা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য সাইফুল ইসলাম রেদোয়ানের নামে বরাদ্দ। ব্যক্তিগত কারণে তিনি বর্তমানে হলের বাইরে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে সিটটি ফাঁকা রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ মোশাররফের সমর্থনে ওই ফাঁকা সিটে কয়েক মাস পরপর বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে রাখা হয়। সর্বশেষ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আলভী প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
কক্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি, আলভীকে বিভাগীয় অনুমোদন নিয়ে বৈধভাবে সিট বরাদ্দ নেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি তা করেননি। পরে কক্ষের সদস্যরা বৈধ সিটধারী ছাড়া অন্য কাউকে সেখানে না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে আলভীকে সিট ছেড়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে আলভী ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ মোশাররফকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তখন উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে রাতে পারভেজ মোশাররফ আবার ৩০৩ নম্বর কক্ষে গেলে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ নাইম বলেন, তাদের রুমের এক সদস্য হল ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার সময় নিজের জায়গায় ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ত সাইফুল ইসলাম রেদোয়ানকে রেখে যান। তবে রেদোয়ান নিজে না থাকলে প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিভিন্ন ছোট ভাইকে ওই সিটে পাঠিয়ে দিতেন। সর্বশেষ আলভীকে গেস্ট হিসেবে সেখানে রাখা হচ্ছিল। তিনি বলেন, আলভীর আচরণ ভালো না হওয়ায় রুমের কেউ বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছিলেন না। তাই দুই দিন আগে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তিনি যেহেতু অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাই সিট ছেড়ে দিতে হবে। তারা চান, কেউ থাকলে প্রশাসনের নিয়ম মেনে বৈধভাবে সিট বরাদ্দ নিয়েই থাকুক।
নাইমের ভাষ্য, শনিবার দুপুরে আলভী ছাত্রদলের নেতা পারভেজ মোশাররফকে রুমে নিয়ে আসেন। তিনি উচ্চস্বরে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পারভেজ মোশাররফ, দ্বীন মোহাম্মদসহ আরও কয়েকজন আবার রুমে আসেন। তখন তারা বলেন, আলভী প্রশাসনের মাধ্যমে বৈধভাবে সিট নিলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু একপর্যায়ে পারভেজ মোশাররফ রুমের শিক্ষার্থী রিয়াদের কলার ধরে টান দেন। এরপর রাত ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত রুমের সামনে বারবার মব তৈরি করে হামলার চেষ্টা করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রুমের সামনে অবস্থান নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পারভেজ, দ্বীন মোহাম্মদ, সীমান্ত ও বিয়াদসহ কয়েকজন তাদের গায়ে হাত তোলেন।
আরও পড়ুন: ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট সাময়িক বাতিলের প্রস্তাব বিএনপির এমপির
তিনি আরও বলেন, পরে তাদের বলা হয়, ‘তোরা রুমে থাকতে পারবি না।’ তার চোখে আঁচড় দেওয়া হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। ছাত্রশক্তির নেতা রয়েল হাসানের গায়েও হাত তোলা হয়। তাদের কক্ষের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ফেলা হয়। পরে হলের নিচে গিয়ে সবুজ নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয় এবং তার টি-শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। হল প্রভোস্টের সামনেও মারধরের ঘটনা ঘটে। কালবেলায় আরও এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। এরপর হলের মাঠে জড়ো হয়ে তাদের মারধরের প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং ওই দিনের মধ্যেই হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্য সচিব রয়েল হাসান নয়ন বলেন, হলের গ্রুপে জানতে পারেন দক্ষিণান হলে তার বন্ধু রিয়াদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি জানতে তিনি সেখানে যান। গিয়ে দেখেন, রিয়াদকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে এবং বাইরে ছাত্রদলের ২০-২৫ জন নেতাকর্মী, যার মধ্যে পারভেজ, শাকিল, সীমান্ত, দ্বীন মাহমুদ, শিহাব ও জীবন ছিলেন, তারা দরজা ভাঙার চেষ্টা করছেন। তিনি রিয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, তাকে মারধর করা হয়েছে। পরে বাইরে থাকা ব্যক্তিরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন এবং রিয়াদকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন।
রয়েল বলেন, তখন তিনি বলেন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীকে হল থেকে বের করা যাবে না। প্রয়োজনে আগে সিনিয়রদের যেতে হবে। এই কথা বলার পরই তাকে ঘিরে মব তৈরি করা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়। কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর সহায়তায় তাকে একটি কক্ষে নিরাপদে রাখা হয়। পরে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি নিজ কক্ষে ফিরে যান।
তার ভাষ্য, রাত ২টার পর তার কক্ষে এসে জিজ্ঞেস করা হয় তিনি আছেন কি না। এরপর বলা হয়, দক্ষিণান হলে ঝামেলা সৃষ্টি করেছেন, তাই তাকে নিচে যেতে হবে। সেখানে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাত অপেক্ষা করছেন এবং তার ‘বিচার’ হবে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সকালে যাওয়ার কথা বলেন। তখন ছাত্রদলের সীমান্ত, শাকিলসহ কয়েকজন তাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রুমমেট ও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তারা ব্যর্থ হন। প্রায় পাঁচ মিনিট পর পারভেজ, শিহাব, দ্বীন মাহমুদ, সীমান্ত, শাকিলসহ ২৫ থেকে ৩০ জন তার কক্ষে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দেন এবং কয়েকজন ভেতরে প্রবেশ করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তারা প্রাণনাশের হুমকিও দেন। শহীদ ফরহাদ হলের শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তাকে নিয়ে যেতে না পেরে হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
এদিকে ছাত্রশক্তির ঢাকা কলেজ শাখার সদস্য সচিব অভিযোগ করেন, রাত ১২টার দিকে নাইম ও রিয়াদকে ছাত্রদলের নেতা পারভেজ মারধর করেন। তাদের বাঁচাতে গেলে রয়েল ও সবুজকেও মারধর করা হয়। পরে ছাত্রদলের সাগর খান, শিহাব হাওলাদার, মেহেদী হাসান সীমান্ত এবং সদস্য সচিব মিল্লাতের গ্রুপের নেতাকর্মীরা হামলায় অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, তিনি প্রথমে বিষয়টি জানতেন না। পরে মিল্লাতের গ্রুপের নেতাকর্মীরা নায়েমের গলিতে তাকে তিন দফা মারধর করেন। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি।
মারধরের ঘটনায় ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য পারভেজ মোশাররফ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এটা হলের একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। হলে সিনিয়র-জুনিয়র একসঙ্গে থাকলে অনেক সময় ছোটখাটো নানা বিষয় নিয়ে সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝি হয়। যেমন একটি পরিবারে একসঙ্গে থাকতে গেলেও অনেক সময় সিনিয়রদের সঙ্গে মতের অমিল বা মনোমালিন্য হতে পারে। বিষয়টিও তেমনই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কয়েকজন সিনিয়র কিছু কথা বলেছিলাম। কিন্তু কয়েকজন জুনিয়র বেশ উগ্র আচরণ করে। এরপর বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা নিজেরাই পরিস্থিতি মিটমাট করে দিই। তবে অন্য হল থেকে কিছু লোক এসে বিষয়টিকে আরও জটিল করে এবং ঝামেলা বাড়িয়ে দেয়।’
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মেহেদী হাসান সীমান্ত দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা যদি কাউকে মারধরই করে থাকি, তাহলে যাকে মারধর করেছি তার কাছ থেকেই প্রমাণ নেন। মারধর করলে তো অবশ্যই আঘাতের চিহ্ন থাকবে। সেটা যাচাই করতে পারেন। আসলে এটা খুবই ছোটখাটো একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা নিয়ে সংবাদ করলে বিষয়টাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় করে দেখা হবে। সামান্য কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়েছিল। কিন্তু এমন কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকলে কথা-কাটাকাটি বা মনোমালিন্য হতেই পারে। তবে এটাকে মারামারি, পিটাপিটি বা ভাঙচুর বলা যাবে না। এমন কিছুই ঘটেনি।
তিনি বলেন, আমরা কাউকে আটকে রাখিনি। এটাও ভুল কথা। আপনি তার রুমমেট কিংবা যিনি অভিযোগ করেছেন, তাদের কাছেই জিজ্ঞাসা করতে পারেন। মারধরের অভিযোগও সঠিক নয়। এখন আমি যদি বলি মারধর হয়নি, সেটি হয়তো সবাই বিশ্বাস করবে না। কিন্তু আপনারা বিভিন্ন মাধ্যমে যেভাবে ছাত্রদের মধ্যে মারামারির খবর দেখছেন, বাস্তবে এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও আছে, আমরাও আছি। আমরা কখনো হল দখল করতে চাই না। এসব অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি আরও বলেন, যে শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি হয়েছে, তিনি অবৈধভাবে হলে ছিলেন না, গেস্ট হিসেবে ছিলেন। অবৈধ আর গেস্ট—দুইটির মধ্যে পার্থক্য আছে। আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। গেস্ট রাখার একটা প্রচলিত নিয়ম আছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমাদের কাছেও দুই-চার দিনের জন্য অতিথি এসে থেকেছে।
ঢাকা কলেজের দক্ষিণায়ন ছাত্রাবাসের হল প্রোভোস্ট নাজমুল হুসাইন নয়ন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার হলে গতকাল রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। একটি রুমের রিপ্লেসমেন্ট সিটকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। আমি ঘটনাস্থলে ঠিক সেই সময় উপস্থিত ছিলাম না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাটি যাচাই করি। তখন জানতে পারি, কলার ধরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে তারা নিচে নেমে আসে। তখন আমি, অন্য দুইজন হল সুপারসহ মোট তিনজন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। আমাদের সামনেও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিই এবং পরে সেটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। এরপর হোস্টেল সুপার হিসেবে আমি উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার চেষ্টা করি। কিন্তু তখন দেখলাম, ওই মুহূর্তে তাদের কথা শুনে সমাধানের দিকে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সবাই বেশ উত্তেজিত ও আক্রমণাত্মক অবস্থায় ছিল।
নাজমুল হুসাইন নয়ন বলেন, পরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অন্য হল সুপারদের এবং আমাদের অধ্যক্ষ মহোদয়কে বিষয়টি জানাই। তার পরিপ্রেক্ষিতে আজ বিকেল ৪টায় অধ্যক্ষ মহোদয়ের কক্ষে একটি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বসা হবে। তাদের সবার বক্তব্য শোনার পর অধ্যক্ষ মহোদয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরে যতটুকু শুনেছি, যাদেরকে রাখা হয়েছিল, তাদের দুজনকে নিয়েই মূলত সমস্যা তৈরি হয়েছে। দুই পক্ষই একজন করে দুজনকে রেখেছিল। তবে তারা স্থায়ীভাবে থাকছিল না। তারা সাময়িকভাবে থাকছিল। এমন না যে তারা নিয়মিত বা ধারাবাহিকভাবে হলে অবস্থান করছিল। ধরুন, তিন-চার দিন থাকল, তারপর আবার চলে গেল। তাই বিষয়টি আমার নজরে আসেনি এবং কেউ আমাকে এ বিষয়ে জানায়ওনি।
অবৈধভাবে থাকা শিক্ষার্থীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘শুধু গতকাল রাতে, যে ছেলেটিকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সমস্যাটা হয়, সে সম্ভবত রাত ৯টা বা ১০টার দিকে আমার কাছে এসেছিল। তখন সে আমাকে বলেছিল, ‘স্যার, আমি এখানে থাকতে চাই, কিন্তু আমার রুমমেট আমাকে রাখতে পারছে না।’তখন আমি তাকে বলি ‘তুমি অবশ্যই বৈধভাবে (লিগালি) সিট ম্যানেজ করে আসো। সেই দিকেই মনোযোগ দাও। অন্য কোনো দিকে নজর দিও না।’’
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে হোস্টেল সুপারদের সঙ্গে কথা বললে তারা ভালো বলতে পারবেন। তবে আমি বিষয়টি জেনেছি। আমি তাদের বলে দিয়েছি, যাই হোক না কেন, দ্রুত বসে যেন বিষয়টির সমাধান করা হয়।
তিনি বলেন, ‘আজকেই হোস্টেল সুপাররা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের নির্দেশ দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে বসে বিষয়টির সমাধান করতে।’