Image description

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে বিএনপি। বিদ্রোহীদের বিষয়ে নেওয়া হবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। দলের হাইকমান্ড থেকে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে এ বার্তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সদস্য এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, সংসদ নির্বাচনের মতো এক্ষেত্রেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিষয়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের বিরোধিতা করে আসছে। আসন্ন নির্বাচনেও দলীয় প্রতীক থাকছে না। তবে মাঠপর্যায়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সবুজ সংকেত বা অনানুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়া হবে।

কেন্দ্র বা স্থানীয় সমন্বয় কমিটি যাকে সমর্থন দেবে, দলের অন্য সব সম্ভাব্য প্রার্থীকে তার পক্ষেই কাজ করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আজীবন বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘বড় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলের প্রতি ত্যাগ, অবদান এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয়তা বিবেচনায় সমর্থন দেওয়া হবে। তবে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

অতীতে দেখা গেছে, প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে একই এলাকায় দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা প্রার্থী হয়ে থাকেন। এতে ভোট ভাগাভাগি হয় এবং দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করে। প্রতিপক্ষ যেন এই সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্য আগেভাগেই সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কঠোর বার্তা দেওয়ার পথে হাঁটছে দলটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএনপি নেতা বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে যেমন দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, ঠিক তেমনি স্থানীয় নির্বাচনেও চেইন অব কমান্ড ধরে রাখা হবে। দল যাকে যোগ্য মনে করে সমর্থন দেবে, বাকিদের তার পেছনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বা দলের প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে তাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কারের মতো সাংগঠনিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।’

 

বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দল এখন রাষ্ট্র পরিচালনায় ও মাঠ গোছানোয় মনোযোগ দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার কাঠামোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে দলটি।

মনোপ্রত্যাশীরা যেন এখন থেকেই দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকেন, সেটি নিশ্চিতের ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা।

বিএনপির একজন সাংগঠনিক সম্পাদক এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনকে বিএনপি তাদের মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্গঠন ও গতিশীল করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। তবে এর পেছনে কিছু বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ ও কৌশল রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাই প্রতিটি এলাকা থেকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য একক প্রার্থী ঠিক করা চ্যালেঞ্জিং। এখানে ব্যর্থ হলে দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। কারণ বেশি প্রার্থী থাকলে কোন্দলও বেশি হবে।’

সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হতে পারেন প্রশাসকরা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের সমর্থন দেবে। বর্তমানে এগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রশাসকদের প্রার্থী করার সম্ভাবনা বেশি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘দলীয়ভাবে নির্বাচন হবে না। ফলে নির্বাচনের জন্য অনেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন, তাদের আশা থাকতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচন যখন আসে, তখন বড় দলগুলোর প্রার্থীর অভাব হয় না। একাধিক প্রার্থী থাকলেও সমস্যা হবে না, প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে। অনেকে নির্বাচন করার মাধ্যমে পরিচিতি বাড়াতে চান। এগুলো নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’