লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক কৃষকের বাড়িতে হামলা, লুটপাট এবং ফলদ ও সবজি গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক নেতাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মুরাদ হোসেন অভিযুক্ত সাতজনকে আসামি করে রায়পুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চরবংশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শাহজাহান কবিরাজ উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
অভিযোগে মুরাদ হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তার মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন শাহজাহান কবিরাজসহ অভিযুক্তরা। জমি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। থানায় অভিযোগ করেও তিনি প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে শাহজাহান কবিরাজের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। পরে তারা তার ফসলি জমিতে থাকা প্রায় ২০০টি কলাগাছ, ৭০ থেকে ৮০টি সুপারি গাছ, ৫০টি পেঁপে গাছ এবং ২২টি নারিকেল গাছ কেটে ফেলে। একই সঙ্গে সবজি ও ফল লুট করে নিয়ে যায়। এতে তার প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মুরাদ হোসেনের দাবি, খবর পেয়ে তিনি ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের মারধর করেন। এ সময় নারী ও শিশুদেরও মারধর করা হয়, কয়েকজন নারী শ্লীলতাহানির শিকার হন এবং স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহজাহান কবিরাজ বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি ওই জমির কাছেও যাইনি। যে ব্যক্তি জমিটি কিনেছেন, তিনিই তার জমি পরিষ্কার করতে সেখানে গিয়েছিলেন। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, মুরাদ হোসেন নামে একজন লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।