জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলির যে দৃশ্য সবাইকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় জানা যাবে আজ রবিবার। এদিন বেলা ১২টার কিছু আগে এই মামলার রায় পড়া শুরু হয়।
মামলার আসামি সাবেক পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রায় ঘোষণা করবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গুলির ওই ঘটনা ছাড়াও দুজনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে মামলায়।
আসামিদের মধ্যে একজন গ্রেপ্তার আছেন। তিনি হলেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। তাকে আজ বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে তোলা হয়।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করবেন। এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ইতিমধ্যে চারটি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এটি হতে যাচ্ছে পঞ্চম রায়। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, এই মামলায় তারা ১৩ জন সাক্ষী উপস্থাপন করেছেন।
এই মামলার চার পলাতক আসামি হলেন- ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান (ইতিমধ্যে চানখাঁরপুলের মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে), ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলি ও ধাওয়া খেয়ে বনশ্রী জামে মসজিদের পাশে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন ভবনে আশ্রয় নেন আমির হোসেন।
আত্মরক্ষায় তিনি ওই ভবনের তৃতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের পাইপ ধরে ঝুলে ছিলেন। সেখানে এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার ও এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া উপস্থিত হয়ে তাকে নিচে লাফ দিতে বলেন। ওই তরুণ লাফ না দেওয়ায় পর পর ছয়টি গুলি করা হয়। এতে তিনি গুরুতর জখম হন।
মামলার তৃতীয় অভিযোগে মায়া ইসলাম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে গুলি করে হত্যা এবং তার ছয় বছরের নাতি বাসিত খান মুসাকে হত্যাচেষ্টার বিবরণ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকালে বনশ্রী জি ব্লকে রামপুরা থানার সামনের একটি বাসার নিচতলায় গেইটের ভেতরে দাদি-নাতি অবস্থান করছিলেন।
আসামিরা যখন ক্রমাগত গুলি চালাচ্ছিল, তখন পুলিশের একটি বুলেট শিশু মুসার মাথা ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং তা সরাসরি তার দাদি মায়া ইসলামের পেটে বিদ্ধ হয়। আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়া ইসলাম মারা যান।