কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর তৎপরতা ঠেকাতে মাঠে নেমেছে ছাত্রদল। মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান নেন বিএনপির সহযোগী সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি করেন মোটরসাইকেল শোডাউন।
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তৎপরতা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও রাজধানীতে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক দেখা গেছে।
সরেজমিনে কাওরান বাজার, বাংলামোটর, শাহবাগ, ধানমন্ডি ও মিরপুর এলাকায় দেখা গেছে, যান চলাচল স্বাভাবিক। দুই এক জায়গায় শুধু যান ও জনসমাগম কিছুটা কম ছিল। ঝামেলা এড়াতে অনেককে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা এড়িয়ে যেতে দেখা গেছে।
এদিকে, আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে সোমবার মধ্যরাত থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল করতে দেখা যায় ঢাবির বিভিন্ন হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের। আজ ভোর ৭টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শাহবাগ, কাটাবন ও নীলক্ষেত পর্যন্ত মিছিল বের করে ছাত্রদলের একটি অংশ। তারা আওয়ামী লীগ বিরোধী নানা স্লোগান দেন।
মিছিলের নেতৃত্বে থাকা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামিনুন ইসলাম জিসান স্ট্রিমকে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনা এ দেশে গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে গেছে, অথচ তাদের নেতাকর্মীদের এ নিয়ে ন্যূনতম অনুতাপ নাই। এই নির্লজ্জ মাফিয়াগোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখে দিতে আমরা মাঠে আছি। জনগণের পাশে আছি।’
মোটরসাইকেল শোডাউন
বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি অনেক স্থানে মোটরসাইকেল শোডাউন করতে দেখা গেছে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের। ভোর ৬টার দিকে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন ও খন্দকার আনিসুর রহমান অনিকের নেতৃত্বে নীলক্ষেত, শাহবাগ, কাটাবন ও ক্যাম্পাসের ভেতর এমন টহল দিতে দেখা যায়।
রাজধানীর পল্টন ও হাইকোর্ট এলাকায়ও মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে নামেন ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদ জনগণের ওপর জুলুম করেছে, নিপীড়ন-নির্যাতন করেছে, গুম ও হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। ৫ আগস্ট দেশের সব শ্রেণি-পেশার গণতন্ত্রকামী মানুষ সেই ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করেছে। দেশের সব রাজনীতি সচেতন জনগোষ্ঠীকে নিয়ে, স্বাধীনতাকামী দলগুলোকে নিয়ে, জনগণ নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের আজকের অবস্থান।
এ ছাড়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকায়ও নেতাকর্মীদের খণ্ড খনণ্ড মিছিল এবং অবস্থান নিতে দেখা যায়।