Image description

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় আহত সালাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটায় গভীর রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। রাত প্রায় ১টায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, যুবদল-বিএনপির হামলাকারীরা সালাউদ্দিনের পিঠের ডান অংশে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এতটাই গভীর কোপ দেয় যে আঘাত তার ফুসফুস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। শজিমেকের চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসায় রক্তক্ষরণ বন্ধ করলেও ফুসফুসের জটিলতা ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে সেখানে পরবর্তী চিকিৎসা সম্ভব নয়।

শজিমেকের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মো. শাহিনুর রহমান বলেন, আহত সালাউদ্দিনের ফুসফুসে গুরুতর জখম রয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর প্রয়োজন ছিল। আমরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করি।

পারিবারিক সূত্র জানা গেছে, রাত সোয়া ১২টার দিকে চিকিৎসকরা সালাউদ্দিনকে ঢাকায় স্থানান্তরের নির্দেশ দিলে দ্রুত একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। রাত ১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি বগুড়া ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

স্বজনরা জানিয়েছেন, তাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই সালাউদ্দিনের শরীরে চার ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়েছে এবং আরও রক্তের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

সালাউদ্দিনের বড় ভাই আব্দুল্লাহ বলেন, আমার ভাইয়ের ফুসফুসে ছুরি ঢুকে গিয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছেন, এখনই অস্ত্রোপচার করতে হবে, কিন্তু বগুড়ায় সেটা সম্ভব নয়। তাই রাতেই তাকে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছি, তার অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক, আমরা সবার কাছে দোয়া চাইছি।

উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাঘাটার বোনারপাড়া চারমাথা এলাকায় কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা মুকুল, তার ভাই পলাশ ও আশরাফের হামলায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী নিহত হন এবং সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হন। সালাউদ্দিনের ফুসফুসে জখমের ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাঘাটা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্ত মুকুলকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।

সাঘাটা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পবিত্র কুমার জানান, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস সরকার রুম্মন বলেন, আমাদের নেতা সাইফুল্লাহকে হত্যা করা হয়েছে, আর সালাউদ্দিনের ফুসফুস ফুঁড়ে দেওয়া হয়েছে—এটা কোনো সাধারণ সংঘর্ষ নয়, এটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সালাউদ্দিনের সুস্থতা কামনা করছি এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

সালাউদ্দিনের পরিবার ও শিবির নেতাকর্মীরা তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। পাশাপাশি হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরও দাবি জানিয়েছেন তারা।