পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সময়ে গুম, খুন, গণহত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। দুপুরে বিজয়নগরে আয়োজিত সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আগামী ৪ জুলাই জেলাগুলোতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করবে জোটটি। বাজেট পাসের পরও তাদের কর্মসূচি থাকবে।
সোমবার বেলা ১১টায় মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ‘৩৬ জুলাই’ উপলক্ষে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিনের কর্মসূচি দেবে ১১ দলীয় ঐক্য। এ বিষয়ে ২৫ জুন বৈঠক শেষে কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে নই। আমরা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছি। তবে কেউ নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড চালালে তার দায় সরকারের। সরকারকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।”
তিনি আরও বলেন, “দেশকে আবার বিচারহীনতা ও ফ্যাসিবাদের দুঃশাসনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদের সময়ে সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার না করা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের যে অপচেষ্টা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে আমরা রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদ করছি। ইতোমধ্যে তিনটি বিভাগীয় শহরে সমাবেশ হয়েছে। সামনে আরও চারটি সমাবেশ রয়েছে। ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে এ কর্মসূচি পালিত হবে।”
ড. আযাদ বলেন, “এর আগে গত ১২ জুন ২৬টি সীমান্ত জেলায় সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে সমাবেশ করেছি। রাজধানীতেও একইভাবে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, জাগপার মহাসচিব অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা এবং নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।