চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। রোববার ভোরে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আইয়ুব (৪৫) মামলার নয় নম্বর আসামি। তিনি রাউজানের কদলপুর এলাকার আব্দুল মোনাফের ছেলে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন টাইমস অব বাংলাদেশকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মাসুদ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।
গত ১৩ জুন দুপুরে রাউজানের চুয়েটসংলগ্ন পাহাড়তলী বাজার এলাকায় বেতাগী ইউনিয়নের যুবদলের সহ সভাপতি মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ অবস্থান করছিলেন। এ সময় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা খুব কাছ থেকে তার মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ওই ফুটেজে কয়েকজন অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন কদলপুর এলাকার মোহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে দামা ইলিয়াস, দিদারুল আলম ওরফে দিদার, রাউজান পৌরসভার ফরেস্ট অফিস এলাকার মোহাম্মদ ইউসুফ, পূর্ব রাউজানের মোহাম্মদ জাহেদ ও মোহাম্মদ আবছার। তদন্তকারীদের দাবি, প্রথমে ইলিয়াস ও দিদার গুলি চালান। পরে অন্যরা এগিয়ে গিয়ে আরও গুলি ছোড়ে।
এ ঘটনায় ১৫ জুন নিহত মাসুদের ভাই ও রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন মামলার বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম টাইমসকে বলেন, গ্রেপ্তার আইয়ুবকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা না গেলেও ঘটনার সময় তিনি আশপাশে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আরও তদন্ত চলছে।