২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে ঢাকায় অস্বাভাবিক অস্থিরতা ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের ঢল নামছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ক্লান্ত, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বিভ্রান্তি, আর ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অনিশ্চয়তা। কয়েক ঘণ্টা পরই এমন একটি ঘটনা ঘটবে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে নতুন মোড়ে নিয়ে যাবে—ক্ষমতা হারাবে টানা দেড় দশক ধরে রাষ্ট্র পরিচালনা করা আওয়ামী লীগ সরকার।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পতন কি হঠাৎ ঘটেছিল? নাকি সরকারের কাছে আগে থেকেই সতর্কবার্তা ছিল, যা যথাসময়ে গুরুত্ব পায়নি? আরও বড় প্রশ্ন—সেই সতর্কবার্তাগুলোর কিছু কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের টেবিলেই আটকে গিয়েছিল?
সুখবর ডটকমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এমন এক চিত্র, যেখানে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, প্রশাসনিক মূল্যায়ন, পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের বিচ্ছিন্নতা দেখা যায়। অনুসন্ধানে ভিন্ন ভিন্ন সূত্রের বক্তব্য থাকলেও একটি জায়গায় এসে সেগুলো মিলিত হয়েছে—সরকারবিরোধী জনঅসন্তোষের গভীরতা সম্পর্কে শেখ হাসিনা সম্পূর্ণ চিত্র পাননি। তাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল।
ওই বছরের জুলাইয়ে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রথমদিকে ছিল শিক্ষার্থীদের একটি দাবিভিত্তিক কর্মসূচি। সরকারি চাকরিতে নিয়োগে বৈষম্য দূর করার দাবিতে রাজপথে নামেন শিক্ষার্থীরা। সরকারও শুরুতে বিষয়টিকে সীমিত পরিসরের একটি আন্দোলন হিসেবেই দেখছিল।
কিন্তু জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে রংপুরে পুলিশের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যু পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দেয়। তার মৃত্যুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনমনে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন আন্দোলনকারীর মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এরপর এমন কিছু ঘটতে থাকে, যা অনেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা দ্রুত উপলব্ধি করেছিলেন, কিন্তু সাবেক সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে সেগুলো জানানো হয়নি।
অনুসন্ধান বলছে, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকেই ধারণা করতে শুরু করেছিলেন যে আন্দোলনটি আর শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের মূল্যায়ন ছিল, এটি ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নিচ্ছে এবং পরিস্থিতি গণ-অভ্যুত্থানের দিকে এগোচ্ছে।
একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা পর্যায়ে এ উদ্বেগের কথা আলোচিত হলেও তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) ১৭টি গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের ভাষা ও বাস্তবতার মধ্যে একটি দূরত্ব ছিল। আন্দোলনকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, উসকানি কিংবা বিরোধী শক্তির পরিকল্পনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও জনঅসন্তোষের প্রকৃত গভীরতা এবং আন্দোলনের বিস্তৃত সামাজিক ভিত্তি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছিল।
এই ব্যবধানই পরে বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। সরকার কি ভুল তথ্য পেয়েছিল, নাকি সত্য তথ্য পেয়েও তা গ্রহণ করেনি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে ১৮ জুলাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। পুলিশের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই দিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাবিবুর রহমান তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি আইজিপিকে সতর্ক করে বলেন, আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিতে পারে।
তার উদ্বেগ কেবল রাজপথের পরিস্থিতি নিয়ে ছিল না। তিনি মনে করছিলেন, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষও অস্থির পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। তিনি চান বিষয়টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছাক। কিন্তু কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, আইজিপি তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দেন।
এরপর হাবিবুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদও। সূত্রগুলোর দাবি, সেখানে কমিশনারের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। বরং তিনি অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সূত্রগুলো বলছে, ডিএমপি কমিশনার পরে জানতে পারেন যে আইজিপি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—মাঠপর্যায়ের সতর্কবার্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে পৌঁছানো বার্তার মধ্যে এত পার্থক্য কেন ছিল? আসাদুজ্জামান খান কামাল কেন সৃষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে শেখ হাসিনাকে অবহিত করেননি?
কিছু কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, তৎকালীন প্রশাসনের একটি অংশ রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এমন তথ্য দিতে অনিচ্ছুক ছিল, যা নেতিবাচক বা অস্বস্তিকর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই অভিযোগ আরও গুরুত্ব পায় যখন এসবির কিছু প্রতিবেদনে আন্দোলনের প্রকৃত চরিত্রের বদলে সরকারসমর্থক ব্যাখ্যা বেশি স্থান পেয়েছিল।
এসবির বর্তমান প্রশাসন ২০২৪ সালের গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো বিশ্লেষণ করে ২০২৬ সালে। তারা দেখতে পায়, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী’, ‘বহিরাগত’, ‘রাজনৈতিক অপশক্তি’ এবং ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতা ছিল প্রবল। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা, বা আন্দোলনের ক্রমবর্ধমান সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা সেভাবে প্রতিবেদনগুলোতে প্রতিফলিত হয়নি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভাষায় ‘উসকানি’, ‘দুষ্কৃতকারী’, ‘চক্রান্ত’—এ ধরনের শব্দের ব্যবহার ছিল উল্লেখযোগ্য।
এসবির মাধ্যমেই পুলিশ দেশের সামগ্রিক চিত্র, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করে থাকে। এসবির গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলো প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যায়। এ জন্য সরকার অন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পাশাপাশি এসবির গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
সমালোচকদের মতে, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের একটি অংশ বাস্তবতা বিশ্লেষণের বদলে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন হয়ে উঠেছিল। তবে একই সঙ্গে আরেকটি বৈপরীত্যও দেখা যায়। এসবির কিছু প্রতিবেদনে অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনোবল দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা দখলের চেষ্টা হতে পারে—এমন সতর্কতাও ছিল। অভিযোগ হচ্ছে, এসব তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছায়নি।
এই অভিযোগের তীর সরাসরি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের দিকে। কারণ গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোর একটি বড় অংশ তার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার কথা। সুখবর ডটকমের অনুসন্ধান বলছে, গণভবন, বঙ্গভবন, সচিবালয়, বা পুলিশ সদর দপ্তরের মতো স্থাপনা দখলের আশঙ্কার কথা কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিল। কিন্তু সেসব সতর্কতা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রলীগের হামলা এবং আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সরকারের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে এটি আরও বিস্তৃত জনসম্পৃক্ততার পথ তৈরি করে দেয়। পুলিশের অনেক কর্মকর্তা তখন বুঝতে শুরু করেন, এটি আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়। শিক্ষক, পেশাজীবী, অভিভাবক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দেয়।
এসবির বর্তমান প্রশাসনের বিশ্লেষণেও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারের দমননীতি আন্দোলনের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। গণগ্রেপ্তার, বলপ্রয়োগ এবং কঠোর অবস্থান জনমতকে আরও বেশি সরকারবিরোধী করে তোলে। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব তখনও কি পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানত?
একই সময়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কিছু কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, ডিজিএফআই এবং এনএসআই সরকারবিরোধী মনোভাবের প্রকৃত তীব্রতা মূল্যায়নে ব্যর্থ হয়েছিল। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া মতপার্থক্যের বিষয়েও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে যথাযথভাবে সতর্ক করা হয়নি। আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে, যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সুখবর ডটকমের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
কয়েকজন কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদীন ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারবিরোধী তৎপরতায় সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি।
একইভাবে তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধানের একটি ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগও ওঠে। কিন্তু এসব দাবিরও স্বাধীনভাবে যাচাই সুখবর ডটকম করতে পারেনি।
এর মধ্যেই আসে ৪ আগস্ট। সেদিন আওয়ামী লীগের দেশব্যাপী সমাবেশ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু একটি গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশের পর তা বাতিল করা হয় বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগের জন্য কৌশলগতভাবে বড় ভুল ছিল। কারণ এর ফলে রাজপথ কার্যত একতরফাভাবে আন্দোলনকারীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
পরদিন ৫ আগস্ট পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর শুরু হয় ব্যর্থতার হিসাব-নিকাশ। সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা মনে করেন, গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তার মতে, বিশ্বের যেকোনো দেশে সরকার পতনের পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়।
সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদাও কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে পরবর্তী সময়ে আইজিপি মামুনের রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়টি তিনি রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনিরুজ্জামানের মূল্যায়ন আরও কঠোর। তার মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অংশ হয়ে যাওয়ার ফলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অংশ পেশাদার নিরপেক্ষতা হারিয়ে ফেলেছিল।
সব মিলিয়ে যে চিত্রটি ফুটে ওঠে, তা হলো—গোয়েন্দাদের শুধু তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থতা ছিল না; বরং তথ্যের ব্যাখ্যা, তথ্যের উপস্থাপন এবং তথ্যের রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি অবশ্য এখনও উত্তরহীন। গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে অভ্যুত্থানের পূর্বাভাস আছে, মাঠপর্যায়ের অনেক কর্মকর্তাও সতর্কবার্তা দিয়েছেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে উদ্বেগ জমে ছিল, কিন্তু সেই বার্তাগুলো কেন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে প্রতিফলিত হয়নি? সেই উত্তর খুঁজতে গেলে বারবার সামনে আসে একটি নাম—আসাদুজ্জামান খান কামাল।
তিনি কি শুধু ভুল মূল্যায়নের শিকার ছিলেন? নাকি তার মন্ত্রণালয়ের কোথাও এমন একটি ফিল্টার তৈরি হয়েছিল, যার ফলে শেখ হাসিনা দেশের বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ চিত্র দেখতে পাননি? দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি সম্ভবত এখানেই লুকিয়ে আছে।
আর সেই কারণেই আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার গল্প যতবার লেখা হবে, ততবার ফিরে আসবে আরেকটি প্রশ্ন—ক্ষমতার পতন কি রাজপথে শুরু হয়েছিল, নাকি তার অনেক আগেই তা শুরু হয়েছিল গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভেতরে, যেসব বার্তা শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছায়নি?