Image description

কারাগারে থাকার সময় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নিয়মিত গান শোনাতেন সংগীতশিল্পী ও মানিকগঞ্জের সাবেক এমপি মমতাজ বেগম। জামিনে কারামুক্তির পর নিজ বাড়িতে পৌঁছে জেলজীবনের নানা কথার প্রসঙ্গে আইভী নিজেই ফাঁস করেছেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার দুপুরে আইভীর সাথে দেখা করতে এসেছিলেন তার স্কুল জীবনের পুরোনো বন্ধুরা। তাদের সাথে গল্পের ছলে আইভী জানান, জেলে প্রায়ই কাটত মমতাজের গানের আসরে এবং সেখানে মূল পারফর্মার ছিলেন মমতাজ নিজেই।

গানের আসরে একটি বিশেষ গান গাইতে আইভী সরাসরি বারণ করেছিলেন মমতাজকে। ‘আমার ভাইয়েরে কইও নাইওর আনতো গিয়া’—এই গানটির লাইনগুলো শুনলে আইভীর মনে পড়ে যেত তার সদ্য প্রয়াত ছোট ভাই আহমদ আলী রেজা রিপনের কথা। গত ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল মাত্র ৫৫ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তার ভাই এবং তার ঠিক এক মাস পরই আইভীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ভাইয়ের স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাদের এতিম ৩ সন্তান আইভীর কাছেই বড় হচ্ছে, তাই এই গান শুনলেই কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি।
আইভী মমতাজকে বলেছিলেন যে, তিনি যেদিন জেল থেকে বের হবেন সেদিন এই গান গাইলে কোনো অসুবিধা নেই। কাকতালীয়ভাবে আইভীর মুক্তি পাওয়ার দিন বিকেলেই জেলের গানের আড্ডায় মমতাজ গেয়ে শোনান সেই গানটি। তখনও আইভী জানতেন না যে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মুক্তি পেতে যাচ্ছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় তিনি শেষ পর্যন্ত দেওভোগের বাসায় পৌঁছালে আত্মীয়স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীদের ভিড়ে এক নির্ঘুম রাত কাটে তার।

জেলে বসে আইভী লিখেছেন চমৎকার একটি কবিতা এবং লোকসংগীতের জনপ্রিয় সম্রাজ্ঞী মমতাজ দিয়েছেন সেই কবিতায় সুর এক দারুণ গান তৈরির জন্য। মুক্তি পেলে মমতাজ গাইবেন এই গান জনসমক্ষে এমনটাই জানা গিয়েছে বিশ্বস্ত সূত্রে। সাংবাদিকরা সেই কবিতার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই আইভী হেসে বলেন যে, ধুর, তিনি কি আর কবিতা লিখতে পারেন! তার মতে, কবিতাটি হয়েছে খুবই বাজে কিন্তু মমতাজ গুণী শিল্পী বলেই সেটাকে গান বানিয়েছেন।

বিকেল সাড়ে চারটায় আইভীর বাসায় এসেছিলেন সাবেক নারী কাউন্সিলর মিনুয়ারা বেগমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তাদের সঙ্গে কথা বলার এক পর্যায়ে ভাইয়ের কথা মনে করে আইভী ভেঙে পড়েন কান্নায়। সকাল থেকেই তার বাসায় চলছিল ‘গাদিরে খুম’ দিবস স্মরণে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আইভী জানান যে, জেলে বসে তিনি দোয়া করেছিলেন যেন এই পবিত্র দিবসের আগেই বাসায় ফিরতে পারেন এবং আল্লাহ তার সেই আকুতি কবুল করেছেন। জেলের অবসরে তিনি অনেক ধর্মীয় আমলও করেছেন।

 

গত বছরের ৯ মে ভোরে নিজ বাসা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এদিকে আইভী কারামুক্ত হয়ে বাসায় ফেরার আগ মুহূর্তে জেলা পুলিশ বসিয়েছে তার গেটের সামনে অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা। পুলিশ অবশ্য দাবি করছে যে, কিশোর গ্যাং দমনের অংশ হিসেবেই তারা লাগিয়েছে এই ক্যামেরা।

জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান যে, সাবেক মেয়রের সঙ্গে মানুষজন দেখা করতে পারবে স্বাভাবিক নিয়মেই। তবে আইভী কোনো পলিটিক্যাল কর্মকাণ্ড বা সভা করছেন কিনা, সেটি পুলিশ নজরদারি করবে খুব কড়াভাবে। তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে পুলিশ নেবে আইনগত ব্যবস্থা। উল্লেখ্য, টানা তিনবারের এই সফল সাবেক সিটি মেয়র হাইকোর্টের দেওয়া সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন কারাগার থেকে।