Image description

দলীয় ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক নওশাবা মুকতার সিয়ামকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১ জুন) জেলা শাখার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটি এ নোটিশ জারি করে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাবা মুকতার সিয়ামকে নিয়ে একাধিক সংবাদ ও আলোচনা প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় তাকে এনসিপির নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হলে বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। দলের দাবি, প্রকাশিত তথ্য ও আলোচিত ঘটনাগুলো সংগঠনের ভাবমূর্তি এবং সাংগঠনিক মর্যাদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এর প্রেক্ষাপটে জেলা শাখার সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি আমলে নিয়ে তার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। কমিটির আহবায়ক মুহাম্মদ হোছাইনের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, দলের একজন দায়িত্বশীল পদধারী হিসেবে নওশাবা মুকতার সিয়ামের আচরণ ও কর্মকাণ্ড দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে দলের সুনাম ও জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে তাকে অভিযোগের বিষয়ে লিখিত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান না করা হলে কিংবা ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, সংগঠনের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই নোটিশের পর নওশাবা মুকতার সিয়ামের অবস্থান ও সম্ভাব্য জবাবের দিকে নজর রাখছেন।

এ বিষয়ে নওশাবা মুকতার সিয়ামের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্র বলছে, তার লিখিত ব্যাখ্যা পাওয়ার পর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা কমিটি পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

নওশাবা মুকতার সিয়ামের দাবি, তাকে দলীয় নীতি অনুসরণ করে নোটিশ দেওয়া হয়নি। যে সব আঞ্চলিক সংবাদ মাধ্যমে তার ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে উল্টো সেসব সংবাদ মাধ্যমের রেজিষ্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।

জানা গেছে, কারণ দর্শানোর নোটিশ কোনো শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নয়, বরং অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানার একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ব্যাখ্যা পর্যালোচনার পরই দলীয়ভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।