ঈদের ছুটিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনের সামনে ছয় দফা দাবিতে মৌন মানববন্ধন পালন করেছেল নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার কয়েকজন নেতা-কর্মী।
সোমবার সকাল ৮টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ও একের পর এক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে দায়ী করে তার ফাঁসি দাবি করেন নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচি শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি সম্বলিত একটি লিখিত বক্তব্য প্রচার করা হয়। এতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের ছাত্র সংগঠনটি অভিযোগ করে, প্রধান উপদেষ্টা ‘হামের টিকার অর্থ আত্মসাৎ’ করেছেন এবং শিশু মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
সংগঠনটির ছয় দফা দাবির মধ্যে আরও আছে, সারাদেশে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ ও মামলা প্রত্যাহার, গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রলীগ কর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো বন্ধ করা, নারী ও শিশু হত্যাকারী, ধর্ষক, মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকারকারী এবং অনলাইনে নারী হেনস্তাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া, অবৈধ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলীয় নিয়োগ বন্ধ করা এবং শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিচার এবং শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ মৌন মানববন্ধনে অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপআন্তর্জাতিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ নাঈম, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক শিবলী সাদিক এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক রাজিব জামান।
আরও উপস্থিত ছিলেন বিজয় একাত্তর হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল ইসলাম, কবি জসিম উদ্দীন (মহসীন) হল শাখার উপদপ্তর সম্পাদক সাব্বির হোসাইন খোকা এবং স্যার এ এফ রহমান হল শাখার উপসাংস্কৃতিক সম্পাদক ইমরান হোসাইনসহ নিষিদ্ধ সংগঠনটির কয়েকজন নেতা-কর্মী।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মসূচির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. ইসরাফিল রতন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘এটা তো যেকোনো সময়, যে কেউ হুট করে করতে পারে, এমনকি ২-৩ সেকেন্ডের জন্যও হতে পারে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কারা জড়িত ছিল, তা শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নিশ্চিত হয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’