Image description

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন, এমন অভিযোগ করেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। প্রশাসক মোস্তাক মিয়া কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংঠনিক সম্পাদকের পদেও আছেন।

 

শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফায়েড পেজে লাইভে এসে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। এতে শিরোনাম হিসেবে তিনি যুক্ত করেন- ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, আপনারা সবাই হয়তো একটা বিষয় দেখেছেন যে, ২৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন আসিফ মাহমুদ এবং হাসনাত আবদুল্লাহ। এর মধ্যে ১৫ কোটি নিয়ে গেছেন আসিফ মাহমুদ আর ১০ কোটি নিয়ে গেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তো শিরোনাম দেখে আবার সবাই একটু প্যারা খেতে পারেন। যেমন- ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান। এটা অনেকটা এ রকমই, আগামী দিনে আমরা শুনছি যে বাজেট ধরা হবে বা প্রস্তাবিত বাজেটটা আসবে ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার। এটা তো সরকার বরাদ্দ করছে যে, এক বছরে এই বাজেট তারা নির্দিষ্ট কিছু খাতে খরচ করবে। সেটা যদি এখন আমি বলি যে, ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন তারেক রহমান, এমনভাবে বলা যে তার মানে পকেটে করে নিয়ে যাচ্ছেন, তাহলে এটা যেমন হাস্যকর এবং মানহানিকর শোনাবে, ঠিক একই রকম একটা স্টেটমেন্ট আজকে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসকের পক্ষ থেকে এসেছে।

 

এনসিপির মুখপাত্র জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সমবায় মন্ত্রণালয়ের বাজেট গত অর্থবছরে ছিল মোট ৪২ থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার মতো এবং আগের অর্থবছরে ছিল প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার মতো। এই অর্থের মধ্যে একটা অংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ। এটা যে কোনো স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী, সচিব বা প্রতিমন্ত্রী দিতে পারেন। প্রয়োজনে যদি তিনি অনুভব করেন যে, এখানে এটার প্রয়োজন আছে বা কোনো প্রজেক্টের জন্য, তবে সেটা বরাদ্দ দিতে পারেন। এর বাইরে তো সাধারণ বরাদ্দ আছেই। সাধারণ বরাদ্দটা সাধারণত অনুপাত অনুযায়ী ঠিক হয়ে থাকে। যেমন- কুমিল্লা একটা জেলা, ফেনী একটা জেলা। কিন্তু কুমিল্লা জেলাতে উপজেলার পরিমাণ ফেনীর থেকে অনেক বেশি। তো কয়টা উপজেলা আছে, জনসংখ্যা কত, ভোটার সংখ্যা কত- সেটা বিবেচনায় নিয়ে অনুপাত অনুযায়ী সাধারণ বরাদ্দটা বিভক্ত করা হয়।

 

আসিফ মাহমুদ বলেন, এই বরাদ্দটা পাঁচটা খাতে যায়- জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও সিটি করপোরেশন। এটা প্রতিবছর নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকে, যা চার কিস্তিতে অবমুক্ত করা হয়। জেলা পরিষদের যিনি প্রশাসক থাকেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডিসিরা ছিলেন পদাধিকার বলে, এখন প্রশাসক বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দিয়েছে, তার সভাপতিত্বে একটা কমিটি আসলে নির্ধারণ করে যে খরচটা কীভাবে করা হবে। তারা সেটা বসে নির্ধারণ করেন এবং চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য আবার মন্ত্রণালয়ে পাঠান।

 

তিনি বলেন, কুমিল্লার প্রশাসক প্রথমত একেবারেই কাঁচা একটা মিথ্যা কথা বলেছেন। সেটি হচ্ছে রাজস্ব খাত। রাজস্ব খাত থেকে কারও এলাকায় কোনো ধরনের বরাদ্দ নিয়ে যাওয়ার কারও কোনো সুযোগ নেই। রাজস্ব খাতের বাজেট বছরের শুরুতেই জেলা পরিষদ ঠিক করে যে, তারা কোথায় কতটুকু খরচ করবে। এটা মূলত এডিপির বিশেষ বরাদ্দ। তো উনি এটাকে রাজস্ব খাতের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেছেন।

 

এনসিপির এ নেতা বলেন, ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে। কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।

 

তিনি আরও বলেন, এই বিশেষ বরাদ্দটা সাধারণত ১০০ থেকে ১২৫ কোটি টাকার মতো হয়। এই বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ারটা মন্ত্রী বা উপদেষ্টার হাতে থাকে। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম, স্বাভাবিকভাবেই আমি সারাদেশে এটা দিয়েছি। এটার চর্চা হচ্ছে অনুরোধ বা আবেদনের ভিত্তিতে। আপনারা অনেকেই অনেক আবেদন করেন যে আমাদের গ্রামের এই রাস্তাটা করা খুব প্রয়োজন। সেই আবেদনগুলো উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আসে। মন্ত্রণালয় এগুলো আর্কাইভ করে এবং উপদেষ্টা বা মন্ত্রী সেই আর্কাইভ থেকে বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেন। বরাদ্দ দেওয়া মানেই শেষ না। বরাদ্দ দেওয়ার পরও ওই জেলার প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি কমিটি বসে ঠিক করে যে এই টাকাটা কোন কোন খাতে খরচ করা হবে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, বাজেট বরাদ্দ দেওয়াকে যদি নিয়ে যাওয়া বলা হয়, তবে এটা খুবই ইন্টারেস্টিং। বিএনপির একজন প্রশাসক আসলে নিয়ে যাওয়া এবং বরাদ্দ দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য বোঝেন না। এসএসসি পাস কাউকেও যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, তিনিও বুঝবেন রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ খাতের পার্থক্য কী। এই খরচের প্রক্রিয়ার সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে আমার বা হাসনাত আবদুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার কোনো সুযোগ নেই। এটা জেলা পরিষদ ডিসির সভাপতিত্বে সভায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ই-টেন্ডারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

এনসিপির এ নেতা বলেন, এটা এক ধরনের হ্যারাসমেন্ট এবং মানহানি। আমি আশা করবো কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক তার বক্তব্য পরিষ্কার করবেন। অন্যথায় আইনি ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। বাংলাদেশের নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা সচেতন। এ ধরনের কিছু ছড়ানোর আগে দয়া করে ক্রস চেক করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা রাখার চেষ্টা থাকবে। অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন দেখে এই ব্যাখ্যা দেওয়াটা জরুরি মনে করলাম।

 

তিনি বলেন, আপনারা চাইলে আমাদের সঙ্গে বসতে পারেন আরও স্পষ্টতার জন্য, যেমন আমেরিকাতে নতুন প্রশাসন আগের প্রশাসনের সঙ্গে বসে। জাস্ট উল্টাপাল্টা বক্তব্য না দিয়ে আপনারা আমাদের ডাকতে পারতেন।