Image description

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। তারা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ আয়োজন’ ও ‘ঝটিকা মিছিলের’ প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে দাবি পুলিশের।

শুক্রবার (২২ মে) ভোরে আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ফুল মার্কেট সংলগ্ন সড়কে এবং জুমার নামাজের পরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও আশপাশের এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ তথ্য জানানো হয় ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

পুলিশ জানায়, আজ ভোরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের সামনের রাস্তায় ‘মিছিল’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে
শেরেবাংলা নগর থানার একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে হাতেনাতে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন শ্যামল চন্দ্র (২৭), আয়াতুল হক (২৯), সিয়াম (২২), মেহেদী হাসান মিয়াদ খান (২১), তারেক রহমান (২২) ও সেলিম প্রধান শ্রাবণ (২০)।

এ দিন জুমার নামাজের পর ধানমন্ডি ৩২ এর আশপাশ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু সদস্য ‘ঝটিকা মিছিল’ ও শেখ হাসিনাকে ‘দেশে ফিরিয়ে আনার শপথ আয়োজনের’ প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন ভাঙ্গা থানা যুবলীগ সভাপতি মো. মুরাদ (৪৮), মো. আব্দুল হান্নান বিশ্বাস (২২), মো. মোস্তাক বিশ্বাস (২২), মো. রনি (১৯), মো. জনি (২৬), মুরাদ লস্কর (৩৩), মো. সিয়াম হোসেন (১৯), মো. তারিক জামিল (১৯), মো. রাজু (১৯), মো. বিল্লাল বখতিয়ার (১৮), চয়ন বিশ্বাস (১৮), অমিত চক্রবর্তী (২০), তানজিল বিন রশিদ (১৯), নিহাদুল ইসলাম (২১), সুপ্ত ঘোষ (২২), সজীব সাহা (২৪), কুতুব হিলালী (৪০), শিমুল (২১), সোহান আহমেদ (২২), মো. তামিম মোল্লা (১৮), মো. শিমুল ব্যাপারী (১৮), মো. আব্দুর রহিম (৪৫), মির্জা ফারহান আনন্দ (২২), নাইমুর রহমান সোহাগ (২৫), সোহরাব খাঁ (৪৪) ও জাহিদ খান (৩০)।

রাজধানীতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্প্রতি ভারতের একটি গণমাধ্যমে ই-মেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশত্যাগ করে ভারতে অবস্থান নেন তিনি। এর তিন দিনের মাথায় গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের অনেক নেতা গ্রেপ্তার হন।

বর্তমানে দলটির বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা আত্মগোপনে বা বিদেশে। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। সেই বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।