ভারতে দুর্নীতি বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান ‘ককরোজ জনতা পার্টির’ স্যাটায়ার আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়ার যিনি চিফ জাস্টিস তরুণদেরকে একটি কথা বলেছিলেন— ‘ককরোজ, তেলাপোকা এবং তরুণরা এগুলো বেকার’। এটা শোনার পরে তরুণরা একটা পার্টি খুলছে, ‘ককরোজ জনতা পার্টি’। এই ককরোজ জনতা পার্টির ইন্সটাগ্রামে-এ মিলিয়ন ভিউজ, যা বিজেপির থেকেও অনেক গুণ ছাড়িয়ে গিয়েছে। অনলাইনে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে ইন্ডিয়াতে করাপশনের বিরুদ্ধে, তাদের সাথে আমরা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সংহতি জানাচ্ছি। আমরা মনে করি, সাউথ এশিয়াতে যে পরিবর্তনের সূচনা এসেছে, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মিয়ানমার—সব জায়গায়, নতুন করে সাউথ এশিয়া আবার ঘুরে দাঁড়াবে, সে জায়গায় আমাদের সংহতি থাকবে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির আয়োজনে ‘বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশের বাজেট: কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও সংস্কারে অগ্রাধিকার এবং জনপ্রত্যাশার বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদে’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
সাত বছরের শিশু রামিসা হত্যাকান্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যেখানে সমাজে এমন অপরাধমূলক ঘটনা বারবার ঘটছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা, গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা অনেক পরিবর্তন দেখেছি, কিন্তু ধর্ষণসহ এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখনো ঘটছে। আমরা আশা করি, প্রতিটি শিশু নিরাপদে বড় হবে। কোনো সন্তান যেন এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয়। কোনো মা-বাবা যেন সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তায় না ভোগেন। তাই যারা ধর্ষণ করে, যারা এর পৃষ্ঠপোষকতা করে, এবং যারা এর বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রণয়নে ব্যর্থ—তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম চলবে। আমরা আমাদের সন্তানদের রক্ষা করব।
স্বরাষ্টমান্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এভাবেই পরিচালনা করতে থাকেন, তাহলে হয়তো সালাউদ্দিন ভাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন না। এটা কিন্তু স্পষ্ট কথা। তিনি যদি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, ঋণ খেলাপিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারেন, মানুষের বিভিন্ন জায়গায় যে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে সেগুলো বন্ধ করতে না পারেন এবং সীমান্ত এলাকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে সেই জায়গায় প্রশ্ন উঠবে। আপনি যতই সংবিধান বিশেষজ্ঞ হন না কেন, যদি দায়িত্বের জায়গায় কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারেন, তাহলে ওই জায়গায় আমরা আপনাকে চাই না।
তিনি বলেন, করের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, গরিব মানুষ কর দেয়, আর বড়লোকরা কর দেওয়া তো দূরের কথা, অনেক সময় তারা কর ফাঁকি দিয়ে থাকে। বাংলাদেশে যদি আমরা কর ব্যবস্থা শক্তিশালী না করি, তাহলে নাগরিকদের এবং রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যাবে। মানুষ ভাববে আমি গরিব বলে কর দিতে হবে, আর তুমি বড়লোক বলে দেবে না—এই বৈষম্য থেকে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা হারাবে। তখন টিন সার্টিফিকেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় মানুষ বলবে আমি ট্যাক্স দেব না, হাইড করার চেষ্টা করবে। রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব হলো সুনাগরিক তৈরি করা। যদি রাষ্ট্র সেটা না করতে পারে, তাহলে রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে চলে যায়। এনসিপি ক্ষমতায় আসলে, বড় বড় কর ফাঁকিবাজদের ট্যাক্সের আওতায় আনা হবে। যত বড় লোকই হোক, আমরা তাদের সাথে মোকাবেলা করবো।
তিনি আরও বলেন, যখন সোশ্যাল মিডিয়ায় হত্যাকাণ্ড, দখল, চাঁদাবাজি চলে, তখন বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগ না এলে কর্মসংস্থান হবে কোথায়? অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা সচিবালয়ে না গিয়ে রাজনৈতিক পার্টি অফিসে যায়, কারণ সেখান থেকেই গ্রিন সিগনাল আসে। চাইনিজ ইনভেস্টররা পর্যন্ত বলে, টাকা দিলে ফ্যাক্টরি সেটআপ করা যায়, না দিলে বিদেশে চলে যেতে হয়। ব্যাংকিং খাত সংস্কার নিয়েও সমস্যা আছে। একজনকে বসানো হয়েছে, যার বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ব্রোকারেজ হাউজের টাকা মেরে দেওয়া হয়েছে। এটা আমাদের দেশের বাস্তবতা। পুঁজিবাজার উন্নয়ন নিয়ে বলি, পুঁজিবাজারে সালমান রহমানসহ অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি মানুষের টাকা নষ্ট করেছে। অনেক মানুষ আত্মহত্যা করেছে, নিঃস্ব হয়েছে। যদি আস্থা না থাকে, অর্থনীতি চলবে না। ব্যাংকিং খাতে যদি কেউ টাকা রেখে মনে করে নিরাপদ, পরে যদি সেটা হারিয়ে যায়, তাহলে রাষ্ট্রের ওপর আস্থা থাকে না।