Image description

শিক্ষার সর্বস্তরে কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত, শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২০ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দসহ ১৫ দফা দাবি উত্থাপন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচার বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে দেশের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শিক্ষা বাজেট প্রস্তাবনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এতে সভাপতিত্ব করেন।

 

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ১৫ দফা দাবি হলো—

১. প্রাথমিক শিক্ষা দশম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করতে হবে।

২. শিক্ষার সর্বস্তরে কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত এবং প্রাথমিক স্তরে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

৩. প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিক পর্যন্ত পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে।

৪. কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হার ৩০ শতাংশে উন্নীত করতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

৫. পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব ও শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় কমাতে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।

৭. শিক্ষিত বেকারদের সহজ শর্তে ঋণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

৮. নারী শিক্ষার্থীদের অবাধ চলাফেরা, নিরাপত্তা ও স্বাতন্ত্র্যতা বজায় রাখতে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আলাদা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় বাজেটে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

৯. দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট বাজেটের কমপক্ষে ১০ শতাংশ গবেষণা ও উদ্ভাবনে বরাদ্দ রাখতে হবে।

১১. কওমি মাদ্রাসার উন্নয়ন, সনদের সমমান নিশ্চিত ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

১২. কওমি শিক্ষার্থীদের দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

১৩. আলিয়া শিক্ষার মান বৃদ্ধি, অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণে প্রকল্প ও প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিতে হবে।

১৪. প্রতি জেলায় একটি করে কামিল মাদ্রাসা সরকারিকরণে ব্যবস্থা নিতে হবে।

১৫. প্রতিটি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসক সংকট দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ ছাড়াও শিক্ষা বাজেট প্রস্তাবনায় খাতভিত্তিক আলোচনায় আরও বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

 

শিক্ষা বাজেট প্রস্তাবনা নিয়ে সভাপতি মুনতাছির আহমাদ বলেন, বাজেট এমন হওয়া উচিত, যাতে উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত থাকে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ না পড়ে।

 

বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন হবে—এমনটাই আশা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের।