Image description

বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেছেন, রাজধানীর কাওরান বাজারে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয়। এর মধ্যে এই বাজারের কয়েকটি পাইকারি মুরগির দোকান থেকেই মাসে প্রায় ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। অন্যদিকে সরকারি দল বিএনপি’র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহ্‌মুদা হাবীবা জামায়াতের এমপি’র দাবিকে ‘ঢালাও অভিযোগ’- হিসেবে অভিহিত করে তাকে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। এ সময় চাঁদাবাজি নিয়ে দুই এমপি’র মধ্যে কিছুক্ষণ বাহাস হয়।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট-২০২৬-২৭: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও নাগরিক প্রত্যাশা’Ñ শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন সরকারি ও বিরোধী দলের এই সংসদ সদস্যরা। প্রাক-বাজেট সংলাপ সঞ্চালনা করেন- বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সিপিডি’র বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক একে এনামুল হক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফজলুল হক।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, মানুষের কষ্ট বাড়ছে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় দ্রব্যে আমদানি শুল্ক কমানো প্রয়োজন।’ এ ছাড়া জ্বালানির দাম আর না বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। এএইচএম সফিকুজ্জামানের কথার সূত্র ধরে দ্রব্যমূল্য বাড়ার ক্ষেত্রে চাঁদাবাজির প্রভাব নিয়েও কথা বলার পরামর্শ দেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
নিজের সংসদীয় এলাকা তেজগাঁও-কাওরান বাজারের পরিস্থিতি তুলে ধরে সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আমি তো আসলে চাঁদাবাজি এরিয়ার এমপি। আমাদের কাওরান বাজারে দৈনিক প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা কালেকশন হয়। কাওরান বাজারে কয়েকটা পাইকারি মুরগির দোকান আছে, তাদের কাছ থেকে মাসে ৬০ লাখ টাকা চাঁদা নেয়া হয়। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি নিয়ে বলতে গেলে একদিন সময় লাগবে।’ সাইফুল আলম খান বলেন, ‘এই চাঁদাবাজি যারা করে, ওপরে তারা রাজনৈতিক নেতা, ভেতরে চাঁদাবাজ। এটা আগের সরকারের লোকেরা করতো, এখন কারা করে তা আর এখানে বলছি না।’

জামায়াতের এমপি’র এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানান- অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপি’র সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেব বলছেন, তার এলাকায় চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং সেটা তিনি জানেন না, কারা করছেন। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। কারা চাঁদাবাজি করছে তার একটা স্পষ্ট তালিকা তার (জামায়াতের এমপি) কাছে থাকা উচিত এবং এই তালিকা নিয়ে তার আইনের কাছে যাওয়া উচিত।’ মাহমুদা হাবীবা আরও বলেন, ‘টকশোতে বা গোলটেবিলে বসে এ ধরনের আলোচনায় আমরা কথা বলতেই পারি। কিন্তু পাঁচটা নাম যখন দিতে পারি না, সেটা তখন ঢালাও বক্তব্য হয়ে যায়। আমার সংসদীয় এলাকায় যারা চাঁদাবাজি করবে, সে সরকারি দল হোক বা বাইরের দল হোক, আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো এবং সেখানে আমি অবশ্যই আইনের আশ্রয় নেবো। তাই আমি জামায়াত এমপি’র দাবি প্রত্যাখ্যান করছি।’
বিএনপি নেত্রী মাহমুদা হাবীবার এমন মন্তব্যের জবাবে জামায়াতের এমপি সাইফুল আলম খান বলেন, ‘আগেও সরকারি দলের লোকেরা চাঁদাবাজি করতো, এখনো সরকারি দলের লোকেরাই চাঁদাবাজি করছে।’

সাইফুল আলম আরও বলেন, ‘আমার এলাকার সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজির এলাকা হলো কাওরান বাজার। আগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন। তিনি আমার মহল্লার লোক, আমি সব পরিষ্কার জানি। কাওরান বাজারের চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে যুবদলের একজন নেতা মুসাব্বির নিহত হয়েছিলেন। বিএনপি’র এমপি মামলা করার কথা বলেছেন। কিন্তু পুলিশ চাঁদাবাজি নিয়ে সরকারি দলের লোকের বিরুদ্ধে মামলা নেয় না।’

চাঁদাবাজি নিয়ে বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ্উদ্দিন আহমদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান- সাইফুল আলম খান। তিনি বলেন, ‘আমি তার সহযোগিতা চেয়েছি। একজন মন্ত্রী আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করতে। আমি চাচ্ছি কাওরান বাজার, মহাখালী বাসস্ট্যান্ড ও তেজগাঁও অঞ্চলে যে চাঁদাবাজি হচ্ছে, তা বন্ধ হোক।’