দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামী ছাত্রশিবিরকে উদ্দেশ্য করে ‘গুপ্ত গুপ্ত’ স্লোগানের প্রচলন করেছে দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রসংগঠনগুলো। সমালোচনার ক্ষেত্রে প্রায়ই এই শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায় প্রতিপক্ষকে। তবে এবার সেই স্লোগানকেই উলটো ব্যঙ্গ করে নিজেরাই প্রচারণা চালিয়েছে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (১৬ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে একটি ব্যানারে দেখা যায়, বড়ো অক্ষরে লেখা “এই গুপ্ত গুপ্ত…”। ব্যানারের এক পাশে ইশারা করা কার্টুন চরিত্র এবং অন্যপাশে “Ok” লেখা সংলাপের মাধ্যমে পুরো বিষয়টিকে হাস্যরসাত্মকভাবে উপস্থাপন করেছে তারা। ব্যানারটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি করেছে।
শিবিরের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে আসা ২০২৫-২৬ সেশনের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী তানভির হোসাইন বলেন, ‘তাদেরকে (শিবির) অন্য ছাত্রসংগঠনগুলো যেভাবে ব্যঙ্গ করে 'গুপ্ত' বলে, তারা এই বিষটিকেই কাজে লাগিয়ে ইতিবাচকভাবে প্রচার করছে। জিনিসটা সুন্দর এবং ফানি। আগে তো এমন কিছু দেখিনি। তবে বিষয়টা ভালো লেগেছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক মো. মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন, এই ট্যাগ মূলত সামনের দিনে শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুম নির্যাতন করার জন্য একটি ন্যারেটিভ। আমরা শুরুতেই সেই ন্যারেটিভকে একেবারে ভেঙে দিতে চাই।
তিনি আরও বলেন, মূলত ‘গুপ্ত, গুপ্ত’ হচ্ছে এখনকার একটা ট্রেন্ড। আর সমসাময়িক যে ট্রেন্ডিং চলছে এবং যে উক্তিগুলো আছে, সেগুলোকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য হলো, শিক্ষার্থীদের যতটা অ্যানগেজ রাখা যায়। আমাদের প্রচার তো আর আমরা করি না, নানান ট্যাগ দিয়ে আমাদের প্রতিপক্ষরাই এই কাজ করে দেয়। এজন্যই মূলত আমরা এই ব্যানার লাগিয়েছি।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহা. মহিউদ্দিন খান বলেন, আমরা দেখানোর চেষ্টা করেছি যে, তারা ভিত্তিহীন কিছু যুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে দাবি করছে শিবির গুপ্ত, সেটাকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হাস্যরস হিসেবে নেয়। এই ন্যারেটিভকে সবাই এতটাই তুচ্ছভাবে নিয়েছে যে, আমরা দেখেছি শিক্ষার্থীরা এটাকে সত্য মনে করে না। গুপ্ত লিখা চিত্রায়ণের বিপরীতে শিক্ষার্থীরা এটা নিয়ে কেমন মজা করছে, তা দেখলেই বোঝা যায়।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের ছাড়ানো এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা প্রমাণ করে যে, এটা কেবল একটা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেেই ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও শিক্ষার্থীরা তাদের এসব ন্যারেটিভে সাড়া দিচ্ছে না।