বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ। আবার যে কয়েকটি সংগঠনের মেয়াদ আছে, সেগুলোর শীর্ষ নেতারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে কেউ কেউ মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। তাই তারা আগের মতো সংগঠনকে সময় দিতে পারছেন না। সময়ের বাস্তবতায় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
এর মধ্যে বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২০২৪ সালের ২৯ মার্চ গঠিত রাকিবুল ইসলাম রাকিব-নাছির উদ্দীন নাছিরের কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় যে কোনো সময় নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জন চলছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা চান, সুপার ফাইভ কমিটি নয়; বরং ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হোক। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ছাত্রদলের বয়সসীমা থাকায় অনেক নেতাকর্মীর শেষবারের মতো কমিটিতে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
একই সঙ্গে গুঞ্জন চলছে, বিএনপির যুব সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের পূর্ণাঙ্গ অথবা নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। বর্তমানে সুপার সেভেন বা সাত সদস্যের কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে আরেক সদস্য বাড়িয়ে ৭ সদস্যের কমিটি করা হয়। কিন্তু দেড় বছরেও তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে পারেননি।
এর মধ্যে যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতৃত্ব পাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবে সংসদীয় এলাকার জনগণকে সময় দিতে গিয়ে যুবদলকে আগের মতো সময় দিতে পারছেন না তিনি। সেই বাস্তবতায় যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণার গুঞ্জন চলছে।
এদিকে, বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিত্বও পেয়েছেন। এরপর থেকে তারা আগের মতো নেতাকর্মীদের সময় দিতে পারছেন না। এর আগে ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল ২৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে ২১৩ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। এই কমিটির মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তাই স্বেচ্ছাসেবক দলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি যেকোনো সময় ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি।
কিন্তু ‘ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়’—প্রবাদের মতো সুপার ফাইভ কমিটির কথা শুনলেই ভয় পাচ্ছেন ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। তাই যুবদলের নেতাকর্মীরা আবার সুপার ফাইভ কমিটি হোক, তা চান না। বরং তারা চান বর্তমান কমিটিই পূর্ণাঙ্গ করা হোক। তুলনামূলক জুনিয়র নেতাকর্মীরা আবার দেড় থেকে দুই বছর পদ পেতে অপেক্ষা করতে নারাজ। বিশেষ করে বয়সসীমার কারণে ছাত্রদল থেকে বাদ পড়া নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন পরিচয়হীন রয়েছেন। তারা চান দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হোক। একই সঙ্গে ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিও সুপার ফাইভ না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ করা হোক।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভিড় করা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, আগের মতো যদি এসব সংগঠনের সুপার ফাইভ কমিটি করা হয়, তাহলে আবার তাদের পদ পেতে দেড়-দুই বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। আবার এই সময়ের মধ্যে যদি কমিটিতে পদ পেতে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়, তাহলে অনেক ছাত্রদল নেতার বয়সসীমা পেরিয়ে যাবে। অর্থাৎ তারা কমিটিতে পদ পাওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়বেন।
অন্যদিকে, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে শেষবারের মতো পদ পেয়ে বিদায় নিতে চান অনেক নেতাকর্মী। তারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনপ্রতিনিধি হতে চান এবং জাতীয়তাবাদী চেতনার মূল দল বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান। তাই তারা সুপার ফাইভ কমিটির বিরোধিতা করছেন এবং যুবদলের কমিটি পুনর্গঠন করে পূর্ণাঙ্গ করার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি চায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, বিএনপির এই অন্যতম সংগঠনটি যুবদলের পরেই সাবেক ছাত্রদল নেতাদের পছন্দের সংগঠন। কিন্তু ছাত্রদল থেকে বাদ পড়ে ইতোমধ্যে পদ-পদবী ছাড়াই বছরের পর বছর পার করেছেন অনেকে। তাই জীবনের মূল্যবান সময় আর নষ্ট না করে পদ-পদবী পেলে দীর্ঘদিনের পরিচয়হীন রাজনৈতিক জীবনে গতি আসবে।