Image description

শিক্ষার্থীকে জেরার ভিডিও ধারণ করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্যকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল কর্মীর বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় বিজয় বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল। সেখানে হঠাৎ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে সেটির ভিডিও ধারণ করেন ডুজার সদস্য ও প্রাইম বাংলাদেশের ঢাবি প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাত। এ সময় এক ছাত্রদল কর্মী তাকে ভিডিও করতে বাধা দেন।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিক সিফাত নিজের পরিচয় দিলে নিভান বলেন, ‘সাংবাদিক হয়েছে তো কী হয়েছে, এখানে কোনো ভিডিও করা যাবে না।’ এ সময় ডুজার আরও দুই সদস্য দৈনিক মানবজমিনের ঢাবি প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের ঢাবি প্রতিনিধি হারুন ইসলাম প্রতিবাদ জানালে তারাও হেনস্তার শিকার হন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও মানবজমিন প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমি আমার এক সহকর্মীকে নিয়ে হলের দিকে আসছিলাম। এ সময় দেখি, আমাদের এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও সে আমাদের সঙ্গেও একই আচরণ করে। একপর্যায়ে সে আমাদের দিকে তেড়ে আসে। পরে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা তাকে সরিয়ে নেন।’

জানা যায়, হেনস্তাকারী ওই ছাত্রদল কর্মীর নাম নাভিদ আনজুম নিভান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শেখ মুজিবুর রহমান হলের ছাত্র। ক্যাম্পাস ছাড়াও হল ছাত্রদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়ে থাকেন নাভিদ।

‘এক সহকর্মীকে নিয়ে হলের দিকে আসছিলাম। এ সময় দেখি এক সিনিয়র সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে। আমরা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পরও সে আমাদের সঙ্গেও একই আচরণ করে। একপর্যায়ে সে আমাদের দিকে তেড়ে আসে।’- ভুক্তভোগী সাংবাদিক

সাংবাদিক সমিতির এক সদস্য জানান, প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হল সংসদ রুমের দরজার পাশে 'গুপ্ত' লেখাকে কেন্দ্র করে হল সংসদের পাঠকক্ষ সম্পাদক  সাথে ছাত্রদল নেতাদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। তারপর তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে হল শাখা ছাত্রদল।  মিছিলে ভিডিও করতে গেলেই সাংবাদিকে হেনস্তা করে ওই ছাত্রদল কর্মী।

সংশ্লিষ্ট ওই ছাত্র পোস্টেড নয় দাবি করলেন কর্মী বলে স্বীকার করে ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামি। তিনি বলেন, ‘নিভান ছাত্রদলের পোস্টেড কেউ নয়। আমরা সাংবাদিক সমিতির সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

এদিকে ঘটনার পর বিষয়টি সুরাহায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আসেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিম, জগন্নাথ হলের ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি পল্লব চন্দ্র বর্মণ। এ সময় তারা সাংবাদিক সমিতির সভাপতিসহ অন্যান্য সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দুঃপ্রকাশ করেন।

সাংবাদিক সমিতির এক সদস্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতিসহ আরও কয়েকজন নেতৃবৃন্দ সাংবাদিক সমিতিতে এসেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তারা দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সতর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন।