Image description

অনেক বড় মাপের রাজনৈতিক ক্রাইসিস না থাকলে শিবিরের নেতা-কর্মীদের পড়াশোনাটা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও অনলাইন এক্টিভিস্ট ড. মির্জা গালিব। তিনি বলেছেন, ‘দেশ এবং সমাজে আমর বিল মারুফ আর নেহি আনিল মুনকারের কাজ করার জন্য সততা এবং যোগ্যতা সম্পন্ন নাগরিক গড়ে তোলাই শিবিরের প্রধান কাজ। পরীক্ষার আগের কয়েক মাস পুরোটা সময় পড়াশুনায় দিলে তাতে ইমেডিয়েটলি সাংগঠনিক কাজে যতটুকু গ্যাপ হবে, তার চাইতে দীর্ঘমেয়াদে লাভ বেশি হবে।’

শনিবার (৪ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে একথা বলেছেন মির্জা গালিব। তিনি লিখেছেন, ‘আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির করতাম, তখন ঢাকার একটা ইন্টারমেডিয়েট কলেজের শিবিরের যে শাখা ছিল, তার তত্ত্বাবধান করত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সাধারণত, ঢাকার যে কোণো কলেজ মহানগরী শাখার অন্তর্ভুক্ত থাকত। কিন্তু এই কলেজ থেকে যেহেতু অনেক ছাত্র পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ভর্তি হতো, সেই কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এর তত্ত্বাবধান শুরু করে।’

তিনি বলেন, ‘এই কলেজে শুধু ইন্টারমেডিয়েট ছিল। ইন্টারের ছাত্ররা বয়সে ছোট, আবার এই সময় লেখাপড়ার চাপও বেশি থাকে। এই কারণে তাদের শিবির করা মানে কিছু বইপত্র পড়া, নামাজ-রোজা যাতে ঠিকমতো করে তার মোটিভেশন, আর অ্যাকাডেমিক পড়াশোনা যাতে ভালোভাবে করে, তার মোটিভেশন- এইটুকুই। এর বাইরে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না তাদের জন্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘তখনকার একদিন। বিএনপি জোট সরকারের পরে, ২৮ অক্টোবরের পরের সময়। রাজপথ তখন উত্তপ্ত। একদিন পল্টনে এক জনসভায় গিয়ে দেখি সেই কলেজ শাখা থেকে ইন্টারে পড়া অনেকগুলো ছেলে জনসভায় আসছে। জনসভা শেষ হবার পরে মিছিল। রাজনীতির উত্তেজনায় তারা চলে এসেছে।’

ওইখান থেকে তাদেরকে তখনই ফেরত পাঠান জানিয়ে মির্জা গালিব বলেন, ‘মিছিল-মিটিং করা আমাদের কাজ ছিল। তারা মাত্র কলেজে পড়ুয়া ছোট মানুষ। রাজনীতি করা তাদের কাজ না। তাদের কাজ ভালভাবে পড়াশোনা করা। এই কলেজ শাখা থেকে শিবিরের অনেক কর্মী পরে অনেক বড় হয়েছে জীবনে। সংগঠন, দেশ, জাতি, উম্মাহর অনেক বড় খেদমত করছে এখন।’ 

মির্জা গালিব বলেন, ‘এই স্মৃতিচারনটুকু এই কারণে করলাম, মাস দুই পরে ইন্টার পরীক্ষা। শিবিরের যে সব নেতা-কর্মীরা ইন্টার পরীক্ষার্থী, সব শাখা দায়িত্বশীলদের উচিৎ তাদেরকে এখন সকল প্রকার সাংগঠনিক কাজ থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া। যাতে তারা পড়াশোনায় পুরোটা সময় দিতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবন অনেক লম্বা। জীবনের সকল কাজ এক সময়ে করে ফেলা জরুরি না। যে সময় যেই কাজের জন্য বেশী দরকারি, তখন সেই কাজটাই গুরুত্ব দিয়ে করতে হয়। খেলার সময় খেলা, পড়ার সময় পড়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিবিরের যে সব দায়িত্বশীলদের তত্ত্বাবধানে ইন্টারের সাথী বা সদস্য আছে, তাদেরকে অনুরোধ করব, পরীক্ষার্থীদের কাজ কমিয়ে দিয়ে হেল্প করার জন্য, পারলে পরীক্ষা পর্যন্ত পুরো ছুটি দিয়ে দিতে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সংগঠন এবং উম্মাহরই লাভ হবে।’

মির্জা গালিব বলেন, ‘আপনার কর্মী তার জীবনের লম্বা সময় অতিক্রম করার পরও একদিন মনে করবে, আমার যিনি দায়িত্বশীল ছিলেন তিনি আমার পরীক্ষার আগে আমার পরীক্ষার জন্য আমার চেয়ে বেশী টেনশন করতেন। দায়িত্বশীল ভাইরা সব সময় মনে রাইখেন, ভালোবাসা আর যত্ন দিয়ে আগলে রাখা একটা চারাগাছ বড় করার যে সৌন্দর্য, সেটাই আমাদের সাংগঠনিক জীবনের সবচাইতে বড় অর্জন।’