রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ছাত্রদলের দুই নেতার মধ্যে মাদক ব্যবসা ও অবৈধ কমিশন আদায়ের অভিযোগ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। একপক্ষ ফেসবুক লাইভে মাদক ব্যবসার অভিযোগ আনার পর এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে কমিশন আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন অন্য পক্ষ।
বৃহস্পতিবার গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি পুনম মৃধা ফেসবুক লাইভে এসে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মো. ফারুক শেখের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, ফারুক শেখ মদ, গাঁজা, হেরোইনসহ সব ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এমনকি তার দেওয়া ‘ভেজাল মদ’ খেয়ে ছাত্রদল নেতা তুষার, জাহিদ ও শিপন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তুষারের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে উল্লেখ করেন।
এই অভিযোগের প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন মো. ফারুক শেখ। তিনি দাবি করেন, পুনম মৃধা তাকে দৌলতদিয়ায় মাদক ব্যবসার ‘কমিশন’ আদায় করে দিতে বলেছিলেন। তিনি রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছেন। ফারুক শেখ আরও বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী এবং বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। গ্রুপিংয়ের কারণে আমার ও অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।’ এ বিষয়ে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেন।
ছাত্রদল নেতা তুষার আহমেদ জানান, পুনম মৃধা লাইভে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় ভর্তির যে দাবি করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তুষার বলেন, ‘আমি যদি হাসপাতালেই থাকতাম, তবে আজ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে পারতাম না।’ ফারুক শেখের সঙ্গে রাজনীতি করার কারণেই তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আলী শিপন বলেন, ‘পুনম মৃধা যে অভিযোগ করেছেন, তা বিভ্রান্তিমূলক। ফারুক শেখের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্টতার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এবং বিভ্রান্তি ছড়ানোয় পুনম মৃধার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’