বিশ্বের এক নম্বর শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করেছে ইরান। শুক্রবার ইরান এ দাবি করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দুই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আছেন একজন। তাকে খুঁজছে তেহরান। এসব পাইলটকে উদ্ধারে শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী। প্রথম বিমানটি ছিল দুই আসনের একটি মার্কিন এফ-১৫ই জেট। এটি ইরানের ভিতরে ভূপাতিত হয়। এ সময় তারা দু’জন বিমানটি থেকে বেরিয়ে আসেন। মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এর দুই ক্রুর একজনকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী উদ্ধার করেছে। অন্যজন নিখোঁজ। মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানে একজন পাইলট ও একজন অস্ত্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা থাকেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি তাদের মধ্যে কে ছিলেন, তা স্পষ্ট নয়। দ্বিতীয় বিমানটি ছিল একটি এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান। এটি কুয়েতের আকাশে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে বিধ্বস্ত হয়। এর পাইলট বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন।
নিখোঁজ পাইলটকে খোঁজার অভিযানে অংশ নেয়া দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার শিকার হয়। তবে সেগুলো ইরানের আকাশসীমা থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হয় বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন কেউই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।
এনবিসি নিউজকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এফ-১৫ হারানো ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, ‘না, একদমই না। না, এটা যুদ্ধ।’
ঘটনাটি ঘটেছে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর, যখন ট্রাম্প বলেন যে ইরানের সামরিক শক্তি এতটাই দুর্বল হয়ে গেছে যে ‘আমরা সরাসরি তেহরানসহ তাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় উড়োজাহাজ ওড়াচ্ছি, তারা কিছুই করতে পারছে না।’
ইরানের ঘোষণা: মার্কিন পাইলট ধরলে পুরস্কার
ইরানের একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদক জানান, যে কেউ মার্কিন পাইলটকে জীবিত ধরতে পারলে তাকে মূল্যবান পুরস্কার দেয়া হবে। ইরানের এক গভর্নরও ঘোষণা দেন, যে কেউ ‘শত্রু বাহিনীর সদস্যদের’ আটক বা হত্যা করতে পারবে, তাকে সম্মাননা দেয়া হবে। ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের একটি এলাকায় তারা তল্লাশি চালাচ্ছে। ওই এলাকায় বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ এখন ‘শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন’ থেকে নেমে এসে পাইলট খোঁজার পর্যায়ে এসেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের যুদ্ধ কৌশলকে তিরস্কার করে এক্সে লিখেছেন, ‘ইরানকে টানা ৩৭ বার হারানোর পর, তারা যে অসাধারণ কৌশলহীন যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা এখন ‘শাসন পরিবর্তন’ থেকে নেমে এসে দাঁড়িয়েছে ‘এই! কেউ কি আমাদের পাইলটদের খুঁজে দিতে পারবে?’- কী অসাধারণ অগ্রগতি! একেবারে প্রতিভাবান!’