Image description

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। শনিবার বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বৈঠক শেষে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান

তিনি বলেন, ‘সংস্কারকে ধামাচাপা দিয়ে সরকার শুধুমাত্র সংবিধানের সংশোধনী আনতে চায়। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার মতোই ফ্যাসিবাদী পথে হাঁটছে৷’

এর আগে বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দলের কর্মকাণ্ডে আমরা খুব বিস্মৃত, আহত ও মর্মহত।

সংবিধান সংশোধন, নাকি সংস্কার এই প্রশ্নে মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল। সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনে সরকারী দলের প্রস্তাবে রাজি নয় বিরোধীদল। তাদের দাবি, সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলো সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তন সম্ভব নয়, এর জন্য দরকার সংস্কার। তাই সংশোধন নয় বরং সংবিধান সংস্কারে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে তারা। তবে বিশেষ কমিটিতে সব বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি দলের চিফ হুইপ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের আনুপাতিক হারে গঠিত হবে কমিটি।

সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে আইনসভায় নতুন বিরোধ। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। মঙ্গলবার সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, এই আইনকে অন্তহীন প্রতারণার দলিল বলে মন্তব্য করেন। আর জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্র

তবে সরকারি দলের এই প্রস্তাবে মঙ্গলবার বিরোধী দল সমর্থন জানালেও পরদিন তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ, বিচারবিভাগ বিকেন্দ্রীকরণ কিংবা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা হলে পরবর্তী বাতিল হতে পারে। তাই সংবিধান সংস্কার বিষয়ক বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তারা। একই সঙ্গে কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দরের সমান সংখ্যক সদস্য রাখার দাবি তাদের। বুধবার এসব কথা বলেন জামায়াত ও এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রচলিত সাংবিধানিক যে আইনটি রয়েছে তার আলোকে সংবিধানের বেসিক ফিচার দুই তৃতীয়াংশ মেজরিটির বলে সংশোধন করতে পারেন না। এজন্য আমাদের সংবিধানকে সংস্কার করতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি সংবিধান সংস্কার কমিটি করেন সেখানে আমাদের অংশগ্রহণ করা তো কঠিন।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘যে মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তনের কথা আমরা বলছি যেমন- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল ১০ বছর হওয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন ফর্মুলা উচ্চকক্ষ অনুযায়ী হওয়া, সাংবিধানিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে সেখানে নিয়োগের জন্য আলাদা আলাদা বডি থাকা। এই প্রতিটা বিষয়ে আমরা যদি সত্যিকার অর্থে একটা কাঠামোগত পরিবর্তন চাই সেক্ষেত্রে এটাকে টেকসই করার জন্য গাঠনিক পরিবর্তন সমৃদ্ধ একটা বডি প্রয়োজন যেটা কোনোভাবেই সংশোধনীর মাধ্যমে সম্ভব নয়।’

তবে বর্তমান সংবিধানকে ভিত্তি ধরেই প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে চায় সরকারি দল। সরকারদলীয় চিফ হুইপ জানান, আনুপাতিক হারে ১৫-২০ জন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি আইন বিশেষজ্ঞরা থাকবেন গঠিত কমিটিতে। যেখানে সব বিষয়েই আলোচনা হবে।

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সরকারের অত্যন্ত সদিচ্ছা আছে যে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। আমাদের অনেক কিছুই করতে হবে। কাজেই সে সংবিধান সংশোধন করার জন্য একটা কমিটি করতে হবে। সেটা হলো আমরা সকল দলের রিপ্রেজেন্টেটিভ রাখতে চাই। তারপরে আনুপাতিক হারে বিরোধীদলের রিপ্রেজেন্টেটিভ যারা থাকে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা এক দুইজনকে রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে আমরা একটা সংবিধান সংশোধন কমিটি করবো।’

বুধবার সকালে সংসদ কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে ১০ এপ্রিলের মধ্যে এমপিদের আবাসন ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা কেন্দ্র, সুপেয় পানি ও ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং সাউন্ড সিস্টেম সমস্যার সমাধান নিয়ে গঠিত কমিটির অগ্রগতির খোঁজ খবর নেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।আস