Image description

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়া পারমাণবিক চালিত সাবমেরিনের একটি নতুন বহর তৈরির পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

অকাস চুক্তির অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রথমবারের মতো কমপক্ষে তিনটি পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন সুবিধা পাবে অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাজ্যের তৈরি রোলস-রয়েস চুল্লি সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি নতুন বহর তৈরি করতে কাজ করবে মিত্ররা ।

বেইজিং এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় নৌ চুক্তি শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চীনের জাতিসংঘ মিশনও পশ্চিমা মিত্রদের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাসকরণ প্রচেষ্টাকে পিছিয়ে দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, এই অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখাই এই চুক্তির লক্ষ্য। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সাবমেরিনগুলো পারমাণবিক শক্তি চালিত হবে, পারমাণবিক সশস্ত্র নয়।’

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোতে যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক এবং অ্যান্টনি আলবানিজ এর সাথে কথা বলার সময় বাইডেন বলেছিলেন, এই চুক্তি অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবকি অস্ত্র মুক্ত দেশ হওয়ার প্রতিশ্রুতির ভঙ্গ করবে না।

চুক্তিটি মার্কিন মিত্রের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় উদাহরণ হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের পর অস্ট্রেলিয়া হবে ওয়াশিংটনের অভিজাত পারমাণবিক অস্ত্র প্রযুক্তি গ্রহণকারী দ্বিতীয় দেশ। সাবমেরিনগুলো দেশে বিদ্যমান ডিজেল-ইঞ্জিন বহরের চেয়ে আরও দ্রুত কাজ করতে সক্ষম। অস্ট্রেলিয়াও প্রথমবারের মতো শত্রুদের বিরুদ্ধে দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হবে।

চুক্তির অধীনে, পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিনগুলি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা শিখতে অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর নাবিকদের এই বছর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের সাবমেরিন ঘাঁটিতে পাঠানো হবে।

পরিকল্পনাটি যুক্তরাজ্য এবং অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন ডিজাইন যাকে SSN-AUKUS বলা হচ্ছে। এই অ্যাটাক ক্রাফটে ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ার ডিজাইনে তৈরি করা হবে। তবে তিনটি দেশের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

২০২৭ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় অল্প সংখ্যক পারমাণবিক সাবমেরিন স্থাপন করবে বলে জানানো হয়।