Image description

সম্প্রতি ‘রিকনসিলিয়েশন’ নিয়ে কিছু আলোচনা শুনতে পাচ্ছি। রিকনসিলিয়েশন অর্থ পুনর্মিলন, সমঝোতা কিংবা বিরোধ মিটিয়ে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। ব্যক্তিগত কিংবা সামাজিক জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সংঘাত কমানো ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠার জন্য আলোচনা হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের প্রসঙ্গ উঠলে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

কাদের সঙ্গে এই সমঝোতা? কী শর্তে? কার উদ্যোগে? জনগণের কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—এই উদ্যোগ কি ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে, নাকি অতীতের অন্যায়-অপরাধের দায় মিটমাট করে একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে পুনর্বাসনের পথ তৈরি করবে?

আমার অবস্থান স্পষ্ট—দেশের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে দায়মুক্তিমূলক রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের কার্যকর সমাধান এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা।

দেশের মানুষকে নিরাপত্তা ও স্বস্তি দিতে পারলে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারলে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে পারলেই স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্ত হবে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতাকে সেই কাজগুলোর পূর্বশর্ত হিসেবে দেখার যুক্তি খুঁজে পাই না।

এই রিকনসিলিয়েশনের আলোচনার পেছনে কার কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা নিশ্চিত করে বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কেউ কেউ হয়তো ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সম্ভাব্য উত্থান কিংবা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজন অনুভব করছেন। এমন উদ্বেগ থাকলে তা নিয়ে প্রকাশ্য আলোচনা হতে পারে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক শক্তির সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য আরেকটি শক্তির অতীতের দায়কে গৌণ করে দেখা হবে গুরুতর রাজনৈতিক ভুল।

রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মোকাবিলা করতে হবে জনসমর্থন, গ্রহণযোগ্য কর্মসূচি, কার্যকর নেতৃত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে—এমন ধারণা জনগণের সামর্থ্য ও রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকেই খাটো করে।

বিএনপিকে এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, ত্যাগ ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা বহনকারী একটি দলের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং আওয়ামী লীগের অপরাধী নেতৃত্বের রাজনৈতিক পুনর্বাসন এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক কৌশলের হিসাব করতে গিয়ে সেই পার্থক্য ভুলে গেলে দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের আস্থায় আঘাত লাগবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দীর্ঘ দুঃশাসন ভোলার নয়। আজ যে অবক্ষয়ের মধ্যে আমরা আছি, তা রাতারাতি তৈরি হয়নি; এর প্রতিকারও কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণায় হয়ে যাবে না।

আজ তরুণদের আচরণ, অসহিষ্ণুতা কিংবা সমাজে প্রতিহিংসার বিস্তার দেখে আমরা উদ্বিগ্ন হই। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তাদের কী শিক্ষা দিয়েছে, সে প্রশ্নও করতে হবে। যুক্তির পরিবর্তে শক্তি, যোগ্যতার পরিবর্তে পরিচয় এবং অধিকারের পরিবর্তে আনুগত্যকে গুরুত্ব দিলে সমাজে তার প্রভাব পড়বেই। বিগত আওয়ামী শাসনের ভূমিকা নিয়ে তাই প্রশ্ন তোলা সংগত। তবে সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার দায়িত্ব বর্তমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও নিতে হবে।

জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানের নামে পরিচালিত কিছু কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন অবশ্যই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে প্রমাণ, আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে। নিরাপত্তার প্রশ্নকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন কিংবা সমাজে নির্বিচার সন্দেহ তৈরির হাতিয়ার করা হলে মানুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কে কার সঙ্গে মিশছেন, কার রাজনৈতিক বিশ্বাস কী, কিংবা কে ধর্মীয় অনুশীলন করছেন—এসবের ভিত্তিতে কাউকে সন্দেহের চোখে দেখার পরিবেশ কাম্য নয়। মানুষ যেন প্রতিবেশীকে ভয় না পায়, আত্মীয়কে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিচার না করে এবং মত প্রকাশের কারণে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়—এমন পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।

গণমাধ্যম ও শিক্ষিত সমাজেরও দায়িত্ব রয়েছে। উচ্চশিক্ষা বা ভাষার দক্ষতা থাকলেই বিশ্লেষণ নিরপেক্ষ হয়ে যায় না। ব্যক্তিস্বার্থ কিংবা দলীয় আনুগত্য থেকে অন্যায়কে আড়াল করা হলে জনপরিসর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একইভাবে ইসলাম বা ধর্মীয় অনুশীলন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান ছাড়া বিদ্বেষপূর্ণ ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সব ধর্মীয় প্রবণতাকে একই ছাঁচে ফেলা বিভ্রান্তি বাড়ায়। সমালোচনা হোক তথ্য, যুক্তি ও দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা, অপরাধ কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা থাকতে পারে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু অপরাধী যে পক্ষেরই হোক, তার বিচার একই মানদণ্ডে হতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে কাউকে ছাড় দেওয়া কিংবা প্রমাণ ছাড়া কাউকে অভিযুক্ত করা—কোনোটিই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশেষ করে গণপিটুনি ও পিটিয়ে মানুষ হত্যার মতো ঘটনাকে কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে সহনীয় করা যায় না। বিগত সময়ের সহিংসতার সংস্কৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি বর্তমানের প্রতিটি অপরাধ বন্ধ করার দায়িত্বও রাষ্ট্রকে নিতে হবে। অতীতের অন্যায় বর্তমানের অন্যায়ের অনুমোদন নয়।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন কোথায়? অপরাধ দমন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং সামাজিক আস্থা ফেরানোর জন্য প্রয়োজন কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।

সরকারের প্রতি আমার আহ্বান—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ও পরিমাপযোগ্য পদক্ষেপ নিন। পুলিশ বাহিনীতে যেখানে জনবলের ঘাটতি রয়েছে, সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ দিন। জনসংখ্যা, এলাকার বিস্তৃতি, অপরাধের ধরন এবং কাজের চাপ বিবেচনা করে থানাগুলোর জনবল ও সক্ষমতা নির্ধারণ করুন।

অপরাধ তদন্ত, সাইবার অপরাধ দমন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবায় বিশেষায়িত জনবল গড়ে তুলুন। আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় যানবাহন ও সরঞ্জাম নিশ্চিত করুন। আমাদের করের অর্থ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে ব্যয় করা হোক।

তবে জনবল বৃদ্ধির সঙ্গে নিয়োগের স্বচ্ছতা, পেশাগত দক্ষতা, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা বাড়বে, কিন্তু জবাবদিহিতা বাড়বে না—এমন ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফিরবে না। পুলিশকে এমন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে অভিযোগ জানাতে রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালী কারো সুপারিশ প্রয়োজন হবে না।

বিচার বিভাগের সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিচারক এবং সহায়ক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হোক। আদালতের অবকাঠামো, নথি ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা উন্নত করা হোক। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার সমন্বয় বাড়িয়ে অযৌক্তিক বিলম্ব কমাতে হবে। দ্রুততার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রশাসনের যেসব দপ্তরে জনবলের ঘাটতিতে সেবা ব্যাহত হয়, সেখানেও পর্যাপ্ত যোগ্য জনবল নিয়োগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সেবার অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ এবং অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা, ঘুষ, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

মানুষ সরকারি দপ্তরে গিয়ে সেবা চায়, বারবার ঘুরতে চায় না। মানুষ রাস্তায় স্বস্তি চায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে চায় না। মানুষ উপার্জনের নিরাপত্তা চায় এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ চায়। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা ছাড়া এসব প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায়ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি মনে করি, এ খাতের সংকটকে কেবল তাৎক্ষণিক সরবরাহের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; পরিকল্পনা, ক্রয়, উৎপাদন, সঞ্চালন, বিতরণ এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত মূল্যায়ন প্রয়োজন।

স্বল্প মেয়াদে সরবরাহের ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, বিদ্যমান স্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানি সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য শক্তির বাস্তবসম্মত ব্যবহার বাড়াতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে হবে প্রকৃত চাহিদা, কারিগরি যৌক্তিকতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দীর্ঘমেয়াদি জনস্বার্থ বিবেচনায়।

এ খাতের সব গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার চেষ্টা থাকতে হবে। কী কেনা হচ্ছে, কেন কেনা হচ্ছে, কত দামে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সরবরাহকারী নির্বাচন করা হচ্ছে—এসব তথ্য যথাসম্ভব প্রকাশ করা হোক। দরপত্র, মূল্যায়নের মানদণ্ড, চুক্তিমূল্য, গুরুত্বপূর্ণ শর্ত এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে মানুষকে জানানো হোক।

গোপনীয়তার প্রয়োজন থাকলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা উচিত। জরুরি প্রয়োজনের অজুহাতে জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। বরং জরুরি ক্রয় ও বড় ব্যয়ের ক্ষেত্রে কার্যকর নিরীক্ষা ও স্বাধীন তদারকি আরো গুরুত্বপূর্ণ। এতে অনিয়মের সুযোগ কমবে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় সমস্যা থাকবে, চ্যালেঞ্জও আসবে; কিন্তু সেগুলোর সমাধান করতে হবে নীতি, দক্ষতা, জনবল, বিনিয়োগ এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে। একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমঝোতা দক্ষ প্রশাসনের বিকল্প নয়; রাজনৈতিক পুনর্বাসন নাগরিক নিরাপত্তার বিকল্প নয়।

আওয়ামী লীগের শাসনামলের অভিযোগগুলোর বিচারও একই সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। অপরাধের দায় ব্যক্তির ভূমিকা ও প্রমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। কেউ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধের দায় থেকে অব্যাহতি পাবেন না; আবার কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে অপরাধীও বলা যাবে না। এই নীতিই ন্যায়বিচারের দাবিকে শক্তিশালী করে।

কোনো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হলে তার লক্ষ্য, শর্ত এবং সীমারেখা জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকতে হবে। নির্যাতিত মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বক্তব্য শুনতে হবে। তাদের অগোচরে তাদের ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে দর-কষাকষির নৈতিক অধিকার কারো নেই।

আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ চাই। সেই লক্ষ্য অর্জনে জনগণের আস্থা, আইনের শাসন এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে বড় শক্তি। কোনো বিদেশি পছন্দ, গোপন সমঝোতা কিংবা সুবিধাবাদী রাজনৈতিক হিসাব জনগণের ইচ্ছার বিকল্প হতে পারে না।

দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নামে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দায়মুক্তিমূলক রিকনসিলিয়েশন নয়। অগ্রাধিকার দিন আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়ে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায়।

দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দিন, ন্যায়বিচার দিন, হয়রানিমুক্ত সেবা দিন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের নিশ্চয়তা দিন। এসব কাজের মধ্য দিয়েই স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হবে। সেই আস্থার কোনো বিকল্প রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে না।

লেখক: এম হাসানউজ্জামান সিদ্দিকী

প্রকৌশলী; সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সভাপতি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বুয়েট