
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ‘গোয়েন্দা তথ্য আছে, পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের একটা অংশ মিলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে।’ প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে রাজনীতিতে এ ধরনের ব্ল্যাংক ফায়ার অনেক সময় করা হয়। যেমন জেয়াফতে খাবারের সময় নিজের প্লেট খালি হলে পাশের প্লেটের দিকে পরিবেশনকারীর মনোযোগ আকৃষ্ট করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কী কারণে এই বুলেটটি ছুড়লেন, তা নিয়েও অনেক গবেষণা শুরু করা হয়েছে। বলা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই উক্তিটি আমাদের রাজনৈতিক আকাশে একটা শক ওয়েভের সৃষ্টি করেছে। এর জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াত আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান কয়েক লাইনে জবাব দিয়েছেন। তিনি এই দাবি প্রমাণ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সত্য-মিথ্যা যাই হোকÑএই গোয়েন্দা তথ্যটি আমাদের বর্তমান রাজনীতির এক ভয়ংকর বাস্তবতা তুলে ধরছে। বিতাড়িত শয়তানের দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কিন্তু বন্ধ হয়নি। বর্তমান সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যকার বৈরিতা ও পারস্পরিক সন্দেহ বাড়িয়ে তোলাই তাদের বর্তমান রাজনীতি।
জুলাইয়ের ক্ষত রাজনৈতিক দলগুলো ভুলে গেলেও সাধারণ জনগণ ভুলবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে যে রকমভাবে হাসিনাকে দেশ থেকে উৎখাত করেছে, তেমনিভাবে তার প্রত্যাবর্তনকে সাধারণ জনগণই প্রতিরোধ করবে। বিএনপি বা জামায়াত-এনসিপি জোট যারাই এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হোকÑতারাও জনতার সেই সুনামিতে খড়-কুটার মতো ভেসে যাবে।
কোনো সংবাদ চেক-ক্রস চেকের জন্য জনগণকে এখন শুধু একটি বা দুটি সোর্সের ওপর নির্ভর করতে হয় না। জনগণকে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফরমেশন হাইওয়েতে বসিয়ে দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক প্রোপাগান্ডা চালানো হলেও আসল খবরটি কেমন করে যেন বের হয়ে আসে। যৌক্তিক প্রাণী হিসেবে হোমোস্যাপিয়েন্সরা কোনো কিছু বিশ্বাস করার আগে ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার, সারকামস্টেন্সিয়াল এভিডেন্স এবং নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে। কাজেই এখন ‘খাবে আব্দুল আর মোটা হবে জয়দুল’Ñএটি আর সম্ভব নয়। আমরা যে যত বেশি এই বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারবÑসে তত বেশি এগিয়ে থাকব।
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন নিয়ে বিএনপি এবং জামায়াত পরস্পরের প্রতি যে অভিযোগ উত্থাপন করছে, এর কতটুকু বাস্তব ভিত্তি রয়েছে? আসুন, একটু খোলা মন নিয়ে বিষয়টি চিন্তা করি।
আওয়ামী লীগ আবার এ দেশের রাজনীতিতে ফিরে এলে বিএনপি এবং জামায়াতÑউভয়ের জন্যই তা হবে একটা নাইটমেয়ার বা দুঃস্বপ্ন। পরে আওয়ামী লীগের আচরণ হবে আহত সাপের মতো। কাজেই বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর কতটুকু নির্দয় হবেÑতা সহজেই অনুমেয়।
গত ফ্যাসিবাদের সময় জাতীয়তাবাদের পক্ষের বুদ্ধিমানরা অনেকেই বিশেষ বোঝাপড়ায় বহাল তবিয়তেই ছিলেন। তাদের জন্য অতীতে সমস্যা হয়নি এবং সামনেও কোনো অসুবিধা হবে না। এই অংশটুকুই মূলত আওয়ামী লীগকে বিরোধী দল হিসেবে চাচ্ছে। এদের হিসাবটিও অদ্ভুত, কিছুটা রোমাঞ্চকর। এরা মনে করে আওয়ামী লীগকে একটা জাদুর বলে ‘বনসাই’ বানিয়ে রাখবেÑমানে মরবেও না, বাড়বেও না। দক্ষিণপন্থিরা ক্ষমতা দখল করে নেবেÑএ রকম একটা জুজুর ভয় দেখিয়ে ইসলামোফোবিক অংশটিকে রীতিমতো কাবু করে ফেলেছে। এরা মনে করছেÑআওয়ামী লীগ আবার রাজনীতি করার সুযোগ পেলে ‘বাবুরাম সাপুড়ে’ কবিতার মতোÑ‘করে নাকো ফোঁসফাঁস/ মারে নাকে ঢুসঢাস/নেই কোনও উৎপাত/ খায় শুধু দুধভাতÑএ রকম গোছের একটি সাপ হয়েই থাকবে।’ এদের ইচ্ছেটি কবিতার সেই খোকার মতোÑওয়াকিবহাল মহল এদের রাজনীতিতে সেই খোকার মতোই জ্ঞান করেন।
বিএনপিকে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মেইক-শিফট অ্যারেঞ্জমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করছে এবং আওয়ামী লীগ ফিরলে ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে যাবে। মাঝখান থেকে আওয়ামী লীগের ভোট পকেটস্থ করতে গিয়ে নিজের যে ভোটারদের হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছিলÑযাদের অনেকেই জামায়াত জোটের দিকে চলে গিয়েছে, তাদের ফেরত পাওয়া কঠিন হবে। ফলে বিএনপিও নিজের অস্তিত্বের স্বার্থেই আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন কামনা করবে না। আবার বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ এক জোট হয়ে যদি জামায়াতকে মোকাবিলা করতে চায়, তখন এন্টি আওয়ামী ভোটারদের বড় অংশ জামায়াত-এনসিপির পক্ষে চলে যাবে এবং বিএনপি হয়ে পড়বে জাতীয় পার্টির মতো আওয়ামী লীগের সহযোগী একটি দল। এই হিসাব করে বিএনপিও কখনোই আওয়ামী লীগের প্রত্যাবর্তন চাইবে না।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে জামায়াতের অভিজ্ঞতা আরো ভয়াবহ। ১৯৯৪-৯৬ সালে জামায়াতের কামারুজ্জামান এবং কাদের মোল্লা দলের পক্ষ থেকে লীগের সঙ্গে লিয়াজোঁ করতেনÑআওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে এ দুই নেতাকেই সবার আগে ফাঁসি দিয়েছে। পরে আরো তিন টপ নেতাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। জামায়াতের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গুম-খুন করেছে। তাছাড়া গদি ছাড়ার আগে আগে দলটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। এ রকম একটা অপশক্তিকে জামায়াত কোনো বিবেচনাতেই ফেরত আনতে চাইবে না। কাজেই যেকোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ বিশ্বাস করবে না যে দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে বিএনপি কিংবা জামায়াত ফেরত আনতে চাইবে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি শক্তিকে পরস্পর মুখোমুখি করার ভ্রষ্ট বামদের দীর্ঘদিনের এই প্রচেষ্টাটি সফল হয়েছে ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে বন্দি করার মধ্য দিয়েই এবং আমরা আজকে হাইব্রিডদের যে প্রভাব দেখছি, তা আগের সেই ধারাবাহিকতা।
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে জেলবন্দি করা হয়। বিএনপির অপর শীর্ষ নেতা লন্ডনে নির্বাসিত। এর মাধ্যমেই মূলত প্রথমে চার দল এবং পরে আঠারো এবং বিশ-দলীয় জোটের আত্মিক বিলুপ্তি ঘটে। খালেদা জিয়া মুক্ত থাকলে এই কাজটি সম্ভব হতো না। তাই কৌশলে তাকে বন্দি করে ফেলা হয়। দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে মিছিল করে খালেদা জিয়াকে জেলখানায় পৌঁছে দেওয়া হয়। সেদিনও মিছিলের স্লোগান ছিলÑখালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’।
এরপরই এ দেশের রাজনীতির রহস্যময় চরিত্র ড. কামাল হোসেনের উত্থান ঘটানো হয়। এরশাদের গৃহপালিত বিরোধী দলের নেতা আ স ম আব্দুর রব এবং বঙ্গবন্ধুর চতুর্থ ছেলের দাবিদার কাদের সিদ্দিকীরা মিলে বিএনপির প্ল্যাটফর্মটি বর্গা নিয়ে নেন। এই বর্গাদারদের ঠাটবাটে মূল মালিক কোণঠাসা হয়ে পড়ে।
এদের প্রকৃত রঙ চিনতে হলে এদের সর্বশেষ বিবৃতিগুলোর দিকে নজর দিতে হবে। কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ‘ডিসেম্বরে আমার বোন শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে আমিও উপস্থিত থাকব।’ আ স ম আব্দুর রবের নামেও একটা ফটোকার্ড ছড়ানো হচ্ছে, ‘ডিসেম্বরে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রিসিভ করতে যাওয়া প্রতিটি দেশপ্রেমিক বাঙালির ঈমানি দায়িত্ব।’
গ্রামদেশে আগে অধিকাংশ ঘরের মেঝটি ছিল মাটির। সিঁধেল চোররা সিঁধ কেটে মাথা না ঢুকিয়ে প্রথমে পা ঢুকিয়ে চেক করে নিত গৃহস্থ সজাগ আছে কি না। কারণ মাথায় ঘা খাওয়ার চেয়ে পায়ে খাওয়া তুলনামূলক নিরাপদ এবং দ্রুত বেরিয়ে পড়াও সহজ। আমাদের সার্বভৌমত্বের ঘরটিতে এই সিঁধেল চোররা সিঁধ কেটে বোধহয় আমরা এখনো জীবিত আছি কি না, তা পরীক্ষা করছে। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জগতের সিঁধেল চোররা আবার ‘বাকশাল থ্রি’কে আনতে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে।
আমরা ৭১-এর বীর শহীদদের অবশ্যই সম্মান করব। ৭১-এ কাদের সিদ্দিকীর অবদান থাকলেও ১৯৭৫ সালের পর এই কাদের সিদ্দিকী এই রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধ করেছে। এখন বিতাড়িত শয়তানকে ফিরিয়ে আনার প্রকাশ্য ঘোষণা দিচ্ছে। মগদস্যুদের বিতাড়ন করার জন্য মীরজাফর আমাদের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকতে পারতেন। কিন্তু মীরজাফরের সর্বশেষ কর্মটিÑঅর্থাৎ পলাশীর যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা তাকে ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আমরা এখন মগদস্যুদের বিতাড়নের মতো দুরূহ কাজটি করার জন্য বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে মীরজাফরকে গ্লোরিফাই করব না। এখন যারাই বাকশাল থ্রিকে আনার জন্য কাজ করবেন, তারাই ইতিহাসে মীরজাফরের সারিতে জায়গা পাবেন।
২০১৮ সালে তখনকার সময়ের দাবিÑযুগপৎ আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে রব-মান্না-সাকিদের গণতন্ত্র মঞ্চের দিকে বিএনপি ধাবিত হয়। বিএনপির একটা অংশ এই বাম ঘরানার দিকে সর্বদা একটা ফ্যাটাল অ্যাট্রাকশন অনুভব করেন। এদের কারণেই খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হয় এবং জীবনের শেষ বছরগুলো স্বজনবিহীন একাকিত্বে কাটাতে হয়েছে। দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা ইঁদুরদের চিনতে হলে পুরো বিষয়টি নিয়ে একটা যথাযথ অনুসন্ধান এবং একাডেমিক গবেষণা হওয়া দরকার। সেই ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বরং প্ল্যান ‘এ’ কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলে প্ল্যান ‘বি’র কাজ চলছে এবং সম্ভবত প্ল্যান ‘সি’ও রেডি করে রাখা হয়েছে।
শেখ হাসিনাসহ লীগের রাজনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক বলয় থেকে অপবাদ দেওয়া হতো যে মদপানের কারণেই খালেদা জিয়ার লিভার নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ এটি ছিল স্লো-পয়জনিংয়ের মাধ্যমে লিভার নষ্ট করে দেওয়ার একটি জঘন্য ষড়যন্ত্র। বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী নটনটীদের ইতরামো ভব্যতার সব সীমা ছাড়িয়ে যায়।
এটি নিয়ে হেলেন জাহাঙ্গীর নামের এক আওয়ামী নারী এক টকশোতে বলেছিলেন, খালেদা জিয়া প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে মদপান করেন। সেদিন সহ-আলোচক হিসেবে বিএনপির যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি এবং সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মালেক ভাই উপস্থিত ছিলেন। এ কথা শুনে মালেক ভাই উত্তেজিত হয়ে সেই নটীকে গালাগাল করেন। মালেক ভাইকে সেদিন ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষেপানো হয় এবং তার সেই প্রতিক্রিয়াকে ভাইরাল করে আওয়ামী বলয় বিকৃত আনন্দ উপভোগ করে। সবচেয়ে কষ্টের কথা হলোÑ এ ধরনের লোকদের জন্য বিএনপির অফিসের দুয়ার এখন খুলে গেছে ।
আওয়ামী সফট পাওয়ার হিসেবে পরিচিত গনমাধ্যমগুলো তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। শেখ হাসিনার সেবায় অনেক নিরপেক্ষ ‘আইকন’ তৈরি করেছিলেন। ৫ আগস্টের পর এই নিরপেক্ষ ‘আইকন’রা বায়তুল মোকাররমের খতিবের মতোই পালিয়েছেন। এরা আবার বিএনপির কাছে গ্রহণযোগ্য কাউকে এ রকম নতুন ‘আইকন’ হিসেবে তুলে ধরার মিশনে আছেন।
বুদ্ধিবৃত্তিক এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে প্রধানমন্ত্রীর দেড়শ টাকার লাঞ্চ খাওয়ার সৌভাগ্য যাদের হয়েছেÑআব্দুন নূর তুষার তাদের মধ্যে অন্যতম। বিএনপি মহলে তার এই আদর-আপ্যায়ন অনেককে আশাবাদী করে তুলেছে।
ফ্যাসিবাদী জমানায় যারা বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বে ছিলেনÑতারাই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নিজ নিজ জায়গায় ফিরে আসছেন। ফ্যাসিবাদী জমানায় কেউ কেউ অত্যন্ত স্থূলভাবে মোসাহেবি করতেন আবার কেউ কেউ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তা করতেন। ফ্যাসিবাদের স্থূল মোসাহেবদের ফিরে আসা এখনো কঠিন হলে ফ্যাসিবাদের সূক্ষ্ম মোসাহেবরা যথারীতি ফিরে এসেছেন এবং তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। একজনের উদাহরণ দেওয়া যাক।
একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের প্রাক্তন সভাপতি যিনি হাসিনা সরকারের কুসুম কুসুম সমালোচনা করতেন। তুষার সেই দলের যারা বলতেন, ‘সবাই খারাপ কিন্তু হাসিনা ভালো’। ড. ইউনূসকে দুই চোখে দেখতে না পেলেও তিনি শুরু থেকেই বিএনপি তথা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কুসুম কুসুম প্রশংসা শুরু করেছেন।
আপনারা কেউ কি তুষারের একটা লেখা বা বক্তব্য দেখাতে পারবেন, যেখানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় তারেক রহমানকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে প্রতিবাদ করেছেন? আলো-স্টার-চ্যানেল আই-সিপিডি-টিআইবি চক্র যখন তারেক রহমান ও হাওয়া ভবনকে ভিলেন বানানোর মিশনে নেমেছিলÑএই তুষার কি তার কোনো একটির প্রতিবাদ করেছেন? বরং তারেক রহমান এবং বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য মগজ ক্ষয় করেছেনÑএরকম অনেক লেখা আপনার স্মরণে আসবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে বেরিয়ে আসে যে শেখ হাসিনার এক পিয়ন ৪০০ কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। শেখ হাসিনা তখন নিজেকে যুধিষ্ঠির প্রমাণের জন্য নিজের মুখেই এ কথাটি বলে দেয়। তুষার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, চাকরের সম্পদের পরিমাণ দেখলে মালিকের সিন্দুকের গভীরতা টের পাওয়া যায়। এটি নিয়ে সারা দেশে হইচই শুরু হয়, মাফিয়া রানির সিংহাসন গরম হয়ে পড়ে। গোপাল ভাঁড় মাঝেমধ্যে বুদ্ধির চমক দেখিয়ে রাজার হাত থেকে শুধু নিজের গর্দানই রক্ষা করতেন নাÑএকই সঙ্গে অনেক উপঢৌকনও পেতেন । এই ক্ষেত্রে আমরা একই ফেনোমেনা লক্ষ করলাম।
এরপর খালেদ মুহিউদ্দীনের শোতে এসে ব্যাখ্যা দিলেন, এ কথার মাধ্যমে বলতে চেয়েছিলেন যে শেখ হাসিনার অধীনে দেশ এতটুকুই উন্নতি করেছে যে এখন পিয়নের মতো লোকদের হাতেও শত শত কোটি টাকা এসে গেছে । বিতার্কিক তুষার বুদ্ধির জোরে পুরো পরিস্থিতি আবার নিজের ও তার সম্রাজ্ঞীর পক্ষে নিয়ে গেলেন। সেই তুষারদের বুদ্ধির ঝিলিকে ঝিলকিত হতে চায় বিএনপির একটা অংশ।
বিএনপিকে যারা পছন্দ করে, বিএনপি তাদের পছন্দ করে না। আবার বিএনপি যাদের পছন্দ করে, তারা বিএনপিকে মন থেকে ভালো পায় না। এমনই এক জটিল ত্রিভুজপ্রেমে আটকে গেছে বিএনপির বুদ্ধিবৃত্তিক মানস।
লেখক: কলামিস্ট