Image description

ওরা জিন্নাহ্কে ঘৃণা করে। মুখে বলে 'ভাষা প্রশ্নে' কিন্তু আদতে দ্বিজাতিতত্ত্বের জন্যে। জিন্নাহ্ ভারত ভাগ করেছে। জিন্নাহ্ States এর 'S' কেটে আমাদের পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশ বানিয়েছে। জিন্নাহর কারণেই আমরা আসাম হারিয়েছি। কলকাতা হারিয়েছি। করিমগঞ্জ হারিয়েছি। জিন্নাহর কারণেই বাংলা দ্বিখন্ডিত হয়েছে। যুক্তবাংলা হতে পারেনি। জিন্নাহর কারণেই ইন্ডিয়াতে কোটি মুসলমান সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে। পাঞ্জাব ভাগ হয়েছে। জিন্নাহর কারণেই আরাকানকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। আমরা চব্বিশ পরগণা, মালদহ, মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ হারিয়েছি জিন্নাহর কারণে।

সমস্ত অভিযোগই ভূখন্ডগত। যা কিছুই হারিয়েছি "ধর্মভিত্তিক" বিভাজনের কারণে। এবং যেটুকু পেয়েছি তাও সেই "ধর্মভিত্তিক" বন্টনের কারণে। এই বন্টন ভুল। এই বন্টন পাপ। জিন্নাহ্ পাপী।
অত:পর কোন্ দাবীতে একাত্তর হলো? ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে। কোন্ ভাষা? বাংলা ভাষা। তুমি কে আমি কে বাঙালি বাঙালি।

মোটাদাগে এই হচ্ছে শাহবাগী ইতিহাসের পঙ্‌ক্তিমালা।

আমাদের এই দাবি অর্জনে আমরা পাশে পেলাম কাকে? ইন্ডিয়াকে। বন্ধুরাষ্ট্র। একাত্তরে আমাদের ভাষাভিত্তিক বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে স্বাধীনতা অর্জনের অকৃত্রিম বন্ধু। জান দিয়ে মাল দিয়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল। রুখে দাঁড়াও বাঙালি। ভেঙে ফেল এই ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রকে।
এ পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। দ্বিজাতিতত্ত্ব ভুল। পাপ। আমরা পাকিস্তানী না, বাঙালি। অতএব, পাকিস্তান নামের যে সীমারেখা সে সীমারেখা ভুল। এই মানচিত্র মানিনা। পার্বত্য চট্টগ্রাম আমরা চাইনি। কিসের বিনিময়ে যেন আমাদের গছিয়ে দেয়া হয়েছে। তো নিয়ে যাও এই পার্বত্য চট্টগ্রাম। সিলেটের সীমারেখা বাঙালি আর অসমীয়াদের মধ্যে ভাগ করে দাও। খুলনায় হিন্দুরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল। অন্যায়ভাবে জিন্নাহ্ সেটা নিয়ে নিয়েছে। ফিরিয়ে নাও বন্ধু। বাকেরগঞ্জেও তোমাদের দাবি ছিল। চাইনা। জিন্নাহর কারণে আমরা বাঙালিরা এক জাতি হয়ে উঠতে পারিনি। আমাদের আবার এক করে দাও। কলকাতা তো আমরা পাই-ই তাই না? আচ্ছা থাক। যুক্তবাংলার রাজধানী হিসেবেই থাকুক, ঠিক আছে? এক দেহ এক প্রাণ ভারতমাতার কোলে বঙ্গের সন্তান।

লেকিন, চেয়েছিল তেমন কিছু? একাত্তরে? এক তিল পরিমাণ ভূখন্ড তো অদল বদল হয়নি। জিন্নাহ্ যেটুকু এনে দিয়েছিল অতটুকুই কেন সীমানা হবে? কেন এদিক সেদিক হবেনা? বাংলা মায়ের বিভাজন কেন মেনে নিলে? আমরা তো এক প্রাণ এক ভাষা এক জাতি হিসেবেই ধর্মভিত্তিক বাটোয়ারায় পাওয়া কীটদুষ্ট মানচিত্রকে অস্বীকার করেছিলাম। তখনও কেঁদেছি। আজও রমনার বটমূলে বসে কাঁদছি। দাও ফিরে সে বাংলা আমার লহ এ ধর্মরাষ্ট্র। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি। জয় বাংলা। চেয়েছিল? বলেছিল? পেয়েছিল? দিয়েছিল?
এককথায় জবাব হচ্ছে — না।

তাহলে ভূখন্ড নিলাম ধর্মের ভিত্তিতে, স্বাধীন করলাম ভাষার ভিত্তিতে, ভাঙলাম পাকিস্তান কিন্তু বঙ্গভঙ্গ তো রদ হলোনা। এক জাতি হলোনা। ওরা আমাদের নিলোনা? কিছু দিলোও না? তো না ঘরকা না ঘাটকা ধোবি কা কুত্তে কি তাড়াহ্ কিঁউ ইৎনি ম্যাৎকার গোলামের পুতেরা? জিন্নাহর এনে দেয়া পোকায় খাওয়া পাকিস্তানে বসে কেন আবার জিন্নাহকেই গালাগালি করবি? ভাষা ভাষা ভাষা। তো ভাষার ভিত্তিতে এক কেন হলিনা? তোরা গোলাম। তোরা বেওকুফ। ওরা না। ওপারের বাঙালিরা জানে তোরা গোশত আর পেঁয়াজ খাওয়া মুসলমান। তোরা বাঙালি না। এক হলে তোদের প্রজনন শক্তির তোড়েই ওরা সংখ্যালঘু হয়ে যেতো। এজন্যই গো-মাংশের প্রতি এতো ক্ষোভ। এজন্যই ওরা শুধু তোদের দ্বিখন্ডিতই করতে চেয়েছে, তোদের সাথে বাঙালি বলে এক হতে চায়নি। তোদের ভুয়া বাঙালি বানিয়েই রাখতে চেয়েছে, মুসলমান ভাবতে দেয়নি॥

-কায় কাউস