Image description
 

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেড় দশক দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতে সাধারণত মুখ্যমন্ত্রীর অধীনেই পুলিশ প্রশাসন পরিচালিত হয়। বেশির ভাগ রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখেন। মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হন, তবে রাজ্যের পুরো পুলিশ বাহিনী সরাসরি তার নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।

অর্থাৎ রাজ্যের পুলিশের ওপর মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে। গোয়েন্দা সংস্থার অনেক প্রতিবেদনও তিনি পর্যালোচনা করতে পারেন। ফলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ঘটনা সম্পর্কে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী যখন কোনো তথ্য উপস্থাপন করেন, তখন তা নিয়ে সংশয় প্রকাশের তেমন কোনো সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত বিস্ফোরক ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্তব্য করেছেন। কলকাতার ধর্মতলায় এক রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তিনি দাবি করেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত ছিল এবং কার নির্দেশে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, এর সবকিছু তিনি জানেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে পলাতক এক বড় হত্যাকাণ্ডের আসামিকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) গ্রেপ্তার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়। অন্য দেশের কথা আমি কিছু বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাই তা হলোÑওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এটি তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, ‘আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার। এত দিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারের শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরপর বলেন, ‘আমার হৃদয়টা একটা কথার ভান্ডার, আমি সত্যের ভান্ডার।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট, হাদি হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল। এরপর পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স তাদের গ্রেপ্তার করে। আসামিদের গ্রেপ্তারের পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাকে নিজে ফোন করেছিলেন। দেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অমিত শাহকে উদ্দেশ্য করে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কথা বলেছেন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, কার কার নাম বেরিয়েছিল, আমি সবটাই জানি। কিন্তু আমি সেই নাম বলতে চাই না। বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি, তাই দেশের স্বার্থে সেই নাম প্রকাশ করব না।’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি অমিত শাহকে দায়ী করেছেন। এমনকি অমিত শাহ কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন, তাও তিনি জানেন।

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া হাদি হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএর হেফাজতে আছেন। এনআইএ হলো ভারতের একমাত্র কেন্দ্রীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ হেফাজতে নেওয়ার আগে এই দুই ব্যক্তিকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। সেখান থেকে মমতা সব তথ্য জেনেছিলেন বলে মনে করা যায়।

শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী জনমত গঠনে এক সোচ্চার কণ্ঠ। ফলে তিনি ভারতীয় রাষ্ট্রযন্ত্রের টার্গেট হওয়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। অমিত শাহর ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আক্রোশের কারণে তাকে হত্যা করার কোনো কারণ নেই। ভারতের কথিত স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলেন, এমন মানুষদের বিশ্বের নানা অঞ্চলে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। গুপ্তহত্যার জন্য বিশ্বজুড়ে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে যথেষ্ট কুখ্যাতি অর্জন করেছে। এ ধরনের গুপ্তহত্যার কাজে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংযোগ আছেÑএমন অপরাধী চক্রকে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তিনটি দেশে এ ধরনের ঘটনার উদাহরণ থেকে আমরা বিষয়টি সহজে বুঝতে পারব।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে ২০২৩ সালের ১৮ জুন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা হত্যা করে। ভারতের কুখ্যাত ‘লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং’ নামে একটি ভাড়াটে খুনি চক্রের মাধ্যমে তাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে আটক করে কানাডিয়ান পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে সে বছরের সেপ্টেম্বর মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো পার্লামেন্টে জানান, প্রখ্যাত শিখ কর্মী হরদীপ সিং নিজ্জরকে গুলি করে হত্যার পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা এজেন্টদের হাত থাকার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। কানাডা সরকার এই ঘটনাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে অভিহিত করে। এর প্রতিক্রিয়ায় দুদেশই একে অন্যের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করে। এখনো কানাডার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি।

এ ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পর, মার্কিন বিচার বিভাগ একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করে, যেখানে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়, কীভাবে একজন ভারতীয় এজেন্ট নিউ ইয়র্কে আরেক শিখ কর্মী গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যা করার জন্য একজন পেশাদার খুনি ভাড়া করার চেষ্টা করেছিল।

মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে মাসে ভারতের এক সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে নিউ ইয়র্কে পান্নুনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ কাজের জন্য নিখিল গুপ্ত নামের ৫২ বছর বয়সি এক ভারতীয় ব্যবসায়ীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিখিল গুপ্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ আছে।

শিখ নেতা পান্নুনকে খুন করার জন্য নিখিল গুপ্ত একজন পেশাদার খুনি খুঁজতে গিয়ে অজান্তেই মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এর একজন আন্ডারকভার এজেন্ট বা তথ্যদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তিতে পান্নুনকে হত্যার জন্য ১৫ হাজার ডলার অগ্রিমও দেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সদস্যরা গোপনে তা রেকর্ড করেন। ফলে পান্নুন হত্যার চক্রান্ত ব্যর্থ হয়।

২০২৩ সালের জুন মাসে নিখিল গুপ্ত যখন চেক প্রজাতন্ত্রে যান, তখন মার্কিন সরকারের অনুরোধে সে দেশের পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ২০২৪ সালের জুনে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে নিখিল গুপ্ত নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দেন, ভারতীয় এক সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে আমেরিকার মাটিতে মার্কিন নাগরিক পান্নুনকে হত্যার চক্রান্ত ও অর্থ লেনদেনে জড়িত ছিলেন।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে মার্কিন বিচার বিভাগ এই চক্রান্তের মূল মাস্টারমাইন্ড হিসেবে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সাবেক কর্মকর্তা বিকাশ যাদবের নাম প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট দাখিল করে। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, বিকাশ যাদব ভারতের ক্যাবিনেট সচিবালয় থেকে বসে নিখিল গুপ্তকে নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় বিকাশ যাদবের নাম রয়েছে এবং ইন্টারপোল তার বিরুদ্ধে ‘রেড কর্নার নোটিস’ জারি করে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও প্রতিবেশী দেশগুলোয় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের আরো অনেক তথ্য প্রকাশ হয়েছে। ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা ইন্ডিয়ান গভর্নমেন্ট অর্ডারড কিলিং ইন পাকিস্তান, ইন্টেলিজেন্স অফিশিয়াল ক্লেইম (Indian government ordered killings in Pakistan, intelligence officials claim) শিরোনামে ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গার্ডিয়ান পত্রিকা ভারতীয় ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রতিবেদনে জানায়, ভারত সরকার পাকিস্তানে বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে হত্যা করে। পাকিস্তানি তদন্তকারীদের নথিপত্র ঘেঁটে গার্ডিয়ান জানতে পারে, ২০১৯ সালের পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা আগ্রাসী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বিদেশে গুপ্তহত্যা শুরু করে। পাকিস্তানে এ ধরনের ২০টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যার সঙ্গে জড়িত ছিল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং বা ‘র’ । এই গোয়েন্দা সংস্থাটি সরাসরি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়।

গার্ডিয়ানের এই প্রতিবেদনে পাকিস্তানি তদন্তকারীদের দেওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়, এই হত্যাকাণ্ডগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পরিচালিত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার ‘স্লিপার সেল’ দ্বারা ঘটানো হয়। স্থানীয় অপরাধী বা দরিদ্র পাকিস্তানি নাগরিকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে এই গুপ্তহত্যাগুলো করাত। ভারতীয় এজেন্টরা গুলি করে হত্যার জন্য জিহাদিদেরও নিয়োগ করত বলে অভিযোগ রয়েছে । যাদের বিশ্বাস করানো হতো যে তারা আসলে ‘কাফের’ হত্যা করছে।

পাকিস্তানের সংগ্রহ করা প্রমাণ অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডগুলো নিয়মিতভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সমন্বয় করা হতো, যেখানে ‘র’ স্লিপার সেল বা গোপন চক্র গড়ে তুলেছিল। এই সেলগুলো অভিযানের বিভিন্ন অংশ আলাদাভাবে পরিচালনা করত এবং খুনিদের ভাড়া করত। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটানোর জন্য অপরাধী বা দরিদ্র স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রায়ই লাখ লাখ রুপি দেওয়া হতো এবং নথিপত্রে দাবি করা হয়েছে যে এই লেনদেনগুলো মূলত দুবাইয়ের মাধ্যমে করা হতো। এই হত্যাকাণ্ডগুলো তদারকি করা ‘র’-এর হ্যান্ডলারদের বৈঠকগুলো নেপাল, মালদ্বীপ এবং মরিশাসেও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কানাডায় শিখ নেতা হত্যা ও যুক্তরাষ্ট্রে আরেক শিখ নেতাকে হত্যাচেষ্টা এবং পাকিস্তানে ধারাবাহিক গুপ্ত হত্যার ঘটনার সঙ্গে আমরা যদি ওসমান হাদি হত্যার ঘটনা বিশ্লেষণ করি, তাহলে এর কাছাকাছি চিত্র দেখত পাব। ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। মামলার অভিযোগপত্র ও বাংলাদেশের পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, তিনিই মূলত ওসমান হাদিকে সরাসরি লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন। অন্য পলাতক আসামি আলমগীর হোসেন রাজধানীর আদাবর থানা যুবলীগের একজন কর্মী। ওসমান হাদিকে গুলি করার সময় এবং পরবর্তী সময়ে ফয়সালকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

আমরা জানি, আওয়ামী লীগের বহু প্রভাবশালী নেতা এখন কলকাতায় আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করেছেন। যারা দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাভাবিকভাবে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাদের গভীর সংযোগ আছে। কানাডার নিজ্জর হত্যার মতো নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের সন্ত্রাসী চক্রকে ওসমান হাদি হত্যার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

কানাডায় শিখ নেতা হত্যাকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে আরেক শিখ নেতাকে হত্যাচেষ্টা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার একটি বড় কেলেঙ্কারি হিসেবে দেখা হয়। ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে মুখ খুলছেন, তাতে বিদেশের মাটিতে বিজেপির রাজনৈতিক নেতৃত্বে গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তহত্যা কৌশলের আরেকটি কেলেঙ্কারি ফাঁস হিসেবে দেখা যেতে পারে। বলা যায়, মমতার জালে আটকা পড়েছেন অমিত শাহ। ভারতের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের এমন অভিযোগের পর নিঃসন্দেহে দেশে-বিদেশে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার গুপ্তহত্যার প্রবণতা নিয়ে আরো সতর্ক হবে। তবে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আমাদের জন্য বিপজ্জনক বার্তা দিচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের অভিযোগের পর বাংলাদেশের উচিত এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্য কামনা করা।

 

লেখক : সহযোগী সম্পাদক, আমার দেশ