Image description

মাহমুদুর রহমান

বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে হাজার হাজার হিন্দু সন্ত্রাসীর ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার সময় ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূমিকা কী ছিল সেটা নিয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে মুখ খোলেননি। বিশ্বের কাছে আধুনিক ভারতের কট্টর হিন্দু সাম্প্রদায়িক চেহারা উন্মোচনের গুরুত্বপূর্ণ তারিখটি ছিল ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর।

সেদিন মোগল সম্রাট বাবরের আমলে নির্মিত মুসলমানদের উপাসনালয় ধ্বংসের নেতৃত্বে ছিলেন নরেন্দ্র মোদির একসময়ের রাজনৈতিক গুরু এল কে আদভানি। ঐতিহাসিক মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চরম নিন্দনীয় কাজে এল কে আদভানি ছাড়াও বিজেপির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতার মধ্যে অংশ নিয়েছিলেন মুরলি মনোহর যোশী, উমা ভারতী এবং উত্তর প্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং। সে সময় দিল্লিতে কংগ্রেসের সরকার ক্ষমতায় ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলটির কট্টর হিন্দু নেতা নরসিমা রাও।

নিরপেক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বাবরি মসজিদ ভাঙার পেছনে নরসিমা রাওয়ের মৌন সম্মতি ছিল বলে ধারণা করে থাকেন। এর কিছুদিন আগে ১৯৯১ সালে ভারতের লোকসভা এই মর্মে একটি আইন পাস করেছিল যে, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে ভারতের স্বাধীনতা প্রাপ্তির দিনে রাষ্ট্রের সর্বত্র বিভিন্ন ধর্মের যে উপাসনালয়সমূহ ছিল, সেগুলো অবিকৃত অবস্থায় সেসব ধর্মের জনগণের উপাসনার সম্পূর্ণ অধিকার দিয়ে বজায় রাখতে হবে।

অর্থাৎ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দাবি অনুযায়ী সংখ্যালঘু নাগরিকের অধিকার হরণ করে কোনো মসজিদ কিংবা গির্জাকে মন্দিরে রূপান্তর করা যাবে না। বলাই বাহুল্য, বাবরি মসজিদের ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদীরা ভারত নামক রাষ্ট্রের প্রণীত আইন মানেনি। ভারতের কট্টর হিন্দুদের আইন ভাঙার উদাহরণ কেবল ১৯৯২ সালের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হয়নি; বরং সন্ত্রাসী কায়দায় বাবরি মসজিদ ভাঙার সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী মুসলমানদের একের পর এক উপাসনালয় বিভিন্ন উপায়ে কবজা করতে চেয়েছে। তাদের এই অন্যায় কাজে ভারতের আদালতসমূহ সর্বপ্রকারে সহায়তা প্রদান করেছে।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চ ২০১৯ সালে অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের সম্পূর্ণ জমি রামমন্দির নির্মাণের জন্য বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় অধিকার হরণকারী এক বিতর্কিত রায় দিলেও দৃশ্যত ভবিষ্যতে সংখ্যালঘুদের অন্য উপাসনালয় নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক এড়ানোর উদ্দেশ্যে রায়ে নিম্নোক্ত ধারাসমূহ সংযুক্ত করেছিলেন :

১. দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের স্থিতাবস্থা বজায় রেখে ১৯৯১ সালে ভারত সরকার যে আইন প্রণয়ণ করেছিল, বাবরি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো উপাসনালয়ের ক্ষেত্রে তার কোনোরূপ ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

২. ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা একটি চরম নিন্দনীয় এবং আইন ভঙ্গকারী ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড ছিল।

৩. যেহেতু বাবরি মসজিদ বেআইনিভাবে ভাঙা হয়েছিল, তাই ভারত সরকার অযোধ্যায় নতুন একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলমান জনগোষ্ঠীকে পাঁচ একর জায়গা বরাদ্দ করবে।

বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির ২০২৪ সালে নির্মিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত অযোধ্যায় নতুন মসজিদ নির্মাণের কোনোরকম অগ্রগতি হয়নি। উপরন্তু ভারতের বিপুলসংখ্যক হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী, দেশটির চরম সাম্প্রদায়িক সরকার, এমনকি হাইকোর্টের ইসলামবিদ্বেষী বিচারপতিরাও সংসদে প্রণীত আইন কিংবা সুপ্রিম কোর্টের কোনো রায়ের তোয়াক্কা যে করে না, সেটা কদিন আগে পুনরায় প্রমাণিত হয়েছে। ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের হাইকোর্ট ১৯৯১ সালের আইন এবং ২০১৯ সালে প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্টের ফুল বেঞ্চের নির্দেশ উপেক্ষা করে রাজ্যের পাঁচশ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক কামাল মওলা মসজিদে মুসলমানদের নামাজ পড়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে।

হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ মসজিদ ভবনকে সরস্বতী মন্দির ঘোষণা করেছে এবং সেখানে মুসলমানদের নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করেছে। অথচ ওই স্থানে চৌদ্দ শতকের বিখ্যাত সুফি কামালউদ্দিন চিশতির মাজার রয়েছে। কামাল মাওলা মসজিদের মতো মুসলমানদের আরো অনেক উপাসনালয় উগ্র হিন্দুদের নিশানায় রয়েছে। এ মুহূর্তে ভারতে এ ধরনের ১১টি মসজিদকে মন্দির ঘোষণার দাবিতে মামলা চলছে :

১. উত্তর প্রদেশের বারাণসীতে জ্ঞানবাপি মসজিদ : মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৬৯ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। হিন্দুরা দাবি করে যে এটা তাদের দেবতা শিবের মন্দির। মসজিদের ওজুখানার ঝরনার একটি অংশকে হিন্দুরা শিবলিঙ্গ দাবি করে সেখানে পূজাঅর্চনা করছে।

২. উত্তর প্রদেশের মথুরায় শাহী ঈদগাহ মসজিদ : মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৬৭০ সালে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। হিন্দুরা এই স্থানটিকে তাদের ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান বলে দাবি করে।

৩. উত্তর প্রদেশের সম্বল জেলায় জামা মসজিদ : ১৫২৬ সালে সম্রাট বাবরের একজন সেনাপতি মীর বেগ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। হিন্দুদের দাবি, এটি একটি বিষ্ণু মন্দির।

৪. উত্তর প্রদেশের লখ্নৌ তিলেওয়ালি মসজিদ : মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব সতেরো শতকে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। হিন্দুদের দাবি, এটি তাদের দেবীমন্দির।

৫. উত্তর প্রদেশের আগ্রায় সেলিম চিশতির দরগা এবং জামা মসজিদ : শেখ সেলিম চিশতি এই উপমহাদেশের অন্যতম বিখ্যাত সুফি ছিলেন। তিনি ১৪৭৮ সালে দিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৭২ সালে আগ্রার ফতেহপুর সিক্রিতে ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি বিখ্যাত সুফি ও কবি, বাবা ফরিদউদ্দিন গঞ্জশকরের বংশধর। মোগল সম্রাট আকবর সেলিম চিশতিকে খুবই সম্মান করতেন এবং সুফির নামানুসারে পুত্রের নাম সেলিম (সম্রাট জাহাঙ্গীর) রেখেছিলেন। হিন্দুরা তার দরগাহকে কোনো এক দেবী কামাখ্যার মন্দির বলে দাবি করে।

৬. উত্তর প্রদেশের জৌনপুর আটালা মসজিদ : দিল্লির সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক ১৩৭৬ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু করলেও সুলতান ইবরাহিম শারকি ১৪০৮ সালে নির্মাণ সমাপ্ত করেন। সে সময়ের বিখ্যাত সুফি নুর কুতুব আলমের আহ্বানে এই সুলতান ইবরাহিম শারকি রাজা গণেশকে পরাজিত করার জন্য বাংলা অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। সুলতানের আগমনে ভীত হয়ে রাজা গণেশ সিংহাসন ত্যাগ করলে ইবরাহিম শারকি বাংলা জয় না করেই জৌনপুরে ফিরে যান। সুফি নুর কুতুবের কাছে রাজা গণেশের ছেলে মুসলমান হয়ে সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদ শাহ নামে ১৬ বছর বাংলা শাসন করেছিলেন। হিন্দুরা দাবি করেছে যে, জৌনপুর আটালা মসজিদের স্থানে প্রাচীনকালে কোনো এক আটালা দেবীর মন্দির ছিল।

৭. উত্তর প্রদেশের বাদাউন শামসি মসজিদ : দিল্লির বিখ্যাত সুলতান ইলতুৎমিশ ১২২৩ সালে শামসি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এটি ভারতের তৃতীয় প্রাচীনতম এবং সপ্তম বৃহত্তম মসজিদ। এখানে ২৩ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। হিন্দুরা স্থানটিকে মহাদেবের অর্থাৎ শিবের মন্দির দাবি করে মামলা করেছে।

৮. দিল্লির কুতুব মিনার কুয়াতুল ইসলাম মসজিদ : দিল্লির প্রথম মুসলিম শাসক সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক বারো শতকে কুতুব মিনার নির্মাণ করেছিলেন। কুতুবউদ্দিন আইবেক ঘুরি অর্থাৎ আফগানিস্তানের শাসক সুলতান মুইজউদ্দিন শিহাবউদ্দিন ঘুরির তুর্কি বংশোদ্ভূত সেনাপতি ছিলেন। হিন্দুরা দাবি করে যে, দিল্লির ওই স্থানে ২৭টি মন্দির ধ্বংস করে সুলতান আইবেক কুতুব মিনার নির্মাণ করেছিলেন।

৯. রাজস্থানে আজমির শরিফ দরগাহ : খাজা মইনউদ্দিন চিশতি আমাদের উপমহাদেশের সবচেয়ে সম্মানিত মুসলিম সাধক হিসেবে পরিচিত। তিনি পারস্যের সিস্তান অঞ্চল থেকে তেরো শতকের প্রথম দিকে হিন্দুস্তানে আসেন এবং রাজস্থানের আজমিরে তার দরগাহ প্রতিষ্ঠা করে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। মুসলমানদের অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনার মতোই হিন্দুরা আজমির শরিফকেও তাদের মন্দির বলে দাবি করে।

১০. কর্ণাটকের মাঙ্গালুরু মালালি মসজিদ : এই মসজিদের নির্মাণকাল এবং নির্মাতা সম্পর্কে তেমন কিছু জানা না গেলেও হিন্দুরা ২০২২ সালে আকস্মিকভাবে এটিকে তাদের মন্দির হিসেবে দাবি করতে শুরু করে। তুলনামূলকভাবে মালালি মসজিদ সাম্প্রতিক কালে নির্মিত।

১১. মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় কামাল মাওলা মসজিদ : এই মসজিদের ইতিহাস আগেই বর্ণনা করেছি। মধ্যপ্রদেশের আদালত এখানে মুসলমানদের নামাজ পড়ার অধিকার গত সপ্তাহে হরণ করেছে।

উপরোক্ত এগারোটি মসজিদ ও ইসলাম ধর্মীয় স্থাপনাকে মন্দির দাবি করে ভারত সরকারের মৌন সমর্থনে বিজেপির হিন্দুত্ববাদীরা ইতোমধ্যে ভারতের বিভিন্ন আদালতে মামলা দায়ের করেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করতে সফলকাম হয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদভুক্ত কট্টরপন্থি হিন্দুরা বিভিন্ন সমমনা প্ল্যাটফর্ম থেকে উপরোক্ত তালিকার বাইরেও অসংখ্য মসজিদ এবং সুলতানি ও মোগল আমলের বিভিন্ন স্থাপনাকে মন্দির দাবি করে অনবরত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে চলেছে। এসব দাবি করা স্থাপনার মধ্যে সারা বিশ্বে সমাদৃত সম্রাট শাহজাহানের অমর স্থাপত্যকীর্তি তাজমহলও রয়েছে।

প্রিয়তমা স্ত্রী মুমতাজের মৃত্যুর পর তার স্মৃতি রক্ষার্থে মোগল সম্রাট মধ্যযুগের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম এই দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর নির্মাণ সপ্তদশ শতকের মাঝামাঝি সম্পন্ন করেছিলেন। ১৭০৭ সালে সম্রাট শাহজাহানের মৃত্যুর পর তাকে স্ত্রীর পাশে কবর দেওয়া হয়। একাধিক হিন্দু গোষ্ঠী উদ্ভট যুক্তিতে তাজমহলের মালিকানা দাবি করে ভারতের আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করেছে। তাদের সেসব দাবির মধ্যে রয়েছে নানাবিধ প্রাচীন মন্দিরের অপ্রমাণিত অস্তিত্ব এবং জমির ভুয়া মালিকানা। এখন প্রশ্ন হলো, বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের মতো করে ভারতের ক্ষমতাসীন উগ্র হিন্দু দলটি ভবিষ্যতে কি তাজমহল ভেঙে সেখানেও মন্দির তৈরি করবে?

আমার ধারণা, ভারতের সব মসজিদ বিজেপির সন্ত্রাসীরা ভেঙে ফেললেও তারা তাজমহলে কখনো হাত দেবে না। তাজমহল না ভাঙার পেছনে সম্রাজ্ঞী মুমতাজ মহল কিংবা সম্রাট শাহজাহানের প্রতি ওদের বিশেষ কোনো প্রীতির ব্যাপার নেই। নিজেদের স্বার্থেই মোদি গংকে মোগল আমলের স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্তত তাজমহল সংরক্ষণ না করে উপায় নেই। বিগত পাঁচশ বছর ধরে বিদেশে ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং তর্কাতীত নিদর্শন কিংবা চিহ্ন হলো তাজমহল। বিদেশের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা কোনো বিখ্যাত ব্যক্তি ভারত সফরে এলে তাজমহল অবশ্যই তাদের দ্রষ্টব্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো দুদিনের ভারত সফরে এসে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে তাজমহল দেখতে আগ্রা গিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পও স্বামী জারেড কুশনারকে নিয়ে তাজমহলে গিয়েছিলেন।

ইভাঙ্কা ট্রাম্প তাজমহলের সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়েছিলেন। এ ছাড়া প্রতি বছর ছয় লাখেরও অধিক বিদেশি পর্যটক শুধু তাজমহল দেখতে ভারতে আসেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায় কোনো মুসলমান চরিত্র খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হলেও নোবেল বিজয়ী কবি একমাত্র তাজমহলের কারণেই সম্রাট শাহজাহানকে নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন।

সুতরাং, এমন একটি বিশ্বখ্যাত কীর্তি ধ্বংস করায় সম্মতি প্রদান করা একেবারে উন্মাদ না হলে ভারতের কোনো সরকারপ্রধানের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে আগ্রাসী দেশটির কোনো প্রধানমন্ত্রী তাজমহল ভাঙার হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে আমি সেই বর্বরতায় দুঃখ পেলেও, অসন্তুষ্ট হব না। কারণ, তথাকথিত ‘সেক্যুলার ভারত’ নিয়ে আমেরিকা ও ইউরোপের প্রভাবশালী সংস্থাসমূহের (Establishment) অন্ধত্বের অবসান হওয়া আঞ্চলিক শান্তির জন্য একান্ত জরুরি। ভারতের কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার অনেক আগেই অবসান ঘটেছে। দেশটির প্রকৃত কট্টর সাম্প্রদায়িক ও হেজেমনিক চেহারা ক্রমেই উন্মোচিত হলে বিশ্ববাসী এই অঞ্চলের ছোট রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা অধিকতর উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।