Image description

Shafin Rahman(শাফিন রহমান)


 
গতকাল রাম নবমী উপলক্ষ্যে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ, মুর্শিদাবাদ, ইসলামপুর, হুগলি, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গায় মুসলিমদের উপর হামলা করেছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা। মুসলিমদের বাড়িঘর, ব্যাবসা-প্রতিষ্ঠানে আগুন সহ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে অসংখ্য স্থাবর অস্থাবর স্থাপনা। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের এই হামলাকে ইতিমধ্যেই উনো রিভার্সের মাধ্যমে মুসলিমদের উপর চাপানোর চেষ্টা হয়েছে; যা ভারতের হিন্দুত্ববাদীদের জন্য খুবই স্বাভাবিক। এই কাজ তারা সবসময়ই করে থাকে। এনিয়ে কয়েকটি ভারতীয় মেইনস্ট্রিম মিডিয়া ফেব্রিকেটেড হলেও অন্ততপক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু ২৩ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও এখন অব্দি কি আপনি কোনো বাংলাদেশি মেইনস্ট্রিম মিডিয়াকে মুসলিমদের উপর হামলার নিউজ কাভার করতে দেখেছেন? আমিও দেখিনি। কিন্তু আফগানিস্তানে পাকিস্তানী বিমান হামলায় ৪০০ রোগী মারা যাওয়ার মিথ্যা সংবাদ প্রচার করতে বাংলাদেশি মেইনস্ট্রিম থেকে শুরু করে অল্টার মিডিয়া— কেউই খুব বেশি সময় নেয়নি। অর্থাৎ বাংলাদেশি মিডিয়া এবং নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর এইযে সিলেক্টিভ প্রটেস্ট, টেকনিক্যাল বায়সনেস— এসবই পরোক্ষভাবে হিন্দুত্ববাদের অখণ্ড ভারত কনসেপ্টকে সমর্থন জোগায়। হয়ত তারা স্বজ্ঞানে স্বেচ্ছায় সমর্থন দেন না, তবে তাদের অবচেতন মনের মৌন সমর্থনেই ভারত যথেষ্ট লাভবান হয়ে যায়।
 
আজ যখন আপনি ২৪ ঘন্টারও কম ব্যবধানে আপনার ভূখণ্ডের নিকটে ঘটে যাওয়া জাতভাইয়ের উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ জানাতে অক্ষমতা প্রদর্শন করেন এবং একইসাথে ৫৪ বছর পূর্বে আপনার বাপ দাদার উপর পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর বৈষম্যমূলক আচরণকে লাইমলাইটে আনেন— তখন আপনি মূলত সচেতনভাবেই ইন্ডিয়ান গুডবুকে থাকতে চান বলেই প্রমাণিত হয়ে যায়।
 
আপনি হয়ত বলবেন: ‘একাত্তরে পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক আচরণের সমালোচনা করা মানেই ভারতীয় গুডবুকে থাকার চেষ্টা'.? উত্তর হলো 'না'। বরং একাত্তরে বাঙ্গালীর মিলিটারিলি অর্গানাইজ হওয়ার পূর্বে তাদেরকে ওপার বাংলা থেকে আমদানিকৃত ‘বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ’ নামক বস্তাপঁচা আদর্শের গ্যাড়াকলে ফেলে আইডিওলজিক্যালি অর্গানাইজ করার যে ভারতীয় চিন্তা— আপনি সেই চিন্তাকে বাদ দিয়ে রেখে শুধুমাত্র পাকিস্তান সরকারের বৈষম্য কপচানোর কারণেই আপনাকে ইন্ডিয়ান গুডবুক সীকার (Indian Goodbook Seeker) হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। কারণ বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদ কনসেপ্টকে প্রেক্ষাপট থেকে গায়েব করে দিতে চাওয়াটা শুভঙ্করের ফাকি।
 
আপনি একাত্তর মুভমেন্টের কিচ্ছু না হলেও অন্তত শুরু এবং শেষ নিয়ে কথা বললেও ভারতের রাজনীতি করার জায়গা থাকেনা। শুরুটা হলো বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ আর শেষটা হলো আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধকে বিভিন্নভাবে ভারতের নিজের করে নেওয়ার চেষ্টা। একইসাথে আমাদের বিজয় পরবর্তী স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ২৭০০ কোটি টাকার অস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী লুট করে নিয়ে যাওয়ার ইতিহাস!
আমাদের যারা পাকিস্তানের বৈষম্য নিয়ে কথা বলি, তারা কি ভারতের এই লুটপাটের ইতিহাসের নিন্দা করি? করিনা। আমরা প্রশ্ন করিনা কেনো আমাদের সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে যশোর ক্যান্টনমেন্টে ঢুকতে দিতে চায়নি ভারত?
 
আমরা যেমন পাকিস্তানের বৈষম্য, অপরাধের কথা বলি তেমনিভাবে ভারতের অপরাধগুলি নিয়েও কথা বলা উচিত।
ব্যালেন্স অব থ্রেট থিওরি বলে একটা টার্ম আছে। এই টার্মের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য একটি কথা হলো: থ্রেট কম দুরত্বে খুব দ্রুত মুভ করে।
চিন্তা করে দেখুন তো, কোনটা বেশি দূরে- মুর্শিদাবাদ না ইসলামাবাদ.?
 
আমরা যখন ব্রডার রিজিওনাল কন্টেক্সটে কথা বলব, তখন ‘কাউন্টারব্যালেন্স' নামক টার্মটি উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠবে। আর এই টার্মটি আপনার কাছে তখনই উল্লেখযোগ্য বলে মনে হবে যখন আপনি এটা বুঝবেন যে পাকিস্তান আপনার বাপ দাদার শত্রু, কিন্তু ভারত আপনার বাপ দাদা, আপনার এবং আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মেরও শত্রু।
(মুর্শিবাবাদে মুসলিমদের উপর হামলার ভিডিওগুলি কমেন্ট বক্সে দেওয়া হলো)