কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে কারিগরি সমস্যা দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণির গ্রাহকের ভোগান্তি বেড়েছে। রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক সিএনজি স্টেশন বন্ধ আছে। বেশ কিছু স্টেশনে পরিমাণমতো গ্যাস দিতে পারছে না। এতে নগরীর কয়েকটি স্থানে সিএনজি নিতে স্টেশনগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। গতকাল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনে যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তবে সীমিত সরবরাহের মধ্যে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতে গ্যাস দেওয়া অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।
জ্বালানি বিভাগের দেওয়া ব্যাখ্যায় জানানো হয়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউটির কারিগরি সমস্যা। তবে দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি খাতে বেড়ে চলা আমদানিনির্ভতার কারণেও গ্যাস সংকটের প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে। বিগত সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর কাজে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এতে আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটিতে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ পড়ে।
এই নির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। জ্বালানি বিভাগ বলছে, গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি বা একনেকের সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে অংশীদারিত্ব চুক্তি বা পিএসসির আওতায় দরপত্র আহ্বানের পাশাপাশি দেশিবিদেশি বিনিয়োগ আনার কার্যক্রমও চলছে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা বাড়াতেও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে চতুর্থ ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনে দরপত্র আহ্বান, মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকে এলএনজি আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাই এবং ভোলার গ্যাস দেশের মূল ভূখে আনার জন্য পাইপলাইনসহ বিভিন্ন পরিবহনব্যবস্থা পর্যালোচনা। সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সংকট নেই। আজকের দিনে ডিজেলের মজুত আছে প্রায় ৩১ দিনের। অকটেন আছে ৩৬ দিনের। পেট্রোল আছে ২০ দিনের। ফার্নেস অয়েল আছে ২৫ দিনের এবং জেট ফুয়েল আছে ২০ দিনের। তেল নিয়ে আগামী জুলাই-আগস্ট মাস পর্যন্ত আমাদের কোনো সমস্যা নেই।