Image description

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ বা ডেভিলস ব্রেথ (স্কোপোলামিন) নামে পরিচিত ভয়ংকর মাদক ব্যবহারের মাধ্যমে এক নার্সের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। অভিনব কৌশলে মাতৃত্বের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ভুক্তভোগীকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে এ প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (১৭ মে) বিকেলে উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রতারকরা নার্স নিলিমা রানী বেপারীর কাছ থেকে গলার চেইন, কানের ঝুমকা, হাতের রুলি, আংটি এবং দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরিবারের দাবি— লুট হওয়া সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকার বেশি।

ভুক্তভোগী নিলিমা রানী বেপারী জানান, তিনি একটি কম্পিউটারের কাজের জন্য বাজারে যাচ্ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তাকে ‘মায়ের মতো’ সম্বোধন করে সাহায্য চান। পরে আরও কয়েকজন এসে বিভিন্ন পরিচয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা তাকে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরায় এবং একটি ব্যাগে থাকা মালামাল বিক্রির কথা বলে।

নিলিমা রানী বেপারী আরও জানান, এরপর কীভাবে তিনি নিজের স্বর্ণালঙ্কার খুলে তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন, তা স্পষ্টভাবে মনে করতে পারছেন না।

ভুক্তভোগী নিলিমার স্বামী শংকর বড়াল জানান, অপরিচিত ব্যক্তিরা তার স্ত্রীকে ঘিরে ধরার পর থেকেই তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তাদের ধারণা, কোনো ধরনের কেমিক্যাল বা মাদক প্রয়োগ করেই এই প্রতারণা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, নেছারাবাদে এর আগেও একই ধরনের কৌশলে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। সচেতন মহল দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, স্কোপোলামিন বা ‘ডেভিলস ব্রেথ’ অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মাদক। এটি তরল বা পাউডার আকারে কাগজ, কাপড় বা ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ভুক্তভোগীর স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি ও স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে লোপ পায়, ফলে সে অপরাধীদের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, রাস্তায় চলাচলের সময় অপরিচিত কারও দেওয়া কাগজ, কার্ড বা কাপড় মুখের কাছে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করে সতর্ক থাকা উচিত।

নেছারাবাদ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।