Image description

শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। ক্লাস, পরীক্ষাসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, বর্তমান উপাচার্য সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। সংকট নিরসনে নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রত্যাশা করছেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ২৪ জন শিক্ষক অধ্যাপক, ৩০ জন সহযোগী অধ্যাপক এবং ৬ জন সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন।

গত ২১ এপ্রিল শিক্ষকেরা পদোন্নতির দাবিতে প্রথম দফায় কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে ৫ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা আন্দোলন শিথিল করেন। কিন্তু ৯ মে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় পদোন্নতির বিষয়ে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গত সোমবার থেকে শিক্ষকেরা আবারও অনির্দিষ্টকালের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। একই সঙ্গে তারা উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

আন্দলনকারীদের দাবির ব্যাপারে উপাচার্যের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) গত জানুয়ারিতে জারি করা ‘অভিন্ন নীতিমালা’র ভিত্তিতেই শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। আর এ জন্য নতুন বিধি প্রণয়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন।

তবে শিক্ষকেরা দাবি করছেন, ইউজিসির ওই নতুন নীতিমালা জারির ছয় মাস আগেই তাদের পদোন্নতি বোর্ডের বৈঠক ও সুপারিশ সম্পন্ন হয়েছিল। তাই নতুন নীতিমালা তাদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো বাধা হতে পারে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান হাফিজ আশরাফুল হক বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য এই সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। তার প্রতি আমাদের কোনো আস্থা নেই।’

তিনি অভিযোগ করেন, গত দুই বছর ধরে শুধু শিক্ষকদেরই নয়, কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সব ধরনের বেতন স্কেল বৃদ্ধি বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভিসি একেক সময় একেকটি কথা বলছেন। উনি যদি অপারগ হতেন, তাহলে তা স্পষ্ট করে বলতে পারতেন। বিষয়টি এভাবে না বলে তিনি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করেছেন।’

হাফিজ আশরাফুল হক আরও জানান, আন্দোলনরত ৭১ জন শিক্ষক ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, আরও বেশ কয়েকজনের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া বাকি আছে। কেউ কেউ ঢাকায় আছেন, কেউ অসুস্থ। আমরা সবগুলো পদত্যাগপত্র একত্রে সংগ্রহ করে কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেবো।

বুধবার (১৩ মে) ক্যাম্পাসে দেখা যায়, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি একেবারেই নেই। রেজিস্ট্রার ভবন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর ও হিসাব বিভাগসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যালয়ে তালা ঝুলছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদের আগে তাদের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বারবার পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় তারা এখন সেশনজট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

জানা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম গত মঙ্গলবার থেকেই ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বর্তমানে রাজধানীতে অবস্থান করছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে বুধবার দুপুরে তার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির কোনো অগ্রগতি নেই। স্যার (উপাচার্য) শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পারেননি। পরিস্থিতি আগের মতোই আছে।’

শীর্ষনিউজ