সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচনের মনোনয়ন নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন আইনজীবী পিয়া জান্নাতুল। তিনি বলেছেন, ‘অনেকের নমিনেশন বাতিল হয়েছিল, তাদের নিয়ে যদি একসঙ্গে ভোট দেওয়া হতো, আইনজীবীদের নেতা কে হবেন, তারা ভালো করে দেখতে পারতেন।
বুধবার (১৩ মে) সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে ভোট দেওয়া শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল ১০টায় শুরু হয় এই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। চলবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
পিয়া জান্নাতুল আরো বলেন, ‘এখানে অনেক স্বতন্ত্রও ছিল। তাদেরও নমিনেশন দেওয়া হয়নি। আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী, এই পন্থী ওই পন্থী এটা নিয়ে কোনো কথা নেই। আমরা এখানে সবার আগে আইনজীবী।
তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো অনেকে অনেক প্যানেল থেকে দাঁড়ায়। আমি চাইব, আইনজীবীদের জন্য যারা কাজ করব, তারা যেই প্যানেল থেকেই আসুক না কেন, কে আওয়ামী লীগ, কে বিএনপি কে জামায়াত এটা আমার দেখার বিষয় নয়। ভোট দিয়ে তার ভালো লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, গত ২৮ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন বৈধ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী।
নির্বাচনে বিএনপির জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন।
দুই সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ আলী এবং কোষাধ্যক্ষ পদে রয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান।
সহ-সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল। সদস্য পদে রয়েছেন এ কে এম আজাদ হোসেন, এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া, রিপন কুমার বড়ুয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী।
জামায়াত সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’ থেকে সভাপতি পদে রয়েছেন আবদুল বাতেন। সহ-সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল হক ও মইনুদ্দিন ফারুকী।
সম্পাদক পদে এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার এবং কোষাধ্যক্ষ পদে এস এম জাহাঙ্গীর আলম প্রার্থী হয়েছেন। সহ-সম্পাদক পদে রয়েছেন মো. তারিকুল ইসলাম ও যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া।
সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী, ফারজানা খানম, ইসরাত জাহান অনি, মো. ফয়েজউল্লাহ, মো. জুবায়ের টিটু, মাহমুদুল হাসান ও মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন লিংকন।
এনসিপি সমর্থিত ‘লাল-সবুজ প্যানেল’ এবার আংশিক প্যানেল ঘোষণা করেছে। এ প্যানেল থেকে সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আজমল হোসেন বাচ্চু। সহ-সম্পাদক পদে রয়েছেন মোস্তফা আসগর শরীফী।
সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমিনা আক্তার লাভলী, কাজী আকবর আলী, মো. বনি আমিন ও মাজহারুল ইসলাম।
এ ছাড়া প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র হিসেবে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইউনুছ আলী আকন্দ। সম্পাদক পদে রয়েছেন ফরহাদ উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. আবু ইয়াহিয়া দুলাল, মো. ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আশরাফ উজ-জামান খান। সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. জোবায়ের তায়েব ও তপন কুমার দাস।