Image description

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-থ্রিতে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশের নাগরিক। ঢাকায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত বাংলাদেশিরা হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে মো. শাহেদ আহম্মেদ। এর মধ্যে বদরপুরি ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। আর শাহেদ আহম্মেদ সৌদি আরবেই কাজ করতেন।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবে হুতিদের হামলায় দুই জন বাংলাদেশি নিহতদের পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছেন আরো চার জন। বাংলাদেশি সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে তারা চিকিত্সাধীন রয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের আল খুরাইস এলাকায় আরামকোর একটি স্থাপনায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে বাংলাদেশি নাগরিক মো. সজিব হোসেন নিহত হন।

জানা যায়, গত শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের টার্মিনাল-৩ এর ওপর একটি ক্ষেপণাস্ত্র এসে পড়ে। এ সময় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা সেখানে অপেক্ষমাণ ছিল। 

এয়ারলাইনসগুলোকে সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বাংলাদেশি ছাড়াও নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চার জন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন। হামলার পর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। হামলার জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। হামলার জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করে ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে সৌদি জোট।

মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই জন বাংলাদেশি নিহতদের পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়ে চার জন একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা সবার পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা করছি। এই ঘটনায় যারা নিহত হয়েছে তাদের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হবে রাষ্ট্রীয় খরচে।

হামলার তীব্র নিন্দা বাংলাদেশের

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই জন বাংলাদেশিসহ ১২ জন হতাহতের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নিহতদের বিস্তারিত তথ্য পেতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করতে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন।

বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্নকারী এবং বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে যে কোনো হামলা গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এ ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে সংহতি জানানোর পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের সমাধান বের করার আহ্বান আবারও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে শত্রুতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার নিন্দা ও ক্ষোভ ধর্মমন্ত্রীর

রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্বরোচিত হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকসহ প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক, উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। গতকাল ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে জানানো হয়, হামলায় ভুক্তভোগী উমরাহ কাফেলার জিম্মাদার মোহাম্মদ আলী কাশেমীর সঙ্গে কথা বলেছেন ধর্মমন্ত্রী এবং আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, আহত বাংলাদেশিদের চিকিত্সা, সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সৌদি আরব মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও আবেগের স্থান। এ দেশেই অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ আল্লাহর ঘর এবং মদিনা মুনাওয়ারায় রয়েছে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সমগ্র মুসলিম বিশ্বের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবের ওপর যে কোনো ধরনের হামলা মুসলিম বিশ্ব কখনোই মেনে নেবে না। তিনি বলেন, এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।