Image description

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের বর্তমান বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমকে কেবল একটি কর্তব্য নয়, বরং মানবতার প্রতি এক বড় দায়িত্ব মনে করে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আরও শক্তিশালী ও দূরদর্শী সংস্কারের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কার্যপরিধি, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং সেনা ও পুলিশ প্রেরণকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা বাড়ানোর ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। বুধবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রাংকোফোন পরিবেশে শান্তিরক্ষা’ বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

আরও কার্যকর শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এগিয়ে নিতে ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব বাড়ানোর তাগিদ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আধুনিক শান্তি তৎপরতার উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরে তিনি অপপ্রচার, ডিজিটাল হয়রানি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে প্রযুক্তির নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

শামা ওবায়েদ ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিং’ (বিপসট)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মিশনপূর্ব উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

বিশ্ব শান্তির সেবায় জীবন উৎসর্গকারী ১৭৪ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘের কার্যক্রমে বাংলাদেশ নারী শান্তিরক্ষীদের অংশগ্রহণ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে।

 

তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের যে শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে আরও সুসংহত হয়েছিল। সেই পররাষ্ট্রনীতি আজও বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি দেশের অঙ্গীকারকে পথ দেখাচ্ছে। সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা সংস্কার এবং নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের চলমান উদ্যোগগুলো তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এগুলোকে টেকসই শান্তির মূল ভিত্তি হিসেবে বর্ণনা করেন।

মরক্কো ও ফ্রান্স সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৬ সালে ফ্রান্সে এই ফোরামের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সম্মেলনে মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সন্ধ্যায় শামা ওবায়েদ ‘গ্লোবাল গ্রোথ কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশ নেন। সেখানে ‘জিওপলিটিক্স অব ফ্র্যাগমেন্টেশন: পাওয়ার, এস্কেলেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিঅর্ডারিং’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে তিনি মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। ওই অধিবেশনে তিনি পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ভূরাজনীতি, ক্ষমতার পালাবদল এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক বিভাজনের কৌশলগত প্রভাবের ওপর বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।