Image description

সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির পর দলীয় নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বানকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের চাপ দিন দিন বাড়লেও তিনি সরে দাঁড়ানোর কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, তিনি সরকার পরিচালনা চালিয়ে যাবেন।

মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্টারমার বলেন, গত ৪৮ ঘণ্টার রাজনৈতিক অস্থিরতা সরকার ও দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে।

 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে মন্ত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের মানুষ সরকারের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে। তাদের এখন মূল কাজ হওয়া উচিত- সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়া।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং প্রধান কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে নির্বাচনে লেবার পার্টির খারাপ ফলাফলের দায় নিচ্ছেন স্টারমার। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

এ নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার এক মন্ত্রী ও কয়েকজন মন্ত্রীর সহকারী পদত্যাগ করেছেন। 

মন্ত্রী মিয়াট্টা স্টারমার সরকারের ধর্ম ও সম্প্রদায় বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সরকারের অগ্রগতি ও নীতি বাস্তবায়নে সন্তুষ্ট না হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।

একই সঙ্গে তিনি লেবার পার্টিতে সুশৃঙ্খল ক্ষমতা হস্তান্তর করার আহ্বান জানান।

 

পদত্যাগপত্রে ফানবুলেহ বলেন, সরকার ভোটারদের কাছে যে দৃষ্টিভঙ্গি, গতি এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ আর বিশ্বাস করছে না যে স্টারমার দেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারবেন। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান, যাতে নতুন নেতৃত্ব লেবার পার্টির প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারে।

এদিকে দলের নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে ইতোমধ্যে ৮০ জনের বেশি লেবার এমপি প্রকাশ্যে স্টারমারকে পদত্যাগের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

 

সোমবার নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করে স্টারমার বলেছিলেন, দেশের নানা সংকট মোকাবিলায় তার সরকার আরও দ্রুত ও সাহসী পদক্ষেপ নেবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, মাত্র দুই বছর আগে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর যদি লেবার পার্টি আবার নেতৃত্ব সংকটে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে ব্রিটিশ জনগণ দলটিকে কখনও ক্ষমা করবে না।

ব্রিটেনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের গণভোটের পর এক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই লেবার পার্টি ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংকট স্টারমারের নেতৃত্বকে এখন বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে।