নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসানকে দেখে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই স্পিডবোটের চালক বোড নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। মন্ত্রীসহ উপস্থিত সবাই চালককে ঘাটে স্পিডবোট ভেড়ানোর জন্য নানাভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তিনি দ্রুত স্পিডবোট নিয়ে সটকে পড়ে।
বুধবার (১১ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে মানিকগঞ্জের আরিচা স্পিডবোট ঘাট পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে তিনি কাউন্টারে এসে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও বোড মালিকদের সঙ্গে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
প্রতিমন্ত্রী এসময় স্পিডবোট মালিক ও বিআইডব্লিউটিএ কর্মকতাদের কাছে কতজন লোক পাড়াপাড় করতে পারবে তা জানতে চান। নিয়মানুযায়ী প্রতিটি বোটে ১২ জন করে যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও এ নৌ রুটে ১৮-২০ জন যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে পারাপারের বিষয়টি অবগত হন। বিষয়টি নিয়ে এক মালিক প্রতিমন্ত্রীক ১২ জন যাত্রী নিলে ব্যবসায় লাভ হয় না বললে এসময় প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আপনাদের লাভ না হলে স্পিডবোট চালানোর দরকার নেই। অন্য কেউ নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে।
বিআইডব্লিউটিএ নৌ ট্রাফিকের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, স্পিডবোটে অতিরিক্ত বহন ও লাইফ জ্যাকেট না থাকায় মালিক বাতেন মন্ডল ও চালক সৈকত মন্ডলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মেরিন কোর্টে এ নিয়ে আগামীকাল একটি মামলা দায়ের করা হবে।
পরে তিনি আরিচা, পাটুরিয়া, দৌলতদিয়া ঘাটে আসন্ন ঈদে যাত্রী পারাপারের প্রস্তুতি দেখতে সরেজিমনে যান।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, বর্ষা মৌসুমে নদীতে ভাঙনের কবলে পড়া ঘাটগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। ফেরি ঘাটগুলো ড্রাইভেশন করে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। আশা করি ঈদে যাত্রীরা কোনো প্রকার দুর্ভোগ ছাড়া পারাপার হতে পারবে।
পরিদর্শনকালে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব মহিদুর ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম (পিপিএম), বিআইডব্লিউটিএর চিফ ইঞ্জিনিয়ার এইচ এম ফরহাদুজ্জামান, পরিচালক বন্দর এ কে এম আরিফ উদ্দিন, শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রাণী কর্মকার, বিআইডব্লিউটিএ-টিসি, স্পিডবোট ও লঞ্চ মালিক সমিতিসহ ঘাট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।