নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সালের বসতবাড়িতে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরদিন ১১ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ফয়সালের ছোট ভাই রায়হাতুল মাহমুদ। মামলায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ২০/২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাগপাড়া এলাকায় কৃষক দল নেতার বসতবাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামীরা হলো একই এলাকার দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (৬০), ইরফান ভূঁইয়া (২৭), ইয়ার হোসেন ভূঁইয়া (৫৮), ইমন ভূঁইয়া (২৫), মেজবা ভূঁইয়া (৩১), আক্তার হোসেন ভূঁইয়া (৩৫), ফয়সাল ভূঁইয়া (৩০), রেজাউল করিম (৪৮), শিমুল হোসেন গিট্টু (২৯), মনির ভূঁইয়া (৪৭), আলাল ভূঁইয়া (৩৮), তৌহিদ ভূঁইয়া (৪০), জনি হোসেন (৩০), মনির ওরফে সুটার মনির (৪০), সোহেল (২৮), আলাউদ্দিন (৩৫), মো. ফারুক (৫২), মৌসুমী ভূঁইয়া (৫০), সিনহা আফরিন ভূঁইয়াসহ (২২) অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, সজীব কাজী নামে কৃষক দল নেতা সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সালের রাজনৈতিক এক সহযোগীকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার দুপুরে মারধর করে আসামিরা। খবর পেয়ে ফয়সাল গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর জের ধরে রাত অনুমান সাড়ে ১০টায় আসামিরা ফয়সালের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর চালায়।
নারয়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মাহমুদ ফয়সাল বলেন, আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের দোসর। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জুলাইয়ের হত্যা মামলাও রয়েছে। আসামিদের এমন ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া হামলার কথা অস্বীকার করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ফয়সাল ও তার লোকজন আমার ড্রেজারের ব্যবসা থেকে চাঁদা দাবি করে আসছে। মঙ্গলবার থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়ে আসার পথে তার বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার ভাতিজা ফয়সাল, মেজবা ও আকাশ গুরুতর আহত হয়। আমাদের অভিযোগ প্রতিহত করতেই তারা হামলার মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, কৃষক দল নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনায় আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছে।