Image description

লন্ডনে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ২৬তম বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সংকটের চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে বাংলাদেশে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, অথচ নতুন করে এখনও অনুপ্রবেশ ঘটছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ধীরে ধীরে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

 

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের সঙ্গে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

রোববার (৮ মার্চ) লন্ডনের ল্যাঙ্কাস্টার হাউজে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে কমনওয়েলথভুক্ত ৫৬টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সোমবার (৯ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়।

 

সভায় বিশ্বব্যাপী নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অবক্ষয় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কমনওয়েলথ শীর্ষ সম্মেলনের জন্য এ বৈঠকে দিকনির্দেশনা ও কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ছিল অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ। তিনি বলেন, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত।

 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও রাজনীতিতে বিনয় এবং নতুন চিন্তার সংযোজনের মাধ্যমে কমনওয়েলথের মূল্যবোধকে শক্তিশালী করছেন।

 

বাংলাদেশের নির্বাচন পর্যবেক্ষণে শক্তিশালী পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর জন্য কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ওই পর্যবেক্ষক দলের প্রতিবেদনে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে প্রশংসা করা হয়েছে।

 

বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

 

বৈঠকের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

 

এ ছাড়া কানাডার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি রবার্ট অলিফ্যান্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যালভিন বোটেস, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ই. পি. চেট গ্রিন ও ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল অকুদজেতো আবলাকওয়ারের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

 

এসব বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার জন্য সমর্থনও চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইতিবাচক আশ্বাস পান।

 

আগামীকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেইয়ে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ডে উদ্‌যাপনে অংশ নেবেন। পরে সেন্ট জেমস প্যালেসে আয়োজিত এক সংবর্ধনাতেও যোগ দেবেন।