Image description

বিভিন্ন পেশায় পুরুষের পাশাপাশি বাংলাদেশের নারীরা সমানতালে কাজ করে চলেছেন। অন্যান্য পেশার মতো কূটনীতির ক্ষেত্রেও পিছিয়ে নেই তারা। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের নারী কূটনীতিকরা এখন দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে শামা ওবায়েদকে।

তিনি সরকারের কূটনীতির মতো একটি জটিল বিষয় দেখভাল করছেন। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৮০ জনেরও বেশি নারী কূটনীতিক দেশে ও বিদেশে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিভিন্ন দেশে নারী রাষ্ট্রদূত
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আটজন নারী রাষ্ট্রদূত ও মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা একদিকে বিদেশে বাংলাদেশকে তুলে ধরছেন, অন্যদিকে দেশের কূটনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করছেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রাবাব ফাতিমা। লন্ডনে বাংলাদেশের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আবিদা ইসলাম। কানাডায় রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান, মিশরে সামিনা নাজ, গ্রিসে নাহিদা রহমান সুমনা, মরক্কোয় সাদিয়া ফয়জুন্নেসা, ভুটানে মালেকা পারভীন এবং ব্রুনাই দারুস সালামে নওরিন আহসান মিশন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মিয়ামিতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সেহেলি সাবরীন।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মন্তব্য জানতে চাইলে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বাংলানিউজকে বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিদিনই নারী দিবস। আমি কর্মক্ষেত্রে নিজেকে নারী হিসেবে দেখি না, একজন মানুষ হিসেবে দেখি।’

দীপু মনি থেকে শামা ওবায়েদ
স্বাধীনতার ৫৫ বছরে বাংলাদেশে দুজন নারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ সালে প্রথমবারের মতো পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্ব পান ডা. দীপু মনি। আর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

নারী হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘অনেক সময় নারীদের তাদের কাউন্টারপার্টদের তুলনায় দ্বিগুণ কাজ করতে হয়। পুরুষ সহকর্মীদের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করে নিজেকে যোগ্য ও দক্ষ হিসেবে প্রমাণ করতে হয়। তবে পথ কঠিন হলেও হাল না ছেড়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত
বাংলাদেশে কিছুটা দেরিতে হলেও নারী কূটনীতিকরা নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদা হক চৌধুরী। তিনি ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ভুটানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে বাংলাদেশের প্রথম নারী কূটনীতিক ছিলেন নাসিম ফেরদৌস। তিনি ১৯৭৭ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রথম নারী কূটনীতিক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি মিশর, সাইপ্রাস, পাপুয়া নিউ গিনি এবং পূর্ব তিমুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেন।

নিজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে নাসিম ফেরদৌস বলেন, ‘এখন যেমন নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে অনেক কথা বলা হয়, তখন তেমন কিছু ছিল না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে কিছু আলোচনা থাকলেও অনেক পুরুষ কর্মকর্তার মধ্যে একজন নারীকে গ্রহণ করার মানসিকতা তৈরি হয়নি। অনেকেই বলতেন, আপনি টিকতে পারবেন না, থাকবেন না।’

তিনি বলেন, ‘ফরেন সার্ভিসে নারীদের চাকরি এখন খুব কঠিনও বলা যাবে না, আবার খুব সহজও নয়। কিছু পরিবর্তন হয়েছে, গ্রহণযোগ্যতা কিছুটা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও অনেক ক্ষেত্রে নারীদের দাবিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায়।’

এদিকে নারী কূটনীতিকদের মধ্যে প্রথম সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ইসমত জাহান। নারীদের মধ্যে প্রথম এনডিসি কোর্স সম্পন্ন করেন মাজেদা রফিকুন্নেছা। আর নারী কূটনীতিকদের মধ্যে প্রথম কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শাহনাজ গাজী।