নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭ মার্চের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং শাহবাগ থানার সামনে মব সৃষ্টির অভিযোগে শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
তাদের মধ্যে অন্য দুজন হলেন চানখাঁরপুলে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় আটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আসিফ আহমেদ এবং অন্যজন হলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এর আগে শনিবার বিকেলে ৭ মার্চ উপলক্ষে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ প্রচারের কারণে আসিফ আহমেদকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। তাকে আটকের প্রতিবাদে এবং তাকে না ছাড়া পর্যন্ত শাহবাগ থানার সামনে ভাষণ প্রচার করতে যান শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি ও আল মামুন।
পরে তাদের শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন ঢাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের ও ঢাকসুর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী। তার আগে ঢাবি শিক্ষার্থীরাসহ বেশ কয়েকজন মিলে আবদুল্লাহ আল মামুনকে গণপিটুনি দেন।
আসিফকে ছাড়ার দাবিতে শাহবাগ থানার সামনে কর্মসূচি দেন ঢাবি শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি ও ডাকসু নির্বাচন ২০২৫ এ বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর প্যানেল ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’-এর ভিপি পদপ্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি। শাহবাগ থানার সামনে যখন রিকশায় মাইকে ভাষণ চালানো হচ্ছিল, তখন ইমির সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখার সহসম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের উপবিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক স্বপন রায় উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে ইমি তার ফেসবুকে লেখেন, ‘সোয়া ৯টার মধ্যে শাহবাগ থানার সামনে থাকতেছি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হবে। কার, কোন বাপ, কতজনকে আটকাইতে পারে দেখে নেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধপন্থী সবাইকে আসার অনুরোধ জানাই।’
এর আগে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘চাঁনখারপুল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে, তাকে না ছাড়া পর্যন্ত প্রত্যেকদিন ক্যাম্পাসে ৭ মার্চের ভাষণ বাজাইতে চাই। কে কে সাথে থাকবেন?’
আসিফকে আটকের বিষয়ে ডিএমপির রমনা জোনের ডিসি মো. মাসুদ আলম বলেছিলেন, আমরা জানতে পেরেছি আটক ব্যক্তি ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা। ছাত্রলীগ যেহেতু নিষিদ্ধ আর জুলাই আন্দোলনে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কিছু লিংক পেয়েছি। তাকে ছাড়া হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।